সর্বশেষ সংবাদ

শিক্ষকদের আয়োজনে এ কাজ কিভাবে সম্ভব? গোবিন্দগঞ্জে সমাপনীতে প্রক্সি পরীক্ষার্থী

প্রচ্ছদ ছবি প্রতীকী

মোস্তফা কামাল সুমন: জাতি গঠনে শিক্ষকের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষার্থীরা এক একজন শিক্ষক কে নিপূন ভাবে অনুসরণ অনুকরণ করে। শিক্ষকের কথা বলা চাল চলন আচার ব্যবহার প্রতিটি বিষয় শিক্ষার্থীরা আগ্রহ ভরে লক্ষ্য করে। সেই আচরণ তাদের জীবনেও প্রয়োগ করতে সচেষ্ট হয়। শিশু কিশোরদের প্রধান নায়ক পিতার পরই শিক্ষক তাদের দ্বিতীয় প্রধান নায়ক। যাকে তারা তাদের জীবনের অন্যতম আইডল হিসেবে বিবেচনা করে তাকে অনুসরণ করে। শিক্ষককের ভালো গুণ যেমন শিক্ষার্থীদের আগামীর উপর প্রভাব বিস্তার করে তেমনি খারাপ গুণও শিক্ষার্থীদের উপর সমভাবে বলতে গেলে বেশি হারে প্রভাব বিস্তার করে। বাস্তবেও দেখা যায়, কোন দলের নেতা যদি বাগচী হয় তবে তাঁর ক্ষুদ্র কর্মীও সেই রুপ অনলবর্ষী বাগচী হতে চেষ্টা করে। কিন্তু শিক্ষকের নৈতিকতা ও অন্যায় করার প্রবনতা আজ এতো নিচের স্তরে নেমে গেছে যে তা আগামী প্রজন্মকে ধংস্ব করে দিচ্ছে।

হঠাৎ এতো জ্ঞানগর্ভ কথা বলছি কেন? বলছি, যৌক্তিক কারণে। আজ (সোমবার) দুপুরে প্রাথমিক স্তরের সমাপনী পরীক্ষা শেষ হওয়ার আগে আগে গোবিন্দগঞ্জে অটোতে (ব্যাটারী চালিত বাহন) উঠার সাথে সাথে ক্লিপবোর্ড হাতে নিয়ে এক শিক্ষার্থী অটোতে উঠে। অটোতে উঠার পর তার সাথে আরো কয়েকজন সমবয়সীর কথা হয় কাল আর পরীক্ষা নিতে আসবো না। একজনের পরীক্ষা অন্যজন দিতে আর ভালো লাগে না। এমন সময় অটো ছেড়ে দেয়। অটো ছেড়ে দেওয়ার পর ওই শিক্ষার্থীর সাথে কথা হয় এই লেখকের। কি নাম তোমার? জিজ্ঞাসা করতেই বলে রাহাত (ছদ্মনাম)। কোন ক্লাসে পড়? রাহাত উত্তর দেয় নবম শ্রেণিতে। কার বদলে পরীক্ষা দিচ্ছো? কত টাকা নিয়েছো পরীক্ষা দিতে? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর না দিয়ে রাহাত একটি ইবতেদায়ী মাদরাসার নাম উল্লেখ করে বলে শুধু আমি না ওই বিদ্যালয়ের সব পরীক্ষার্থীই নকল পরীক্ষার্থী। এমন কি যে রুমে সে পরীক্ষা দিচ্ছে সেই রুমের অধিকাংশই তার মত বড় ক্লাসে পড়ে। রাহাত জানায়, সদ্য অনুষ্ঠিত জেডিসি পরীক্ষায় সে দিয়েছে। রাহাত আরো জানায়, বিগত তিন বছর ধরে একনাগারে সে পরীক্ষা দিয়ে আসছে। রাহাতের সাথে আরো অনেক কথা হয়। অধিকাংশ কথা প্রকাশ্য আনতে চাচ্ছি না সংগত কারণেই। রাহাতের কথা শুনে চোখ যেন কলাপে উঠে গেলে। কি বলে নবম শ্রেণি পড়ুয়া রাহাত। কিভাবে রাহাতের মত কিশোররা সুস্থ আদর্শ নাগরিক হয়ে গড়ে উঠে দেশের মঙ্গল করবে। যে শিক্ষকদের তাদের সৎ আদর্শবান মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার কথা আজ সেই শিক্ষকরাই সংঘবন্ধ ভাবে তাদের শিখাচ্ছে কিভাবে অসৎ ও নীতি নৈতিকতাহীন মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে হয়।

সারাদেশের সর্বস্তরের মাদরাসার গুলোর শিক্ষার্থীর সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে। বিগত দশ বছরে শিক্ষার্থীর সংখ্যা আরো দ্রুত কমেছে। সারাদেশের ন্যায় গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার চিত্র প্রায় একই রুপ। বহুদিন ধরে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় মাদরাসাগুলো প্রক্সি পরীক্ষার্থী দিয়ে পরীক্ষা দিয়ে আসছে এমন কথা শুনে ও জেনে আসলেও আজ হাতেনাতে প্রমান পেলাম। এই রুপ অনৈতিক ও অন্যায় উপায়ে মাদরাসাগুলো তাদের এমপিও (সরকারি বরাদ্দ অংশ) ঠিক রাখার চেষ্টা করছে। একজন শিক্ষক হয়ে কেমন করে কোমলমতি কিশোর এই শিক্ষার্থীদের দিয়ে এমন সংঘবন্ধ অন্যায় কর্ম করাচ্ছি আমরা। অন্যায়ের প্রভাব পড়ছে ওই শিক্ষার্থী সহ অপরাপর শিক্ষার্থীর সারা জীবনে। প্রকৃত মানুষ হওয়ার বদলে শিক্ষার্থীরা ক্রমেই অমানুষ হিসেবে গড়ে উঠছে। যার প্রমান সমাজের দিকে দৃষ্টি দিলে দৃষ্টিগোচর হয়।

গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার রামকৃষ্ণ বর্মন জানান, সমাপনীতে প্রক্সি পরীক্ষার্থীর অভিযোগের সত্যতা রবিবার কাঁঠালবাড়ী কেন্দ্রে পাওয়া যায়। ওই কেন্দ্রে প্রক্সি পরীক্ষার্থী রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি আরো জানান, অন্যান্য কেন্দ্রে প্রক্সি পরীক্ষার্থীর অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Comments

comments