সর্বশেষ সংবাদ

চায়ের দোকানের খোঁজে গোবিন্দগঞ্জের গলি গলি

প্রচ্ছদ ছবিটি থানা মোড় চারমাথা মোড়ের মহিমাগঞ্জ রোডের প্রবেশমুখ থেকে বৃহস্পতিবার সাড়ে পাঁচটায় তোলা।

মোস্তফা কামাল সুমন: সারা বিশ্বে ভয়ানক আতংক ছড়িয়ে দিয়ে ক্ষুদ্র অনুজীব করোনা ভাইরাস (কবির-১৯)। দেশে দেশে দেখা দিয়েছে মহামারী। সোনার বাংলাদেশে এই অনুজীব তার খগড় মেলে ধরছে। জনবহুল এই দেশে ক্রমেই বাড়ছে করোনায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। দেশের সরকার সর্তকতামুলক ব্যবস্থা হিসেবে দশ দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে। সেই সাথে জন পরিবহন সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে লকডাউন ঘোষণা করেছে। সামাজিক মেলামেশা নিক্রিয় করতে সরকারের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে নানা উদ্যোগ।প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বুধবার জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে করোনার বিরুদ্ধে এই লড়াইকে যুদ্ধকালীণ অবস্থা হিসেবে ঘোষণা করেন। যুদ্ধকালীণ সময় যেমন নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য ও জীবন রক্ষাকারী ঔষুধ ছাড়া বাঁকি সমস্ত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকে তেমনি আগামী দশ দিন দেশের সবধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। এমন প্রেক্ষিতে গা্ইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের পৌর শহরের জীবনচরিত দেখতেই রুপক অর্থে “চায়ের দোকানের খোঁজে গোবিন্দগঞ্জের গলি গলি” এই লেখার সূত্রপাত।

বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে চারটা। পৌর শহরের টিএন্ডটি মোড় থেকে বের হয়ে একটি চায়ের দোকানের খোঁজে গোবিন্দগঞ্জের গলি গলি ঘোরা শুরু। প্রথমেই টার্গেট সারা দিনরাত খোলা থাকে এমন চায়ের দোকানের সন্ধান। থানা মোড় চারমাথায় বিভিন্ন রাস্তার মুখে দিবারাত্রি খোলা থাকা একটিও দোকান দেখা গেলো না।এরপর উদ্দেশ্য বাজার। সেখানে হয়তো খোলা থাকতে পারে। কিন্তু পুরো বাজার খুঁজেও একটি চায়ের দোকানের সন্ধান পেলাম না। এরপর মনে পড়লো চায়ের আড্ডার জন সবচেয়ে জনপ্রিয় এলাকা রাজমতি মার্কেট সংলগ্ন মোল্লার মোড় ও তৎসংলগ্ন এলাকা। সেই জায়গাতেও পেলাম না একটিও চায়ের দোকান।যত জায়গা ঘুরলাম স্বাভাবিক সময়ে এই বিশাল এলাকা জুড়ে কমপক্ষে ৫০টির বেশি চায়ের দোকান পাওয়া যেত। বিকাল সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত ঘুরে মনে প্রশ্ন জাগলো সত্যিই কি গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ পৌর শহরের মানুষের মাঝে করোনা ভীতি সৃষ্টি হয়েছে। তারা কি করোনা প্রতিরোধে সচেতন। নাকি তারা সরকারী সিদ্ধান্ত মানছে করোনা প্রতিরোধের পদক্ষেপ হিসেবে।যেটাই হোক সেই বিচারের সময় এখনো আসেনি।

মনে হলো এই চিত্র বুঝি পুরো গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার চিত্র।ভাবতে ভালোই লাগলো। কিন্তু তৎক্ষনাৎ নাকাই হাট থেকে এক বন্ধুর ফোন। ফোনেই  বন্ধুর প্রশ্ন, নাকাই হাটে কি পুলিশ বা সেনাবাহিনী আসবে। আরো বলতে লাগলো নাকাই হাটে তো উৎসব চলছে। যে যার মত করে বাজার হাটে আড্ডা দিচ্ছে। আমি তাকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করলাম, এই মাত্রই তো গোবিন্দগঞ্জ বাজারে পুলিশের নজরদারী দেখলাম। হয়তো তার নাকাই হাটেও যাবে। সেও আশ্বস্ত হলো এবং বললো, যেন একবারের জন্য হলেও পুলিশ বা সেনাবাহিনী নাকাই আসে।

বিশ্বাস করার চেষ্টা করছি, সারা বিশ্বের ন্যায় গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মানুষ করোনা ভাইরাস প্রতিরাধে সচেতন। তারা হাঁসি কাশির স্বাভাবিক শিষ্টাচার মেনে চলবে। সরকারের সিন্ধান্ত মেনে মাত্র দশ দিন ঘর থেকে বের হবে না। আর তাতেই ভাল থাকবে সমাজ দেশ বিশ্ব। সকলের সুস্থতা কামনা করছি।

Comments

comments

Leave a Reply