সর্বশেষ সংবাদ

পলাশবাড়ীতে এক সন্তানের জননী গৃহবধূ বিউটিকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

আরিফ উদ্দিন, স্টাফ রিপোর্টার, গাইবান্ধা থেকে: গাইবান্ধার পলাশবাড়ীর পল্লীতে এক সন্তানের জননী গৃহবধূ বিউটি বেগমকে (২৩) বেদম পিটিয়ে নৃশংস হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামী-শ্বশুর-শাশুড়িসহ শ্বশুরবাড়ীর লোকজনের বিরুদ্ধে। স্বামী-শাশুড়ি গা-ঢাকা দেয়ায় শ্বশুর আব্দুল মজিদকে আটক করা হয়েছে।
মঙ্গলবার সকালে ঘটনাস্থল পলাশবাড়ী পৌরশহরের সিঁধনগ্রাম স্বামীর বাড়ী থেকে নিহত বিউটির মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য গাইবান্ধা প্রেরণ করেছে পুলিশ। সিঁধনগ্রামের মামুন মিয়ার স্ত্রী প্রায় ১ বছর বয়সি ছেলে সন্তানের জননী বিউটি বেগম পৌরশহরের দক্ষিনবন্দর (নুনিয়াগাড়ী) এলাকার আব্দুস ছামাদ মিয়ার মেয়ে। ঘটনার পরপরই শ্বশুর পরিবারের লোকজন বসতবাড়ীর ঘর সমূহ তালাবদ্ধ করে অন্যত্র গা-ঢাকা দিয়েছেন।

স্থানীয় পড়শিরা জানান প্রায় ৩ বছর আগে বিউটির সাথে মামুনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর হতেই বিউটি-মামুন দম্পতির দাম্পত্য কলহ চলে আসছিল।মাঝেমধ্যেই তাদের মধ্যে যে কোন তুচ্ছ ঘটনার সূত্রপাত হলেই বিউটির শরীরে নেমে আসত নির্মম অমানুষিক নির্যাতন।
কোন্দলের কোন না কোন কারনে সৃষ্ট মঙ্গলবার ভোরে স্বামী মামুন তাদের বাড়ীর পাশ থেকে দু’টি ভাপা পিঠা কিনে বাড়ীতে ফিরে। স্ত্রী-সন্তানকে না দিয়ে মামুন তার বড় ভাবীক পিঠা দেয়। এনিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বাকবিতন্ডার সৃষ্টি হয়।

সৃষ্ট ঘটনার জের ধরে ঘটনার সময় কিছু বুঝে উঠার আগেই স্বামীসহ বাড়ীর লোকজন উপর্যুপরি বেধড়ক মারপিট করায় গুরুতর আহতসহ সংজ্ঞা হারিয়ে বিউটির অকাল মৃত্যু ঘটে।থানা অফিসার ইনচার্জ মাসুদুর রহমান মাসুদ হত্যার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গৃহবধূ হত্যার বিষয়টি জানতে পেয়ে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থল পৌঁছে পুলিশ।নিহতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারপিটের ক্ষতচিহ্ন রয়েছে। প্রাথমিক সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি শেষে মরদেহ মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। কেবল রিপোর্ট হাতে পেলেই মৃত্যুর সঠিক কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
গাইবান্ধার সহকারী পুলিশ সুপার (সি-সার্কেল) আশাদুজ্জামান মিয়ার নেতৃত্বে থানা অফিসার ইনচার্জ মাসুদুর রহমান মাসুদ ও পুলিশ পরিদর্শক (ওসি তদন্ত) মতিউর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানান নিহতের ভাই ফিরোজ। এদিকে বিউটি হত্যা রহস্য উন্মোচনে পলাতক স্বামী মামুনকে গ্রেফতারে পুলিশী জোর তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে বলে পুলিশ জানায়।

Comments

comments