সর্বশেষ সংবাদ

বিতর্কিত সেই পিআইও নুরুন্নবীর স্বদ্বীপেই বদলির আদেশ বহাল

আরিফ উদ্দিন, স্টাফ রিপোর্টার, গাইবান্ধা থেকে: গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের দুর্নীতিবাজ বিতর্কিত সেই প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) নুরুন্নবী সরকারের বদলিতে চ্যালেঞ্জ করা হাইকোর্টের রিট স্থগিত রেখে অধিদপ্তরের বদলির আদেশেই বহাল রেখেছেন সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার আদালত। এতে বদলি করা কর্মস্থল চট্রগ্রামের স›দ্বীপ উপজেলাতে যোগদান করতে হবে নুরুন্নবী সরকারকে।
সোমবার  দুপুরে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ আদালত এই আদেশ দেন। গত ৫ জানুযারী নুরুন্নবী সরকারের হাইকোর্টের দেওয়া বদলি স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে আপিল আবেদনের প্রেক্ষিতে শুনানীন্তে এই আদেশ দেয়া হয়। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে আপিল আবেদনের শুনানী করেন রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, ‘পিআইও নুরুন্নবীর বদলিতে হাইকোর্টের রিট আদেশ স্থগিত সংক্রান্ত বিষয়টি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির আদালতে শুনানী অনুষ্ঠিত হয়। শুনানীতে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশ স্থগিত এবং অধিদপ্তরের বদলির আদেশকে বহালের আদেশ দেয় আদালত। এরফলে বদলির আদেশ অনুযায়ী নতুন কর্মস্থল স›দ্বীপে যোগদান করা ছাড়া অন্য কোন উপায় থাকবে না নুরুন্নবীর’।

এদিকে, পিআইও’র বদলি বহালের খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে সন্তোষ প্রকাশ করে মিষ্টি বিতরণ ও আনন্দ মিছিল করেছেন স্থানীয়রা। নুরুন্নবীর দুর্নীতি কর্মকান্ডে অপসারণ ও শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ-সমাবেশ, মানববন্ধন, ঝাড়– মিছিল ও কুশপুত্তলিকা দাহসহ লাগাতার কর্মসূচি পালন করে জাতীয় পার্টিসহ স্থানীয় ভুক্তভোগী মানুষ। দুর্নীতিবাজ নুরুন্নবীর দ্রুত বদলির আদেশ কার্যকর ও সুন্দরগঞ্জে একজন দক্ষ পিআইও’র পদায়নের দাবি জানান স্থানীয়রা।
প্রসঙ্গত : দুর্নীতির অভিযোগে গত ২৮ সেপ্টেম্বর নুরুন্নবীকে চট্রগ্রামের স›দ্বীপে বদলির আদেশ দেয় মন্ত্রণালয়। সেই বদলির আদেশ চ্যালেঞ্জ করে গত ৩ ডিসেম্বর হাইকোর্টে (১৩০৫৭/১৯) রিট পিটিশিন দায়ের করেন নুরুন্নবী। পরে স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব শাহ্ কালামসহ চেম্বার আদালতে পৃথক দুটি আপিল (১৫/২০) আবেদন করা হয়। আবেদন মঞ্জুর করে ২৪ ফেব্রুয়ারী পুর্ণাঙ্গ শুনানীর দিন ধার্য করেন চেম্বার আদালত।
২০১৫ সালে সুন্দরগঞ্জে যোগদানের পর ঘুষ-দুর্নীতির অভিযোগে দুদকেরসহ পাঁচটি মামলা হয় নুরুন্নবীর বিরুদ্ধে। দুর্নীতিতে সিন্ডিকেট ও আস্থাভাজন লোকজনের মাধ্যমে উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগের প্রমাণসহ তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করে একাধিক প্রতিবেদন দাখিল করে দুদকসহ ও স্থানীয় প্রশাসনের তদন্ত কমিটি। কিন্তু অদৃশ্য কারণে তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থাই গ্রহণ করেনি মন্ত্রণালয়। ফলে দুর্নীতিতে বেসামাল নুরুন্নবী ক্ষমতা ও প্রভাব বিস্তারে বহাল তবিয়তে নানা অপ্রতিকর ঘটনার জন্ম দিচ্ছে। এরআগে, দুর্নীতির একাধিক প্রতিবেদন প্রচারে যমুনা টেলিভিশন ও কালের কণ্ঠসহ ১২ গণমাধ্যম-মানবাধিকারকর্মীর বিরুদ্ধে গত ১৬ অক্টোবর মানহানীর অভিযোগে রংপুর আদালতে দুটি মামলা করেন তিনি।

Comments

comments