সর্বশেষ সংবাদ

ঢাকা সিটি নির্বাচন ভোটের প্রচার-প্রচারণার শেষ দিন

মির-হোসেন সরকার : ঢাকা দুই সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন টানা ২১ দিনের বিরামহীন আনুষ্ঠানিক প্রচার-প্রচারণা শেষ হচ্ছে আজ বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে। আজ থেকে ভোটকেন্দ্রে যাবে নির্বাচনী মালামাল। এরই মধ্যে নির্বাচনী এলাকায় বহিরাগতদের অবস্থান নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নির্বাচনের দায়িত্ব থাকছেন ১২৯ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। আজ মাঠে নামছে ৬৫ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

ঢাকা সিটির ভোট গ্রহণ শুরু হবে ১লা ফেব্রুয়ারি রোজ শনিবার। নির্বাচনের আচরণবিধি অনুযায়ী, ভোটের ৩২ ঘন্টা আগে প্রচারণায় নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। ভোটগ্রহণ চলাকালীন সকাল ৮টা থেকে রাত ১২ পর্যন্ত এবং ১২ থেকে পরবর্তী সময় ৪৮ ঘন্টা পর্যন্ত নির্বাচনী এলাকায় কোন ধরনের জনসভা, মিছিল, শোভাযাত্রা করা যাবে না। এবং এর সাথে অস্ত্র বা শক্তিও প্রদর্শন বা ব্যবহার করতে পারবেন না। এই আইন ভঙ্গ করলে নূন্যতম ছয় মাস ও অনধিক সাত বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে।

এরই মধ্যে নির্বাচনের শেষ দিনে প্রচার-প্রচারণায় তুঙ্গ হয়ে উঠেছে রাজধানী। বিভিন্ন ওয়ার্ড পরিদর্শন করে দেখা যায়, প্রতিটা ওয়ার্ডে প্রচারণায় একেবারেই ব্যস্ত সময় পার করছেন যেন প্রার্থীরা। পিছিয়ে নেই ওয়ার্ড কাউন্সিলরাও। ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে সুষ্ঠ নির্বাচন আশ্বাস দিয়ে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছেন তারা। রাজধানীর প্রতিটা ওয়ার্ডে জমজমাটভাবে উত্তেজিত মুখোরিত হয়ে উঠেছে নির্বাচনের আমেজে। জনগণের আশ্বাস এবারের নির্বাচনে তারা তাদের মূল্যবান ভোট দিয়ে যোগ্য প্রার্থীকে বাছাই করে পরিকল্পনার আধারে ঢাকাকে একটি পরিচ্ছন্ন ও উন্নতশীল নগরীতে পরিণত করা। এর সাথে পরিবেশসম্মত বিশ্বমানের বাসযোগ্য অত্যাধুনিক ঢাকা গড়ে তোলা।

এবারের ঢাকা দুই সিটি নির্বাচনে উত্তর ও দক্ষিণ সিটির ভোট অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সুষ্ঠ ভোটকে কেন্দ্র করে আজ মাঠে নামছে আইন শৃঙ্খল রক্ষাকারী বাহিনী। যানবাহন চলাচলের ওপর জারি করা হয়েছে নিষেধাজ্ঞা। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে বসানো হচ্ছে নিরাপত্তা চৌকি। নিরাপত্তার চাদরে ধেকে গেছে পুরো রাজধানী। ভোটারদের নিরাপত্তা আর ভোটদান নির্বিঘ্ন করতে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে তিন স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা। এবারের নির্বাচনে পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি ও আনসার মিলে প্রায় ৫০ হাজারের মতো আইন শৃঙ্খল রক্ষাকারী বাহিনী থাকছে নির্বাচনী মাঠে।

এদিকে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনী প্রার্থীরা মনে করেন ভোটকেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি ও তাদের নির্বিঘ্নে ভোট দেয়ার জন্য অনুকূল পরিবেশ বজায় রাখতে এবার বেশ সফল নির্বাচন কমিশন। প্রত্যেক প্রার্থীই দাবি করেছেন- সাধারণ মানুষ তাদের পক্ষে আছেন। কিন্তু এর প্রতিফলন দেখতে অপেক্ষ করতে হবে ১লা ফেব্রুয়ারি।

Comments

comments