সর্বশেষ সংবাদ

সরিষাবাড়ীতে পল্লী বিদ্যুৎ গ্রাহক সেবার নামে করছে নিপীড়ন অভিযোগ ভুক্তভোগীদের

রাইসুল ইসলাম খোকন, সরিষাবাড়ী প্রতিনিধি: জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলায় পল্লী বিদ্যুতের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগী গ্রাহকেরা। তাদের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্তব্যরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সেবার নামে গ্রাহকদের সাথে করেন অশালিন আচরণ। তাদের স্বার্থান্বেষী কর্মকান্ড ও দুর্নীতির রোষানলে আজ তৃণমূলের অতিসাধারণ গ্রাহকেরা বিপাকে। বড়ই হতাশা ব্যঞ্জক সুরে গ্রাহকেরা বলেন পল্লী বিদ্যুতের কোন সেবাই ঘুষ ছাড়া হয় না। তারা বিভিন্ন অজুহাতে গ্রাহকদের কাছ থেকে হাতিয়ে নেন টাকা। জানা গেছে, আজ দীর্ঘদিন যাবৎ মহাদান ইউনিয়নের করগ্রাম পূর্বপাড়া গ্রামের মৃত সিরাজ মণ্ডলের ছেলে আব্দুল আজিজ (৫৬) এর গৃহের ব্যবহৃত মিটারটি নষ্ট। তাই তিনি নষ্ট মিটার এর পরিবর্তে নতুন মিটার প্রতিস্থাপন করতে চান। আর এইজন্য তিনি ২০০ টাকা ফি বাবদ পরিশোধ করেন। কিন্তু পল্লী বিদ্যুতের লাইনম্যান বলছে নতুন মিটার নিতে হলে তাকে আরো ১০০০ টাকা দিতে হবে। যদিও পল্লী বিদ্যুৎ এর নিয়মানুযায়ী নষ্ট মিটার পরিবর্তনের জন্য একমাত্র ফি বাবদ ছাড়া অন্য কোন টাকা লাগে না। তবুও আব্দুল আজিজকে আজকাল বলে বিভিন্ন অজুহাতে জিম্মি করে ঘুরাছে পল্লী বিদ্যুতের লোকেরা। এদিকে গত ২০ জানুয়ারি কাগজ কলম নামে একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালে ও সাপ্তাহিক তথ্য অপরাধ চিত্র ম্যাগাজিনে পল্লী বিদ্যুতের লাইনম্যানদের মনগড়া বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্নের অভিযোগ এনে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। সেখানে বলা হয়েছে পোগলদিঘা ইউনিয়নের কান্দার পাড়া গ্রামের মোঃ আব্দুল আজিজের ছেলে এস এম লুৎফর রহমানের নামীয় হিসাব নং- ৪৪৫/২৭৬৩ চলমান মিটারটি সংযোগ বিনা নোটিশে বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। যা কিনা রীতিমত অন্যায় অবিচার ও নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা একটি আইন বহির্ভূত প্রহসন। যদিও পল্লী বিদ্যুতের নিয়মানুযায়ী বলা আছে। এত তারিখের মধ্যে বিল পরিশোধ না হইলে,কোনরূপ পূর্ব নোটিশ ব্যতিরেকেই বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হইবে। কিন্তু লুৎফর রহমান বলছেন, তার বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের শেষ তারিখ ২৬/০১/২০২০ ইং তারিখে। কিন্তু কেন পল্লী বিদ্যুতের কর্তৃপক্ষ বিল পরিশোধের নির্ধারিত তারিখ আসার পূর্বেই বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে ইহা তাহার বোধগম্য নয়। পল্লীবিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের এমন অমানবিক আচরণ আর অযুক্তি লাইন কাটা-লাগানো ইহা একটি উদ্দেশ্য প্রণীত অসাধু বাণিজ্য বলে মনে করছেন লুৎফর রহমান। তিনি আরও বলেন কর্তনকৃত লাইন পুনরায় সংযোগ দিতে গেলে গ্রাহককে ১২’শ টাকা ফি দিতে হয়। যা কিনা একজন সাধারণ গ্রাহকের জন্য অপ্রত্যাশিত ব্যয়। পাশাপাশি বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য যে দৌরাত্ম্য আর ভোগান্তি সৃষ্টি করেন পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ। তা সত্যিই অকল্পনীয় বাস্তবতা বলে জনসম্মুখে চিন্থিত। তাই ভুক্তভোগী লুৎফর রহমান বলেন, পল্লীবিদ্যুতের এমন অসদাচরণ সেবার নামে জনগণকে নিপীড়ন ছাড়া অন্যকিছু নয়। এদিকে উক্ত বিষয়টি জামালপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সরিষাবাড়ী জোনাল অফিস এর তারাকান্দি অভিযোগ কেন্দ্রের দায়িত্বরত কর্মকর্তা সাখাওয়াত হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি ডিজিএম এর দোহাই দিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যান।

Comments

comments