সর্বশেষ সংবাদ

ধামইরহাটে মঙ্গলখাল পুন:খনন করায় কৃষকরা সুফল পেতে শুরু করেছে

মো.হারুন আল রশীদ,ধামইরহাট (নওগাঁ) প্রতিনিধি:
নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলার ‘মঙ্গল খাল পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি লিমিডেট’ এর আওতায় টেইসই প্রকল্পের আওতায় এলজিইডি মাধ্যমে খাল পুন:খনন করা হয়েছে। খাল খনন হওয়ায় উপকৃত হচ্ছেন হাজারো কৃষক ও সমিতির সদস্যরা। পৌনে ১০ কিলোমিটারের মধ্যে ৪ কিলোমিটার খালটি খনন করা হলেও বাকী খালও খনন করার দাবী জানিয়েছেন সদস্যরা। তবে মঙ্গলখাল পুনঃখনন করায় হাজারো কৃষক সুফল পেতে শুরু করেছে।

জানা গেছে, ধামইরহাট পৌরসভার মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত মঙ্গলখাল। সর্বশেষ ২০০৪-০৫ সালে খালটি খনন করা হয়। এরপর দীর্ঘ কয়েক বছরে খালটি খনন না করায় পলিজমে ভরাট হয়ে যায়। এতে করে সামান্য পানিতেই খাল উপচে ফসলি জমি ও বাড়িঘর তলিয়ে যেতো। এই সমস্যা থেকে উত্তোরনের জন্য ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তর (এলজিইডি) থেকে ‘টেকসই ক্ষুদ্রকার পানি সম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় খনন কাজটি করে ‘ধামইরহাট মঙ্গলখাল পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি লিমিটেড। মঙ্গলখাল পৌণে ১০ কিলোমিটারের মধ্যে ১ কেটি ৭ লাখ টাকা ব্যয়ে উপজেলার ঘুকসি বিলের মঙ্গলকোঠা গ্রামের জিরো পয়েন্ট থেকে মালাহার গ্রামের পশ্চিম অঞ্চল পর্যন্ত ৪ কিলোমিটার পুনঃখনন করা হয়। খাল খনন হওয়ায় উপজেলার ধামইরহাট পৌরসভার উত্তর চকযদু, মঙ্গলকোঠা,উমার ইউনিয়নের অন্তর্গত তালঝাড়ি, বেয়াডাঙ্গাসহ কয়েকটি গ্রামের কয়েক হাজার কৃষক সুবিধা ভোগ করছেন।

মঙ্গলকোঠা গ্রামের সুবিধাভোগি আমজাদ হোসেন বলেন, দীর্ঘদিনে খালে পলি জমায় ভরাট হয়ে গেছে। এতে খাল থেকে পানি উপচে ফসল ডুবে যায়। এছাড়া বন্যায় বাড়িঘরও তলিয়ে যেতো। খাল খনন করায় এ সমস্যা আর নেই। খালের পানি ব্যবহার করে কৃষকরা
অনাবৃষ্টিতে আউশের ধান চাষ করেছে। উত্তর চকযদু গ্রামের কৃষক রমজান আলী বলেন,খালের পানি ব্যবহার করে বোরো ধানের চারা (বিছন) রোপন করা হয়েছিল। তাছাড়া এ পানি ব্যবহার করে রবি মওসুমে আলো,গম,সরিষা,পেঁয়াজ,রসুনসহ বিভিন্ন ধরণের শাকসবজি উৎপন্ন হচ্ছে। সুইচ গেট বন্ধ করে বর্ষা মওসুমে পানি সঞ্চয় করে রাখা হয়েছে। বর্তমানে এ পানিতে কৃষকরা ব্যবসায়ী ভিত্তিতে হাঁস পালন করছেন। জেলার সাপাহার উপজেলার জবাইবিল এলাকার খামারী মো.তরিকুল ইসলাম ২৩০টি হাঁস নিয়ে এ খালের পািেন ব্যবহার করছেন। কৃষক তরিকুল ইসলাম বলেন,খরা মওসুম শুরু হওয়ায় অন্যান্য অঞ্চল শুকিয়ে যাওয়ার তিনি হাঁসগুলো নিয়ে বিপাকে পড়েছিলেন। পরবর্তীতে এ খালের খবর পেয়ে তিনি হাঁসগুলো বর্তমানে এ পানিতে চাষ করছেন।

এ ব্যাপারে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে ধামইরহাট উপজেলা প্রকৌশলী মো. আলী হোসেন বলেন, মঙ্গলখাল পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির ৫২২ জন সদস্য রয়েছে। ২২ টি শ্রমিকবদ্ধ দল নির্বাহী প্রকৌশলীর সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়ে খালটি পুনঃখননে এক্সকেভেটর দিয়ে ৭০ শতাংশ এবং সুবিধাভোগী শ্রমিকদলদের দিয়ে ৩০ শতাংশ কাজ করা হয়েছে। খাল খননের ফলে ওই এলাকার কৃষির প্রসার ঘটিয়ে, মৎস্যচাষ ও হাঁস পালনসহ অন্যান্য সুবিধা নিশ্চিতভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে করে সমিতির সদস্যের আর্থসামাজিক উন্নয়ন ঘটছে। এছাড়া খালের বাকী অংশ পূণঃখননের জন্য নতুন করে বরাদ্দ আসলে সে অংশও খনন করা হবে।

Comments

comments

Leave a Reply