সর্বশেষ সংবাদ

ধনবাড়ীতে পিইসি পরীক্ষা দিচ্ছে ৫ প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী

সৈয়দ সাজন আহমেদ রাজু, ধনবাড়ী (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে এবারের প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) পরীক্ষায় ধনবাড়ী খন্দকার নজরুল ইসলাম অটিস্টিক ও প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের ৫ প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছে। এরা সকলেই ধনবাড়ী সরকারী নওয়াব ইনস্টিটিউশন কেন্দ্রে পরীক্ষা দিচ্ছে। পরিক্ষায় অংশ নেয়া ৫ প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর সবাই শারীরিক, মানসিক ও বুদ্ধি প্রতিবন্ধী। এরা হলো শাহরিয়ার আহমেদ জয়, মিজানুর রহমান, মো. শহিদ আলী, মোছাঃ তন্নী খাতুন ও বিনা আক্তার।

শারীরিক প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী শাহরিয়ার আহমেদ জয় বলেন, আমি পড়ালেখা শিখে উচ্চতর ডিগ্রী নিতে চাই। আমার পরিবার ও সমাজের কল্যাণে নিজেকে সম্পৃক্ত করতে চাই। কেউ যেন আমাকে প্রতিবন্ধী ভেবে অবজ্ঞা না করে। তন্নী খাতুন ও বিনা আক্তারসহ অন্যারাও সমাজে অবহেলিত না থেকে পড়ালেখা করে দেশের সু-নাগরিক হতে চায়।

ধনবাড়ী খন্দকার নজরুল ইসলাম অটিস্টিক ও প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা আঞ্জুয়ারা খাতুন বলেন, বিগত বছরগুলোতে আমার বিদ্যালয়ে এ প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীরা নিয়মিত পড়াশুনা করেছে। তারা সকলেই ভালো ফলাফল করবে বলে আমি আশাবাদী।
ধনবাড়ী খন্দকার নজরুল ইসলাম অটিস্টিক ও প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি খন্দকার মোস্তাফিজুল ইসলাম জীবন বলেন, তাদের প্রতি যদি সমাজের সকলেই সহানুভুতিশীল আচারণ কারে তাহলে তারা পাড়ালেখা শিখে মানুষের মতো মানুষ হতে পারবে। তাদেরকে কেউ প্রতিবন্ধী বলে অবজ্ঞা করতে পারবে না। এছাড়াও অভিভাবকদের ভাল চিকিৎসা সেবা দেয়ার ব্যাপারে পরামর্শ দেয়া হয়েছে। অনেকেই আর্থিক অস্বচ্ছলতার কারণে চিকিৎসা সেবা নিতে পারছে না। বিদ্যালয় থেকে আর্থিক ও চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়।

ধনবাড়ী সরকারী নওয়াব ইনস্টিটিউশন পরিক্ষা কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শামিমা জাহান শারমিন বলেন, একই বিদ্যালয়ের ৫ প্রতবন্ধী শিক্ষার্থী পিইসি পরীক্ষা দিচ্ছে। তারা প্রত্যেকেই ভালোভাবে পাশ করবে বলে আমি আশাবাদী। তাদেরকে নিয়ম অনুযায়ী অতিরিক্ত সময়সহ অন্যান্য প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা দেয়া হচ্ছে।

এ ব্যাপারে ধনবাড়ী উপজলা নির্বাহী অফিসার আরিফা সিদ্দকা বলেন, উপজেলার একটি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় থেকে এবার ৫ প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী পিইসি পরিক্ষঅয় অংশ নিচ্ছে জেনে আমি খুবই আন্দদিত। বিষয়টি আমাকেসহ কেন্দ্রের অন্যদেরকেও হতবাক করেছে। তারা লেখাপড়া শিখে স্বাবলম্বী হবে এমনটাই আশা করছি।

Comments

comments