সর্বশেষ সংবাদ

উত্তরের বঞ্চনা হা হুতাশ

মোস্তফা কামাল সুমন : সম্ভবত ২০০৮ সালের ঘটনা। গাইবান্ধা সমিতির অভিষেক অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন বর্তমান ডেপুটি স্পিকার এ্যাড. ফজলে রাব্বি মিঞা। আজও সেই দিনের তাঁর বক্তব্য মনে দাগ কেটে আছে। যার বাস্তব চিত্র দেখি সর্বত্রই। কি ছিলো তাঁর বক্তব্যে। আজ কেন সেই কথা বলছি।

আমার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডির ফ্রেন্ডদের মাঝে মাঝেই বঞ্চনার একটি পোস্ট নিয়মিত দেখি। আজও দেখলাম।বারংবার দেখায় লিখতে ইচ্ছে হলো। সেদিনকার গাইবান্ধা সমিতির অভিষেক অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বর্তমান ডেপুটি স্পিকার এ্যাড. ফজলে রাব্বি মিঞা সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদের শাসনাকালের একটি উদাহরণ দিয়েছিলেন এভাবে। সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদ সচিবদের রংপুরে কিছু করতে নির্দেশ দিতেন। কিন্তু তৎকালীণ সচিবরা নোট দিত বিধি মোতাবেক সম্ভব নয়। তখন উপায় না দেখে এরশাদ রংপুর সফরে এসে এটা সেটা ঘোষণা দিয়ে যেতেন। আর পরে তা বাস্তবায়িত হত। কারণ  রাষ্ট্রপতি যা ঘোষণা দেবে সেটাই আইনে পরিনত হবে। আরোপিত সিন্ডিকেট নোটের তা আটকানোর ক্ষমতা ছিল না।  রাষ্ট্রপতি এরশাদ রংপুর অঞ্চলে যত কাজ করেছে তার অধিকাংশই আগে ঘোষণা দিয়ে করা। প্রচলিত বিধি মোতাবেক হয়ে আসা নয়। তিনি আরো বলেছিলেন, শুধু প্রধান ব্যক্তি নিজ এলাকার হলে চলবে না। তার সাথে সাঙ্গপাঙ্গ সহ পুরো প্রক্রিয়ায় লোক থাকতে হবে।বর্তমানেও আমরা দেখি আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টির প্রধান পদধারীরা উত্তরের সর্ম্পকিত হলেও উত্তরই বেশি অবহেলিত।

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হয়ে গেল দেশের বর্তমান দীর্ঘদিন এক নাগাড়ে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলন। আমরা যারা গাইবান্ধা জেলার বাসিন্দা তারা বন্ধমূল ছিলাম কেউ না কেউ এই জেলা থেকে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রিয় দায়িত্ব পাবে। আর কেউ না পেলেও এক এগারোর পরীক্ষিত সৈনিক সাবেক ছাত্রলীগের কেন্দ্রিয় সভাপতি মাহমুদ হাসান রিপন অবশ্যই একটা বড় দায়িত্ব পাবেন। কিন্তু তিনিও আশাহত করলেন সমগ্র জেলাবাসীকে। সেই আক্ষেপ এখনো নিয়মিত ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ছে।

উপরের দুটি উদাহরণ উত্তরের মানুষের বঞ্চনার চিত্র।এরকম হাজারো বঞ্চনার উত্তরের মানুষের মাঝে জমতে জমতে তাদের মাঝে হুতাশার সৃষ্টি হয়েছে। ক্রমেই তারা নিজেদের বেশি অযোগ্য মনে করে দেশের সম্পদ হওয়ার চেয়ে বোঝা হওয়ার দিকে ধাবিত হচ্ছে।

Comments

comments

Leave a Reply