সর্বশেষ সংবাদ

ক্ষণগণনা ভাঙচুরে দায়ী সেই বিতর্কিত পিআইও নুরুন্নবী ; ঝাড়ু মিছিলে হামলার মদদেও তিনি! 

জিল্লুর রহমান পলাশ, গাইবান্ধা থেকে :
অনেকেই বলছেন, দুর্নীতি ঢাকতে-নিজেকে বাঁচাতে, ক্ষমতার বলয়ে যে উত্থান তা আঁকড়ে থাকতেই সুপরিকল্পিত ও অশুভ পরিকল্পনার ফাঁদ-কৌশলে মরিয়া হয়ে উঠেছেন পিআইও নুরুন্নবী! তাই দুর্নীতি-অপকর্মের বিরুদ্ধে আন্দোলন-প্রতিবাদের শ্বাসরোধ, প্রকাশের স্বাধীনতা ধ্বংস আর নিজের অস্তিত্ব রক্ষায় সাম্প্রতিক সময়ের অপ্রীতিকর-অস্বস্তি-খারাপ পরিস্থিতি নুরুন্নবী সরকারেই সৃষ্টি করছে, বলছেন স্থানীয়রা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা।
তাদের দাবি, দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও অপসারণসহ শাস্তির দাবিতে আন্দোলন চলছে, তার বিরুদ্ধে আন্দোলনের ফলেই হামলা-ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। দুর্নীতি-অপকর্ম করেও বহাল তিনি। দাপ্তরিক আদেশ-নির্দেশ ও উচ্চ আদালতের আদেশ অমান্য এবং কাউকে তোয়াক্কা না করে তিনি সুন্দরগঞ্জ আঁকড়ে আছেন। দুর্নীতির দায়ে বদলির পরেও কেন সুন্দরগঞ্জে থাকতে হবে। দাপট-ক্ষমতায় নির্লজ্য বেহায়া, মানসম্মান হারিয়েও পদ আঁকড়ে থাকার যে লোভ তা জনগণ চায় না। তারপরেও চ্যালেঞ্জে সেই ক্ষমতাই বারবার দেখাচ্ছেন। ফলে বাধ্য হয়েই জনগণ ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিহত করতেই আন্দোলনের ডাক দেয়।
ঘটনাস্থলে একজন সংবাদকর্মী এবং প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবেও ঘটনার শুরু শেষ দেখেছি ; যা ঘটেছে তার পুরো ভিডিও সংরক্ষিত আছে। তাই উদ্দেশ্যে কিংবা কারো বিরুদ্ধে নয়- মুলত নিজের চিন্তা-বিশ্লেষণে একান্ত মন্তব্যই এই লেখা।
ঝাড়ু হাতে পুলিশের উপস্থিতে মিছিল ঢোকে পরিষদ চত্তরে অথচ পুলিশ তাদের বাঁধা দেয়নি ; বিক্ষুদ্ধ নেতাকর্মীদের শ্লোগানে উত্তাপ-উত্তেজনা বাড়লেও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের ভুমিকা ছিল নীর্বিকার? নিরাপত্তা-পদক্ষেপের গাফিলতিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের ভুমিকায় ব্যর্থতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে, তার দায় কে নেবে? এছাড়া ঘটনায় তাৎক্ষণিক পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ছড়ালো অথচ এই পরিস্থিতিতে পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষে কোন বিবৃতি নেই? ইউএনও ছোলায়মান আলী ঘটনার সময় নিশ্চয় পরিষদ চত্তরেই ছিলেন, ভাঙচুর-হামলার সময়েও তাকে দেখা যায়নি ঘটনাস্থলে, কিন্তু কেন?
অথচ মিছিল প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে দায়িত্ব ছিল কোন আশ্বাস কিংবা বাস্তব দৃশ্যে উচ্চ আদালতের শুনানীর অপেক্ষার বিষয় অবগত করা। কিন্তু বরাবরে দায়-দায়িত্ব এড়িয়ে যাচ্ছেন তা স্পষ্ট। তবে হামলা-মামলাসহ যত ঘটনা ঘটেছে তা কেন, কি কারণে, এসবের কি পদক্ষেপ? তার জবাবের জন্য হয়তো অনেককে উচ্চ আদালত তলব করতে পারেন। যেহেতু অভিযুক্ত পিআইও নুরুন্নবী নিজেই হাইকোর্ট দেখিয়েছেন একারণে পর্যায়ক্রমে আরও অনেক বিষয়-অবস্থার সৃষ্টি হতে পারে বলেও আশষ্কা রয়েছে। কারণ মামলা-প্রতিবাদ-বিক্ষোভ সমাবেশ আর ঘটনাক্রমেই দ্বন্দ্ব-কোন্দলে সুন্দরগঞ্জের
সার্বিক পরিস্থিতি এখন উত্তাপ্ত?
শুধু তাই নয়, পিআইও’র পক্ষে আশ্রয়-প্রশ্রয়ে পিছন থেকে ইন্দোন-মদদপুষ্ট যারা তাদেরও ঘটনার দায় এড়ানোর সুযোগ নেই? পাশাপাশি দুর্নীতির বিরুদ্ধে যখন সোচ্চার ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগ। ঠিক তখন দুর্নীতি-লুটপাটের নানা ঘটনায় জড়িতের অভিযোগ দৃশ্যত হলেও দুর্নীতিবাজের শিকড় উপড়ে না ফেলে উল্টো তার পক্ষেই সাফাই এ ক্ষমতাসীন দলের অনেক নেতাকেই দায়ী করছেন দলের নেতাকর্মীরাই। তারা বলছেন, দলীয় নয় ব্যক্তি স্বার্থ উদ্ধারে তাদের অনেক নেতা পরিচয়ে পকেট ভর্তি টাকা আর সুযোগ-সুবিধার আশায় পিআইও’র পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তবে ব্যক্তিগত প্রশ্ন রইলো এমন নেতাদের কাছে ; মুজিব শতবর্ষের ক্ষণগণনা ভাঙচুরে আপনাদের চেতনা জাগ্রত হয়েছে তবে দুর্নীতিবাজের পক্ষে বিবেগ কতটুকু জাগ্রত আপনাদের ; দুর্নীতিতে অভিযুক্ত পিআইও নুরুন্নবীর বিরুদ্ধে অবস্থান না নিয়ে তার পক্ষে থাকা কতটা যৌক্তিক?
তাছাড়া দুর্নীতি-লুটপাটে আলোচিত পিআইও যখন গণমাধ্যমের শিরোনাম। সঙ্গে সুন্দরগঞ্জের উন্নয়ন প্রকল্পে নয়ছয়-লুটপাটের খবর ছড়িয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা আর ভাবমূর্তি ক্ষুন্নের সৃষ্টি হয়। তখন সেই খবরে জেনে উদ্বিগ্ন হয়ে দুর্নীতিবাজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার আশ্বাস দেন স্থানীয় সংসদ সদস্য। গণমাধ্যমে কয়েক দফা আশ্বাসের বানী শোনালেও বাস্তবে কি পদক্ষেপ নিয়েছেন তা প্রশ্ন থেকে যায়? ব্যারিষ্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী জাপার সংসদ সদস্য। কোন দুর্নীতির অভিযোগ, অন্য কোন বিষয়ে কোন কর্মকর্তাকে বদলি এবং শাস্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে একজন এমপি যথেষ্ট।
এলাকার এমপি তিনি টেলিফোন কিংবা ডিও লেটারে অনেক সমস্যা-প্রতিকার-সমাধান করতে পারেন। কিন্তু তিনি হয়তো কোন ব্যবস্থাই নিতে পারেননি বলেই দলীয় নেতাকর্মীদের দিয়ে আন্দোলন শুরু করেন। একজন এমপি, তার দলের লোক দুর্নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়ে হামলার শিকার, ঘটনা যা ঘটেছে তা পাল্টিয়ে তাদের বিরুদ্ধেই মামলা হলো, গ্রেফতারের ভয়ে এখন নেতাকর্মী শুন্য ; এমন ঘটনা সত্যিই লজ্জার! এছাড়া এই ঘটনায় যেখানে ওসি, ইউএনওসহ প্রশাসনিক কর্মকর্তা এমপির চাপ আর জবাবদিহীতায় জি স্যার জি স্যার করবেন কিন্তু সেখানে পরিস্থিতি যে ব্যতিক্রম তাও দৃশ্যত। পাশাপাশি হামলা-মামলায় যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তাদের দায় এমনকি পিআইও বহাল থাকলে তার সঙ্গে যোগসুত্রের দায়ও নিতে হবে এমপি মহোদয়কে?
এতো অভিযোগ-দুর্নীতি প্রমাণ তবুও ব্যবস্থা নেই পিআইও’র বিরুদ্ধে। উল্টো একের পর এক ঘটনা, ম্যানেজ-সুবিধায় বিভাজন সৃষ্টি, মামলা-হামলা আর নানা কর্মকাণ্ডে ‘অভূতপূর্ব চমক’ দিয়ে বিতর্কে মোড় ঘোরানোর আলোচনার শীর্ষে তিনি! অথচ সংবাদ প্রকাশে নাকি সম্মান হারিয়েছে, বিক্ষুদ্ধ জনতা প্রতীকী কুশপুত্তলিকা দাহ করেছে, ঝাড়ু দিয়ে তাড়িয়েছে, দুর্নীতিবাজ উল্লেখ করে বিক্ষোভে মিছিলে দুই গালে তালে তালে জুতা পেটা করেছে ; কিন্তু তাতে কি বরং দাপট-প্রভাবে বর্তমানে এসব ঘটনাতেই ‘শীর্ষস্তরের ক্ষমতাধর’ হিসেবে সুন্দরগঞ্জ তথা গাইবান্ধা জেলা ছাড়াও পরিচিতি বাড়ছে দেশজুড়েই!
যমুনা টেলিভিশনে ৫ বছরে দুর্নীতির রাজত্বের প্রতিবেদন প্রচারে নুরুন্নবী সরকারকে ২৮ সেপ্টেম্বর স্বন্দ্বীপে বদলির আদেশ দেয় দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রনালয়। যোগদান না করায় স্ট্যান্ড রিলিজের পরেও উল্টো বদলির কারণ জানতে অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সাতজনের নামে উকিল নোটিশ এবং ১২ গণমাধ্যমকর্মী বিরুদ্ধে মানহানির অভিযোগে মামলা এবং বদলি ঠেকাতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সীল স্বাক্ষর জালিয়াতি করে ভুয়া সুপারিশ তৈরী করে আলোচনার জন্ম দেন পিআইও নুরুন্নবী।
তবে দেখার অপেক্ষা ; হামলা-ভাঙচুর-মামলা, পাল্টাপাল্টি অভিযোগ আর পরিবেশ-পরিস্থিতিতে কি ঘটে ফলশ্রুতি আর প্রতিফলন? প্রকৃত সত্য উদঘাটন, দায়ীদের চিহ্নিত এবং মুল অভিযুক্তের শাস্তি নিশ্চিত সঙ্গে সুন্দরগঞ্জের পরিস্থিতি ও দ্বন্দ-বিভাজন দ্রুত নিরসন হোক এই প্রত্যাশা করি।

Comments

comments

Leave a Reply