সর্বশেষ সংবাদ

সুন্দরগঞ্জে অধ্যক্ষসহ ২ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা

আরিফ উদ্দিন, স্টাফ রিপোর্টার, গাইবান্ধা থেকে: গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ধর্মপুর আব্দুল জব্বার ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ ছামিউল ইসলামসহ ২ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন একই কলেজের সাময়িক বরখাস্তকৃত প্রভাষক (অর্থনীতি) এহেতেশামুল হক ডাকুয়া।

জানা যায়, বিজ্ঞ আমলী আদালতে (সুন্দরগঞ্জ) ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বিশেষ ধারায় এ মামলা দায়ের করেছেন অর্থনীতি বিষয়ের প্রভাষক (সাময়িক বরখাস্তকৃত)। মামলার অন্যান্য আসামীরা হলেন- আবু জায়েদ খাঁন ও আবু বক্কর সিদ্দিক। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, ২টি গণমাধ্যমে (অনলাইন) প্রকাশিত সংবাদ ও উক্ত সংবাদ শেয়ার করায় এ মামলা দায়ের করেন তিনি। মামলার বাদীকে মোবাইলফোনে শুক্রবার বিকেল (৪টা ২০ থেকে ২৩ মি:) গণমাধ্যমে প্রকাশিত ২টি নিউজ ও ১টি ছবি প্রকাশিত হয়েছে। ছবির নিচে ক্যাপশন লেখা ছিল- ‘সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা): ধর্মপুর আঃ জব্বার ডিগ্রী কলেজের প্রভাষক এহেতেশামুল হক ডাকুয়া’। কিন্তু, সম্পূর্ণরূপে প্রকাশিত নিউজ ও ক্যাপশন সম্বলিত ছবি প্রদর্শণ না করে বিকৃতাকারে ছবি ও অন্য সংবাদের শিরোনাম প্রদর্শণ করে ২জন সাংবাদিকের নাম উল্লেখ পূর্বক প্রকৃত ও সংশ্লিষ্ট তথ্য গোপন করে হয়রানী করার লক্ষ্যে এ মামলা দায়ের করেছেন’। এমন প্রশ্নের জবাবে বরখাস্তকৃত প্রভাষক ও মামলার বাদী এহেতেশামুল হক ডাকুয়া বলেন- “আমি তো মামলার বাদী, এ জবাবগুলো কোর্টে হবে”। মামলার প্রধান স্বাক্ষী উক্ত কলেজের ইংরেজী বিষয়ের প্রভাষক ও ধর্মপুর মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ সুহেল আলম বলেন- রেজা আমাকে মামলার স্বাক্ষীর কথা বলেছিল, আমি বলেছিলাম- না। পরে দেখি মামলা হয়েছে, প্রিন্সিপালের সাথে ও’র মামলা চলছে তো; সেই জন্য হয়তো এই মামলা হইছে (প্রভাষক এহেতেশামুল হক ডাকুয়া স্থানীয়ভাবে রেজা নামে পরিচিত’)।

ধর্মপুর আঃ জব্বার ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ ছামিউল ইসলাম জানান, অর্থনীতি বিষয়ের প্রভাষক এহেতেশামুল হক ডাকুয়া’র বিরুদ্ধে চেক ডিজ-অনার ও স্বাক্ষর জালিয়াতিমূলক কর্মকাÐের ফলে পৃথক ২টি মামলা করেছি। সে মামলায় তদন্তে অভিযোগ যথাযথভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তদন্তকারী কর্মকর্তাগণ বিজ্ঞ আদালতে চার্জশীট দাখিল করেছেন। এসব মামলায় তিনি প্রায় ২ মাস জেল হাজত খেটেছেন। মামলা ২টি বিজ্ঞ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। এরই জের ধরে প্রভাষক আমাকে নানাভাবে হয়রানী করার জন্য অপতৎপরতা চালিয়ে আসছেন। একপর্যায়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে আমাকেসহ ২ জন সাংবাদিককে জড়িয়ে বিজ্ঞ আদালতে মামলা করেছেন মর্মে বলে বিভিন্ন লোক মুখে শুনতে পাচ্ছি। এরআগে কলেজের গভর্নিং বডির সিদ্ধান্তমতে অর্থনীতি বিভাগের প্রভাষক এহেতেশামুল হক ডাকুয়াকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এসব ঘটনায় ইতোপূর্বে একাধিকবার বিভিন্ন গণমাধ্যমে পৃথক পৃথক শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে প্রভাষক এ মামলা করতে পারেন বলে আমার মনে হয়। মূলতঃ ‘সুন্দরগঞ্জে স্বাক্ষর জালিয়াতির মামলায় প্রভাষকের জামিন না-মুঞ্জুর’- শীর্ষক শিরোনামে একটি সংবাদ সম্বলিত তাঁর ছবি প্রকাশিত হয়েছে। ছবির নিচে ক্যাপশন লেখা ছিল- ‘সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা): ধর্মপুর আঃ জব্বার ডিগ্রী কলেজের প্রভাষক এহেতেশামুল হক ডাকুয়া’। কিন্তু, তা তিনি মামলায় প্রদর্শণ না করে গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যচিত্রকে বিকৃত আকারে প্রদর্শণ পূর্বক হয়রানী মূলক এ মিথ্যা মামলা করে বাদী নিজেই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বিশেষ ধারার আপরাধ করেছেন। আমি সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মাননীয় বিচার বিভাগের সু-দৃষ্টি কামনা করছি।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ২৩ নভেম্বর প্রভাষক এহেতেশামুল হক ডাকুয়াকে কলেজের গভর্ণিং বডি সাময়িক বরখাস্ত করলে ৯ মাসের স্থগিতকৃত বেতনাদি উত্তোলনের জন্য বিশেষ কৌশলে কলেজের প্যাড, অধ্যক্ষের সীল, স্বাক্ষর জালিয়াতি করে ব্যাংক থেকে ১ লাখ ৩৩ হাজার ৫’শ ৭৪ টাকা উত্তোলণ করে আত্মসাৎ ও চেক ডিজ-অনারের দায়ে অধ্যক্ষ সামিউল ইসলাম পৃথক ২টি মামলা দায়ের করেছেন বলে জানা গেছে।

Comments

comments