সর্বশেষ সংবাদ

অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে হুমকির মুখে গোবিন্দগঞ্জ-সাঘাটা সড়কের দুই সেতু

মনজুর হাবীব মনজু, গোবিন্দগঞ্জ (গাইবান্ধা) থেকে:
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা থেকে সড়কপথে সাঘাটা উপজেলার মধ্যে সংযোগ স্থাপনকারী বাঙ্গালী নদীর উপর দুটি সড়ক সেতুর পাশ থেকে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করছে প্রভাবশালীরা। আর এসব বালু পরিবহণে ব্যবহৃত অবৈধ মোটরযান ট্রাক্টর ও পাওয়ার টিলারের বেপরোয়া চলাচলে ছোট-বড় সকল সড়ক ভেঙ্গে-চুড়ে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। এ ছাড়াও সড়কগুলোতে প্রতিনিয়ত ছোটবড় দুর্ঘটনার আশংকার পাশাপাশি সেতুসহ আশপাশের গ্রামগুলি ভাঙ্গনসহ নানামুখী হুমকির মুখে পড়ছে বলে অভিযোগ করেছেন এলাকার লোকজন।

উপজেলার মহিমাগঞ্জ রেলস্টেশনের এক কিলোমিটার উত্তর দিকে বোচাদহ এলাকার দেওয়ানতলা সড়ক সেতু ও দক্ষিণ-পূর্বদিকের দুই কিলোমিটার দূরত্বের মধ্যে অবস্থিত পান্থামারী-বাঙ্গাবাড়ী এলাকার নির্মীয়মান বাঙ্গাবাড়ী সড়কসেতুর পাশ থেকে বালু উত্তোলনের ফলে সেতু দুটির পাশাপাশি কয়েকটি গ্রাম মারাত্মক ঝুঁকিরমধ্যে রয়েছে। দুই উপজেলার সীমান্তবর্তী স্থানে নদীর অবস্থানের কারণে নির্বিঘেœ বালু উত্তোলনের মহোৎসব চলছে বলে অভিযোগ করেছেন এখানকার বাসিন্দারা।

সম্প্রতি মহিমাগঞ্জ সংলগ্ন নির্মীয়মান বাঙ্গাবাড়ী সেতু এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, সেতুর দুই পাশে দুটি অবৈধ বোমা মেশিনে বালু তুলে সেতুর সংযোগ সড়ক তৈরি করা হচ্ছে। এখানকার লোকজন অভিযোগ করে বলেন, নিয়ম অনুযায়ী অন্য স্থান থেকে বালু এনে সংযোগসড়ক তৈরির কথা। কিন্তু তা না করে সেতুর পাশের্^ বাঙ্গালী নদীতে অবৈধ ড্রেজিং মেশিন বসিয়ে সরাসরি বালু তুলে সংযোগ সড়কে ফেলা হচ্ছে। এর ফলে মূল সেতুসহ নদীতীরের বাঙ্গাবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং বাঙ্গাবাড়ি ও পান্থামারী গ্রামের ঘরবাড়ী-জমিজমা নদীভাঙ্গনের শিকার হচ্ছে। একইভাবে মহিমাগঞ্জ ইউনিয়নের বোচাদহ এলাকার দেওয়ানতলা সেতুর উত্তর পাশ থেকে দীর্ঘদিন যাবৎ বালু উত্তোলনের ফলে গুরুত্বপূর্ণ সেতুটি হুমকির মুখে পড়েছে। এ কারণে ইতোমধ্যে বোচাদহ গ্রামটির অধিকাংশ এলাকা নদীর গর্ভে তলিয়ে গেছে। মানচিত্র বদলে গেছে এ গ্রামের। দীর্ঘ দিন ধরে অনিয়ন্ত্রিত ভাবে বালু উত্তোলনের ফলে প্রতি বছর
বর্ষা মৌসুমে নদীর ওইসব এলাকার ভাঙ্গন তীব্র আকার ধারণ করে বলে অভিযোগ করলেও প্রভাবশালীদের ভয়ে কেউ নিজের পরিচয় প্রকাশ করতে চান না।দীর্ঘ দিন ধরে প্রশাসনের চোখের সামনে বালু উত্তোলনের মহোৎসব চললেও অদৃশ্য কারণে এর প্রতিকারের কোন ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন এখানকার লোকজন। এ কারণে গ্রাম দুটি মানচিত্র থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে বালু পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত অনেকগুলো অবৈধ মোটরযান পাওয়ার ট্রলি ও ট্রাক্টরের বেপরোয়া চলাচলে মহিমাগঞ্জসহ এলাকার রাস্তাগুলো ভেঙ্গেচুড়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
এলাকাবাসী দ্রত অবৈধ বালু উত্তোলন ও অবৈধ মোটরযান চলাচল বন্ধ করে সেতু দুটি ও এলাকার রাস্তাঘাট রক্ষা করতে প্রশাসনের প্রতি আবেদন জানিয়েছেন।

Comments

comments