সর্বশেষ সংবাদ

সুন্দরগঞ্জে দ্বিতীয় উপজেলা বাস্তবায়নের আদেশ

আরিফ উদ্দিন, স্টাফ রিপোর্টার গাইবান্ধা থেকে:
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলাকে বিভক্ত করে পূর্বাঞ্চলের ৮টি ইউনিয়ন নিয়ে দ্বিতীয় আরেকটি উপজেলা গঠনের মতামতসহ প্রতিবেদন প্রেরণের আদেশ দিয়েছেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের (স্থানীয় সরকার বিভাগের) উপ-সচিব নুমেরী জামান।

জানা যায়, গত ১৩ ফেব্রুয়ারী নতুন উপজেলা গঠনের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-সচিব এ সংক্রান্ত মতামতসহ প্রতিবেদন চেয়ে জেলা প্রশাসক (গাইবান্ধা) বরাবরে আদেশক্রমেপত্র প্রেরণ করেন। যার স্মারক নং- ৪৬.০৪৬.০১৮.০০.০০.১০৮.২০১৬-২১৭। ২৯ গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য’র আধা-সরকারী পত্র নং- ১১/১৯ এর স্মারক সুত্রে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ গত ২৪ অক্টোবর ২০০৪ তারিখের ১৮৫ নং স্মারক মোতাবেক মজুমদারহাট নামক স্থানে নতুন উপজেলা গঠনে মতামতসহ প্রতিবেদন প্রেরণের নিদের্শক্রমে অনুরোধ করেন।

জেলার বৃহত্তম উপজেলা হিসেবে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার অবস্থান প্রথম। ১৫টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত এ উপজেলার জনসংখ্যা প্রায় ৮ লাখ। এর পশ্চিম ও উত্তরে রংপুরের মিঠাপুকুর, পীরগঞ্জ, পীরগাছা, উত্তর ও পূর্বে লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, পূর্ব ও দক্ষিণে জামালপুর, ময়মুনসিংহ জেলার কয়েকটি উপজেলা ছাড়াও দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব দিকে গাইবান্ধা জেলা সদর উপজেলার সীমানা রয়েছে। তাছাড়া তিস্তা, বহ্মপুত্র নদ বেষ্টিত তারাপুর, বেলকা, শান্তিরাম, হরিপুর, কঞ্চিবাড়ি, শ্রীপুর, চন্ডিপুর ও কাপাসিয়া ইউনিয়নের বিশাল জনবসতিপূর্ণ পাড়া-গ্রামগুলোর জনসাধারণের প্রশাসনিক বিভিন্ন কাজে জটিলতায় ভোগান্তির লাঘব ঘটাতে এ উপজেলার পরিসীমা তথা পূর্বাঞ্চলে আরেকটি (দ্বিতীয়) উপজেলা গঠনের জন্য প্রথমত শোভাগঞ্জকে চিহ্নিত করা হয়। এরপর কঞ্চিবাড়িতে প্রতিষ্ঠিত হয় একটি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র। এরপর, প্রস্তাবনায় উঠে আসে ধর্মপুর ও মজুমদার হাট। সম্প্রতি মজুমদার হাট নতুন উপজেলা গঠনের লক্ষ্যে আদেশের প্রেক্ষিতে শোভাগঞ্জ, কঞ্চিবাড়ি, পাঁচপীরসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ জনসংযোগস্থলকে সামনে নিয়ে স্ব-স্ব স্থানের জনতার মাঝে দ্বিতীয় উপজেলা গঠনের লক্ষ্যে মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচীর মাধ্যমে দাবি পেশ করা অব্যাহত থাকে। এসব জনসংযোগস্থলের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্য উপকেন্দ্র, বিভিন্ন বেসরকারী, আধাসরকারী, সায়ত্ব-শাসিত প্রতিষ্ঠিান, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, সরকারী খাস খতিয়ানভ‚ক্ত জায়গা-জমির ক্ষেত্রে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বৃহত্তম গণসংযোগ বা হাট-বাজার হিসেবে বিবেচিত শোভাগঞ্জে দ্বিতীয় উপজেলা গঠনের লক্ষ্যে ইতোঃপূর্বে কয়েকদফা শোভাগঞ্জের নাম উত্থাপণ হলেও ইতোঃপূর্বের নির্বাচিত এক জনপ্রতিনিধির স্থানীয় টানের ক্ষেত্রে শোভাগঞ্জ’র স্থলে কঞ্চিবাড়িতে পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র স্থাপন হয়। শোভাগঞ্জ হাট ভেধে চলে যাওয়া আঞ্চলিক মহাসড়ক, বর্ষাকালে মরুয়াদহ বিলে নৌ যোগাযোগ ব্যবস্থাও বিদ্যমান। তাছাড়া বাজার ও উক্ত বিলে বিপুল পরিমাণ খাস-খতিয়ানের জায়গা জমিও রয়েছে। সবমিলে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার পূর্বাঞ্চলে আরেকটি (দ্বিতীয়) উপজেলা গঠন করা হলে প্রশাসনিকভাবে নাগরিক সুবিধা সুদৃঢ় হবে বলে সচেতন মহল মনে করেন।

Comments

comments