সর্বশেষ সংবাদ

মানুষের অমানবিক ধৃষ্টতায় রোগাক্রান্ত কুলিক নদী

সফিকুল ইসলাম শিল্পী রাণীশংকৈল , ঠাকুরগাঁও থেকে:
মানুষের মানবতাই চাপা পড়েছে অমানবিক ধৃষ্টতায়। চাপা পড়ে গিয়েছে কোমল হৃদয়ের যত ভালো দিকগুলো। নদী দখল-বেদখলের খেলায় আজকের সুবিধাবাদী সমাজের মানুষগুলো। সরকারি জমি দখলের হলি খেলায় মাতোয়ারা থেকেছে সমাজের কিছু লোক । এই একধরনের লোক গুলো একসময় হাত বাড়ালো নদীর দিকে। প্রথমেই নদীর তীরগুলো দখলে নেবার চেষ্টা। এর পর পাড়ের একটু একটু করে দখল। তারপর আবার নদীর ভিতরের দিকে আগমন। একসময় জিহবায় রস জমিয়ে নদীর মধ্যবুকেও বসবাস শুরু করে। ঠিক এমনই পরিস্থিতির শিকার হয়েছে ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলের কুলিক নদীটির। এ উপজেলায় রাজা টংকনাথের রাজবাড়ির পশ্চিম পাশে কুলিক নদীটি আধামরা হয়ে বহমান রয়েছে। কোথাও কোথাও শুকনো বালু আর নদীর অনিশ্চিত হাটু পানি প্রমান করে আজ সে রোগাক্রানাত জড়াজীর্ন এক কুলিক নদী।বিশেষ করে দেখা যায় বড় পুল (ব্রীজ) এর দু’ পাশ তাকালে। শুকনো কুলিকের পানি আটকিয়ে স্বাভাবিক গতি থামিয়ে অনেকের ধান চাষ করার ফলে কোথাও দেখা যায় ধুধু বালু । সে কারনে প্রতি বছর কুলিক হারায় তার নাব্যতা।

প্রভাবশালী এই নদীগুলোর দু’পাশ নিজেদের আয়তে¦ ধান, বীজ রোপন করে এমনকি বাসযোগ্য করে রেখেছে নদী ভরাট করে। তীর ঘেঁষে গড়ে উঠেছে পাকা-আধাপাকা, স্থায়ী-অস্থায়ী, নানা ধরনের স্থাপনা। সিএস রেকর্ড অনুযায়ী নদীর অংশ থাকলেও আজ তা মানুষের তৈরি ব্যস্ততম শহরের অংশবিশেষ। নদীর নাব্যতা, নদীর চলমান গতি, নদীর সীমানা কোনোটার কোনো মূল্যই নেই এই দখলকারী মানুষ নামের সামাজিক প্রভাবশালী গোষ্ঠীর কাছে। অবৈধ স্থাপনা , অবৈধ দখলকারীর সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিচয় কী এসব কিছু যদি পরিহার করা যায়, তবেই নদীকে তার জীবন ফিরিয়ে দেওয়ার কাজটি বাস্তবায়িত হতে পারে বলে মনে করেন সমাজের সচেতন মহল। এখানকার সচেতন মানুষ মনে করে কুলিক নদীর নাব্যতা ফেরাতে ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে প্রকল্প হাতে নিয়ে সরকারের সম্পদ রক্ষা করা প্রয়োজন। নদী বাঁচলে জীবন বাঁচবে, জীবন বাঁচলে সমাজ ও প্রকৃতি বাঁচবে। কারণ, ‘সময় ও স্রত কারো জন্য অপেক্ষা করে না’। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড ,ঠাকুরগাও জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম জানান, ‘ কুলিক নদীটির প্রকল্প লিষ্টে দেওয়া আছে এরং ওটার সার্ভে করা আছে। আশা করছি পাশ হলে খননও হবে, উচ্ছেদও হবে’।

Comments

comments