সর্বশেষ সংবাদ

ঢাকা সিটির নির্বাচন প্রচারণার ধুম, সবার চোখ ভোটের মাঠে

মির-হোসেন সরকার: ঢাকা দুই সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের আর মাত্র ২ দিন বাকি। দিন যতই ঘনিয়ে আসছে প্রচার-প্রচারণায় আরও মুখোরিত হয়ে উঠছে পুরো রাজধানী। প্রতিটা অলিগলি ছেয়ে গেছে পোস্টার-লিফলেট ব্যানার ফেস্টুনে। শেষ সময়ে প্রার্থীরা ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। ভোটারদের দিচ্ছেন নানা ধরনের আশ্বাস ও প্রতিশ্রুতি। তারা ভোটারদের সুষ্ঠু নির্বাচন আশ্বাস দিয়ে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেয়ার অনুরোধ জানাচ্ছেন।

এবারের সিটি নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সঙ্গে বিএনপির পাশাপাশি বিরোধী দল জাতীয় পার্টি, বাম দল সিপিবি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ছাড়াও এনপিপি, পিডিপি, গণফ্রন্ট ও বাংলাদেশ কংগ্রেসের প্রার্থী রয়েছেন। দুই সিটিতে ৯ দলের মোট ১৩ জন মেয়র প্রার্থী অংশগ্রহণ করেছেন। তারা সবাই চষে বেড়াচ্ছেন ভোটের মাঠ। পিছিয়ে নেই সাধারণ ও সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর প্রার্থীরাও। বিগত দিনের উন্নয়নের কর্মকাণ্ডসহ একটি পরিকল্পিত সুন্দর ও আধুনিক ঢাকা গড়ে তোলার কথা বলছেন তারা। অন্যদিকে আধুনিক ও টেকসই নগরী গড়তে ডেঙ্গু, জলাবদ্ধতা ও যানজটসহ নানা সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতিও দিচ্ছেন। ঢাকাকে বসবাসযোগ্য এবং আরও উন্নতশীল ও উন্নয়নের কর্মকান্ড যেগুলো চলমান রয়েছে সেগুলো কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখতেও নানা প্রতিশ্রুতির কথা বলছেন প্রার্থীরা।

এদিকে এরই মধ্যে নির্বাচনি ইশতেহার পাশ করেছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের উত্তরের মনোনীত মেয়রপ্রাথী আতিকুল ইসলাম এবং দক্ষিণের মেয়রপ্রার্থী ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস। এবং বিএনপি মনোনীত উত্তরের মেয়রপ্রার্থী তাবিথ আউয়াল ও দক্ষিণের মেয়রপ্রার্থী প্রকৌশলী ইশরাক হোসেন।

ঢাকা উত্তর আওয়ামী লীগের মেয়রপ্রার্থী আতিকুল ইসলামের ইশতেহার ঘোষণা, সুস্থ, সচল ও আধুনিক ঢাকা গড়তে ৩৮ দফা পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করেন। বছরব্যাপী মশা নিধন, টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, বস্তিবাসীর নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জলাশয় দখলমুক্ত ও পরিচ্ছন্ন করা উন্মুক্ত পার্ক ও খেলার মাঠ গড়ে তোলা, যানজট নিরসনে সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠান নিয়ে সমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানান তিনি।

ঢাকা দক্ষিণের আওয়ামী লীগের মেয়রপ্রার্থী ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপসের ইশতেহার প্রণয়নে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাপস মেয়র নির্বাচিত হতে পারলে পাঁচটি বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়ে কাজ করবেন। ঐতিহ্যের ঢাকা, সুন্দর ঢাকা, সচল ঢাকা, স্বশাসিত ঢাকা ও উন্নত ঢাকা। তারা সবাই বিশ্বাস করে এই যে, এ পাঁচটি বিষয়ের সমাধান করতে পারলে নগরবাসী তাদের কাঙ্ক্ষিত ঢাকা উপহার পাবে।

অন্যদিকে ঢাকা উত্তরের বিএনপি মনোনীত মেয়রপ্রাথী তাবিথ আউয়ালের ইশতেহার ঘোষণা, মশা নিয়ন্ত্রণ, জলাবদ্ধতা দূরকরাসহ নানা বিষয়ে জোর দেওয়ার কথা বলেন তিনি। এছাড়াও দূষণ, পরিচ্ছন্নতা, যানজট ব্যবস্থপনা ও ওয়ার্ড ভিত্তিক বিনোদন কেন্দ্র তৈরি বিষয়ে প্রাধান্য দেন তিনি।

ঢাকা দক্ষিণের বিএনপি মনোনীত মেয়রপ্রার্থী প্রকৌশলী ইশরাক হোসেনের ইশতেহারে ঐতিহ্যের সাথে আধুনিকায়নের পথে বাসযোগ্য ঢাকা গড়ার প্রত্যয় ১৩ দফায় ১৪৪টি প্রতিশ্রুতি কথা তুলেন ধরেন তিনি। এসব প্রতিশ্রুতির মধ্যে দুনীতিমুক্ত প্রাতিষ্ঠানিক সেবা, সামাজিক ও মানবিক মূল্যবোধ গড়ার জন্য কাজ করা, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, মানবাধিকার রক্ষা এবং ঐতিহ্য ও আধুনিকতার সম্মিলনে মাদকমুক্ত,যানজট-দূষণমুক্ত, মশা ও জলাবদ্ধতামুক্ত, ভারসাম্যমূলক ও পরিবেশসম্মত বিশ্বমানের বাসযোগ্য অত্যাধুনিক ঢাকা গড়ে তোলার কথা তুলে ধরা হয়।

মেয়রপ্রার্থীদের ইশতেহার ঘোষণার প্রশ্নোত্তরে জনগণের মনে সৃষ্টি হয়েছে এখন নানান প্রশ্ন। তাদের সামনে এখন একটাই প্রশ্ন নির্বাচনের ফলাফল কি হবে। তারা চায় তাদের মূল্যবান ভোট দিয়ে যোগ্য প্রার্থীকে বাছাই করা এবং তার পরিকল্পনার আধারে ঢাকাকে একটি পরিচ্ছন্ন ও উন্নতশীল নগরীতে পরিণত করা। এর সাথে পরিবেশসম্মত বিশ্বমানের বাসযোগ্য অত্যাধুনিক ঢাকা গড়ে তোলা।

এখন উৎসবের ভোটের প্রতীক্ষায় আছে জনগণ। ইভিএম ভীতি কেটে যাওয়ায় এবার ভোটারদেরও কেন্দ্রে যাওয়ার ব্যাপারে বেশ উৎসুক বলেই মনে করছেন নির্বাচনি প্রার্থীরা। তাদের দাবি, ভোটকেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি ও তাদের নির্বিঘ্নে ভোট দেয়ার জন্য অনুকূল পরিবেশ বজায় রাখতে এবার বেশ সফল নির্বাচন কমিশন। প্রত্যেক প্রার্থীই দাবি করেছেন- সাধারণ মানুষ তাদের পক্ষে আছেন। তবে তাদের এই দাবির বাস্তব প্রতিফলন দেখতে অপেক্ষা করতে হবে ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।

Comments

comments