সর্বশেষ সংবাদ

শীতবস্ত্র কি শুধুই কম্বল

মোস্তফা কামাল সুমন: সারাদেশে জেঁকে বসেছে শীত। হাড় কাপানো শীতে মানুষ কাহিল। দেশের আনাচে কানাচে শত শত সংগঠন  ও ব্যক্তি দাঁড়াচ্ছে এই সব শীতার্ত মানুষের পাশে। বিতরণ করছে শীতবস্ত্র। এই সব সংগঠন ও ব্যক্তিকে আন্তরিক অভিবাদন জানাই শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মত মহৎ কর্মকান্ড পরিচালনা করার জন্য। অসহায় মানুষের সেবায়  এগিয়ে এসে বিশাল হৃদয়ের পরিচয় দিয়েছেন আপনারা। এমন সহযোগিতা প্রবণ বাংলাদেশই তো আমাদের কাম্য। কিন্তু সময় হয়েছে দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের।

বর্তমানে শীতবস্ত্র হিসেবে প্রধান ও একমাত্র অনুসঙ্গ হয়ে দাঁড়িয়ে কম্বল। শীতার্ত মানুষকে দেওয়ার জন্য আমরা কম্বল ছাড়া অন্য কিছু যেন চিন্তাই করতে পারি না। আদতে একজন শীতার্ত মানুষের জন্য কম্বলের ব্যবহার প্রয়োজন দিনের মাত্র এক তৃতাংশ সময়। বাঁকি সময় তবে কিভাবে তার শীত নিবারণ হবে। সেই সাথে কম্বল মুড়ি দিয়ে সে দৈনন্দিন কোন কাজ কর্মই করতে পারবে না। কম্বল ব্যবহার করে বাহিরে বের হওয়ায় যায় না। আমরা সচারচর কম দেখে থাকি কম্বল জড়িয়ে বাড়ির বাহিরে থাকা মানুষ।

শীতবস্ত্র হিসেবে শুধু কম্বল দেওয়া নয়। আমরা যেহেতু শীতার্ত মানুষের পাশে সত্যিকার অর্থেই দাঁড়াতে চাই তবে আমাদের উচিত কম্বলের পাশাপাশি অন্যান্য শীতবস্ত্র যেমন, চাদর, সুয়েটার, জ্যাকেট, মাফলার, টুুপি, কার্ডিগেন সহ অপরাপর গরম কাপড় দেওয়া। যাতে একজন শীতার্ত মানুষের সত্যিকারের শীত নিবারণের ব্যবস্থা হয়।

একটি উদাহরণ এক্ষেত্রে ব্যবহার করছি। গোবিখবরের পাঠক যারা তারা সবাই ২০১৬ সালের রংপুর সুগার মিলের সাহেবগঞ্জ বাগদা ফার্ম থেকে দখলদার সাঁওতালদের সরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে অবগত। খামারের জমি দখলমুক্ত করার পরে সাঁওতালরা গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মাদারপুর ও জয়পুর পাড়ায় তাবু গেড়ে অবস্থান শুরু করে। তখন পুরো শীত মৌসুম হওয়া দেশি বিদেশী ব্যক্তি ও সংগঠন তাদের পাশে দাঁড়িয়ে শীত নিবারণের কম্বল বিতরণ করে। বিশ্বস্ত সূত্রে এই লেখক অবগত যে, এক একটি তাবু বাসী ব্যক্তি কমপক্ষে ৫০টি কম্বল পেয়েছে। তারা এতো কম্বল পেয়েছে যে সারা জীবনে তাদের একটিও কম্বল কিনতে হবে না। এই কম্বলই তারা তাদের কাছে দুরের আত্মীয় স্বজন কে দেওয়া সহ আগামী প্রজন্মের জন্য সংরক্ষণে রেখেছে। কিন্তু পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে এখন এই সুঠামদেহী সাঁওতালদের হালকা শীতবস্ত্রে বাহিরে চলাফেরা করতে হয়। মাত্র তিন বছর পরেই তাদের কাছে কম্বল ছাড়া শরীরে আবৃত্ত করার মত ভারী গরম পোষাকের ঘাটতি দেখা দিয়েছে।

উদাহরণটি এই জন্য দিলাম যে, তখন যদি শীত বস্ত্র হিসেবে যদি কম্বলের পাশাপাশি অন্যান্য গরম কাপড় দেওয়া হতো তবে আজ তাদের হালকা কাপড়ে শীত নিবারণ করতে হতো না। তাই আমাদের সময় এসেছে দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের।

প্রচ্ছদ ছবি সংগৃহিত

Comments

comments