সর্বশেষ সংবাদ

গরুর মাংসে কিভাবে প্রতারিত হচ্ছি

মোস্তফা কামাল সুমন: সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানের জন্য দুই মন গরুর মাংস কিনতে হয় রফিক (ছদ্মনাম) কে। গরু কেনার চেয়ে মাংস কিনে লাভবান হওয়া যাবে সবার এই পরামর্শে গরু না কিনে কসাইয়ের কাছ থেকে মাংস কেনার সিদ্ধান্ত নেয় রফিক। সেই সিদ্ধান্তের আলোকে অন্য এক লোকের মাধ্যমে কসাই এর সাথে চুক্তিবন্ধ হয়। চুক্তিতে ছিল দুই মন গরুর মাংস দেওয়ার পর কসাই বাঁকি মাংস বিক্রি করতে পারবে। কথা মত গত ২২ তারিখ দিবাগত মধ্যরাতে গরু জবাই করে কসাই। চুক্তিমত দুই মন মাংস কেটে দেয় কসাই।কিন্তু গরুর মাংস কেনার সময় স্বচক্ষে কসাই এর প্রতারণার কৌশল দেখে রফিক অবাক হয়ে যায়। কিভাবে এক কেজি সাইজের ফুসফুস (আঞ্চলিক ফেসকো) মুহুর্তেই ১২ কেজি হয়ে যায়।এ যেন দিনে দুপুরে পুকুর চুরির শামিল। রফিকের গরুর মাংস  নিয়ে প্রতারণা দেখার ঘটনা গোবিখবরের পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো।

২২ জানুয়ারি দিবাগত মধ্যরাতে রাতে গরু জবাই হওয়ার পর দ্রুত চামড়া ছাড়ানোর কাজ শুরু করে কসাই। চামড়া ছড়ানোর সময়ে এবং মাংস কাটার সময় নিষেধ শর্তেও প্রচুর পানির ব্যবহার করতে থাকে কসাই। এতে মাংসের ওজন বৃদ্ধি ঘটতে থাকে। গরুর পেট থেকে পাওয়া অল্প পরিমান চর্বি একটি বালতিতে ডুবে রাখা হয়। কিছুক্ষণ পর সেই অল্প পরিমান চর্বি ফুলে ফেপে কয়েক কেজি হয়ে যায়। সবচেয়ে অবাক হয় রফিক যখন গরুর ফুসফুস কাটা হয়। রফিক যে গরুর গোশত কিনছিল তার প্রথম বের হওয়া ফুসফুস ছিল প্রায় কেজি সাইজের ওজনের। পর মুহুর্তে একজন সহকারী কসাই টিউবয়েল থেকে চার জগ পানি ফুসফুসের ফুলকার ভিতর দিয়ে ফুসফুসে দেয়। আর মুহুর্তের মধ্যেই ফুসফুস ফুলে ফেপে মোটা হয়ে যায় (প্রচ্ছদে ব্যবহৃত ছবিটি পানি প্রবেশ করা ফুসফুসের ছবি)। ওজন হয়ে যায় আনুমানিক ১২ কেজি। কেন পানি ঢুকাচ্ছেন কসাইকে জিজ্ঞাসা করতেই কসাই জবাব দেয়  পানি দেওয়া না হলে ৬০০ টাকা কেজি দরে মাংস কিনতে হবে (বর্তমানে দর ৫০০ টাকা কেজি)।

রফিক তাঁর চোখের সামনে কসাই এর প্রতারণার কৌশল দেখতে থাকে। এ নিয়ে কসাই এর সাথে তাঁর বাকবিতন্ডাও হয়। কসাই নাছোড় বান্দার মত গরুর মাংসে পর্যাপ্ত পরিমান পানি প্রবেশ করাতে থাকে।কসাই এর বক্তব্য বাঁকি মাংস বিক্রি করতে হবে তাকে। তাই তারা যে পদ্ধতি ব্যবহার করে সেই পদ্ধতিতেই পুরো প্রক্রিয়া করেছে। এছাড়া তারা গরুর মাংস বেঁচে লাভ করতে পারবে না। স্বচক্ষে প্রতারণা দেখার পরও রফিক তার কাছ মাংস নিয়ে বাধ্য নয়। কারণ চুক্তিতে নাকি এমনটি ছিল আর সকালেই তার অনুষ্ঠান। যদিও রফিক নিজে চুক্তি না করে অন্য একজনকে দিয়ে চুক্তি করেছিল।শেষে এক কেজি সাইজের ফুসফুসে পানি দেওয়ার পর ১২ কেজি হওয়া ফুসফুস থেকে রফিককে দুই কেজি এবং তেল ও অন্যান্য অংশ থেকে নিম্নমানের আরো পাঁচ কেজি দেওয়া হয় তাকে।

এই চিত্রটি শুধু একদিনের একটি ঘটনার লেখ্য। ক্রেতার সামনে এই রকম প্রতারণা যদি হয় তবে চক্ষুর আড়ালে গরুর প্রসেস হওয়ার পর থেকে বিক্রয়ের সময় পর্যন্ত তাহলে ক্রেতাকে  আর কত রকমের প্রতারিত হতে হচ্ছে তা পাঠক মাত্রই অনুমেয়।

Comments

comments