সর্বশেষ সংবাদ

আমার দেখা বিজয়- বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী সাখাওয়াত হোসেন

কাজী সাখাওয়াত হোসেন একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধকালীন ৬ নং সেক্টরের একজন মুক্তিযোদ্ধা। মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তি সময়ে তিনি রাজনীতিতে সরাসরি যুক্ত হন। দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেছেন গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব।

অনুলেখক মোস্তফা কামাল সুমন: দীর্ঘ নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধের পর যেদিন বিজয় সূচিত হয় সেদিনের অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী সাখাওয়াত হোসেন আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। বিজয়ের দিনটিকে তিনি বিশেষ ভাবে স্বরণ করেন । তিনি জানান, ওই দিন লালমনিহাটের বিমান বন্দরের কাছে একটি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের মাঠে ও ছাঁদে তাঁরা বিজয় উদযাপন করেন। তিনি এতোটাই আপ্লুত হয়ে পড়েছিলেন যে দীর্ঘদিন বাবা মায়ের সাথে বিচ্ছিন্নতার কথা ভূলে যান বিজয় আনন্দে। তিনি আরো স্মরণ করিয়ে দেন চূড়ান্ত বিজয়ের আগে ১০ ডিসেম্বর লালমনিহাট হানাদার মুক্ত হয়। তাঁরা লালমনিহাট হানাদার মুক্তি করার পর রংপুর অঞ্চলও হানাদার মুক্তি করে তাদের বেস ক্যাম্পে ফিরে গেলে দেশের চূড়ান্ত বিজয় সূচিত হয়।

 

বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী সাখাওয়াত হোসেন জানান, জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণে উদ্বুদ্ধ হয়ে তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। মুক্তিযুদ্ধ শুরুর সময় তিনি বোনারপাড়ায় একাদশ শ্রেণিতে অধ্যয়নরত ছিলেন। পুুরো মুক্তিযুদ্ধকালীন সময় তিনি ৬ নং সেক্টরের অধীন রৌমারীতে ছিলেন। সেখান থেকেই তিনি কোম্পানী কমান্ডার সুবেদার বোরহান উদ্দিনের নেতৃত্বে বিভিন্ন অপারেশনে অংশগ্রহণ করেন। তিনি নিজেও বিএফএ (মুজিব ক্যাম্প) এর সি সার্কেল হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী সাখাওয়াত হোসেন গোবিখবরের সম্পাদক মোস্তফা কামাল সুমনের সাথে আলাপচারীতায় জানান, লালমনিহাট ছিল বিহারী ও রাজাকারদের ঘাঁটি। যেদিন তাঁরা লালমনিহাট ঘিরে ফেলেও সেই দিনই মনে হয়েছিল তাদের বিজয় শুধু সময়ের ব্যাপার মাত্র। তিনি জানান, লালমনিহাটের হানাদার দূর্গ দখলের পরে মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে বিজয়ের সুবাতাস বইতে শুরু করে। যার চূড়ান্ত ফল ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর রেসকোর্স ময়দানে পাকিস্তান বাহিনীর আত্মসর্ম্পন। আর প্রিয় মাতৃভূমি স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম।

Comments

comments