সর্বশেষ সংবাদ

শিক্ষকের দোকান থেকে খাবার খেয়ে অসুস্থ ২৫ শিক্ষার্থী

 

মোঃ মামুন হোসেন,সাতক্ষীরা প্রতিনিধিঃ তালা উপজেলার নগরঘাটা বোর্ড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২০ জন শিক্ষার্থী ভেজাল ও মেয়াদ উত্তীর্ণ খাবার খেয়ে অসুস্থ্য হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সরেজমিনে জানা যায়, ১৭ই ফেব্রুয়ারী নগরঘাটা বোর্ড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পূর্বপাশে অবস্থিত নগরঘাটা আমিনিয়া আলীম মাদ্রাসার শিক্ষক মো. আজিজুর রহমান ওরফে আইজুর হুজুরের দোকান থেকে প্রতিদিনের ন্যায় বিভিন্ন রকমের খাবার ক্রয় করে স্কুলের শিক্ষার্থীরা। স্কুল চলাকালীন সময়ে কিছু শিক্ষার্থী অসুস্থতা বোধ করে। স্কুল ছুটি শেষে বাড়ি ফিরে একে একে ২৫ জন শিক্ষার্থীর কারো ১৯/২০ বার বমি, কারো বা বমির সাথে জ্বর হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে ।

প্রাপ্ত তথ্যে জানাযায়, ব্যবসায়ী আজিজুর হুজুর নগরঘাটা আমিনিয়া আলিম মাদ্রাসার একজন শিক্ষক। গত কয়েক মাস আগে তার স্ত্রী স্বপ্নে পেয়ে জ্বিন হাজির করার মাধ্যমে ঝাড়-ফুক দিতেন অভিযোগ পেয়ে তার সাথে আলাপকালে তিনি এই ধরণের ঝাড়-ফুক দিয়ে মানুষকে আর ঠকাবেননা বলে অঙ্গিকার করেন স্থানীয় এক সাংবাদিকের কাছে।

এ ব্যপারে জানতে চাইলে আজিজুর হুজুর বলেন, গত এক বছর যাবত তিনি বই বিক্রির পাশাপাশি এই ধরণের ভেজাল খাবার বিক্রি করে যাচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্স আছে। মেয়াদ উত্তীর্ণ ও নিম্নমানের খাবারের জন্য স্থানীয় সরকার ট্রেড লাইসেন্স দেয় কিনা প্রশ্ন করতেই তিনি আশপাশের একাধিক ব্যবসায়ী ও উপস্থিত জনসাধারণের রোসানলে পড়ে যান। ঘটনা জানাজানির পর থেকে দোকান বন্ধ পাওয়া যায় তার।

অভিভাবকরা জানান, ছেলে-মেয়েগুলো উক্ত দোকান থেকে চাটনি, চিপস ও নামে-বেনামে কোম্পানির মুখোরোচক খাবার খাওয়ার কিছুক্ষণ পরে অসুস্থ্য হয়ে পড়ে। সেই সাথে বিদ্যালয়ে সদ্য উদ্বোধন হওয়া সততা স্টোর নিয়েও প্রশ্ন তোলে কয়েকজন অভিভাবক। তাদের প্রশ্ন সততা স্টোরে খাতা-কলমের পাশাপাশি বিস্কু, চানাচুর ও অন্যান্য খাবার রাখেন উক্ত স্কুলের শিক্ষকরা। তাহলে শিক্ষার্থীরা বাইরের খোলা পরিবেশের মেয়াদ উত্তীর্ণ খাবার খেতো না। শিক্ষকমন্ডলী গন আরো বেশি সতর্ক থাকলে এমন ঘটনা ঘটতো বলে মনে হয় না। সি সাথে বইয়ের দোকানে যেন খাদ্য-দ্রব্য বিক্রয় না করতে পারে সেই ব্যবস্থা গ্রহনণের জন্য বাজার কমিটিকে মৌখিকভাবে বলেন।

এ ঘটনায় প্রধান শিক্ষক আব্দুস সাত্তার বলেন, সততা স্টোরে মূলত খাতা-কলম ওক কথায় স্কুল সামগ্রী রখার নিয়ম থাকলেও কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সাস্থের দিক বিবেচনা করে আমরা কিছু খাবার রেখেছিলাম। ৫/৬ দিন যাবত আমার তালায় ট্রেনিং চলায় সততা স্টোরের দিকে নজর দিতে পারিনি। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা যেন না ঘটে সেদিকে আমাদের সকলের খেয়াল থাকবে। পাশাপাশি আমি এবং স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বর আঃ করিম বিশ্বাস মাস দুয়েক আগে ঐ ব্যবসায়ীকে এই ধরণের নিম্মমানের খাবার বিক্রি থেকে বিরত থাকার জন্য বলি। কিন্তু তিনি আমাদের কথার কোন মূল্যই দেননি। বিষয়টি ম্যানেজিং কমিটিকে অবহিত করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে ম্যানেজিং কমিটি ও বাজার কমিটির সভাপতি মোঃ সাইদুল আলম বাবলু বলেন, শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং অভিভাবকদের পরামর্শ দিয়েছি পরবর্তীতে কোন সমস্যা হলে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য। সেই সাথে শিক্ষার্থীদের হাতে মেয়াদ উত্তীর্ণ খাবার কেন বিক্রয়ের সার্থে তুলে দিল সেটার জবাবদিহিতা করা হবে এবং ১৯ ফেব্রুয়ারী সকালে স্কুলে ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে জরুরি সতর্কতা অবলম্বনের জন্য এক আলোচনাসভা করা হয়।

এ ব্যাপারে নগরঘাটা ইউপি চেয়ারম্যান মো. কামরুজ্জামান লিপু জানান, বিষয়টি আমি শুনেছি। সাথে সাথে উক্ত স্কুলের অসুস্থ শিক্ষার্থীদের খোঁজ-খবর নিয়েছি।

Comments

comments