সর্বশেষ সংবাদ

পলাশবাড়ীতে ভূয়া বিবাহ প্রতারণা নিয়ে তোলপাড় থানায় অভিযোগ দায়ের

আরিফ উদ্দিন, স্টাফ রিপোর্টার, গাইবান্ধা থেকে: গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে ভূয়া বিবাহ প্রতারণার অভিযোগ নিয়ে তোলপাড় চলছে। প্রতারণার শিকার ভিকটিম থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছে। যা তদন্তের অপেক্ষা আছে মাত্র।

থানায় দায়েরকৃত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার হরিনাথপুর ইউনিয়নের হরিনাবাড়ী গ্রামের মৃত মেহের আলীর কন্যা ভূয়া বিবাহ প্রতারণার শিকার ভিকটিম মোছাঃ সাদা রানী (৪০)। সে একজন বিধবা ও তিন সন্তানের জননী। তার স্বামী মারা গেছে। স্বামীর অবর্তমানে পৈত্রিক বসতবাড়িতে বসবাস করেন। কিন্তু তার নিজ কনিষ্ঠ ভ্রাতার সাথে সুসম্পর্ক থাকার জের ধরে উপজেলার মনোহরপুর ইউনিয়নের খামার বালুয়া গ্রামের শাহ জালাল চৌধুরীর পুত্র জামিরুল ইসলাম (৪৫) ভিকটিম সাদা রানীর বসবাসরত বাড়িতে আসা যাওয়ার সুবাদে সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরবর্তীতে এলাকার লোকজনের সমালোচনা ও কানাঘুষা ঠেকাতে বিবাদী জামিরুল ইসলাম ও তার সহযোগি মনোয়ারুল ইসলামের যোগসাজসে এক ভূয়া কাজী ডেকে এনে ২০ হাজার টাকার দেনমোহর ধার্য করে বিবাহের কাবিননামা রেজিষ্ট্রির চেষ্টা চালায়। এতে ভিকটিম সাদা রানীর আপত্তি প্রকাশ থাকায় পরবর্তীতে বিবাদী জামিরুল ও মনোয়ারুলসহ অপরিচিত তিনজন লোক ভিকটিমের বাড়িতে আসে এবং অপরিচিত একজনকে কাজী পরিচয়ে দেড় লাখ টাকা দেনমোহরানা ধার্যে বিয়ে রেজিষ্ট্রি সম্পন্ন করেন। বাড়িতেও আসা যাওয়া করতে থাকেন। তবে বিবাদী জামিরুলের শর্তে প্রকাশ পায়, যেহেতু তার প্রথম স্ত্রী বর্তমান আছে। সেহেতু বিয়ে রেজিষ্ট্রির কথা গোপন রাখা প্রয়োজন।

ভিকটিম আরো উল্লেখ করেন, গত আগষ্ট মাসের শেষদিকে বিবাদীর কাছে বিবাহ রেজিষ্ট্রি কাগজ চাইলে তিনি তা দিতে অস্বীকার করেন। সরকারি ভাবে কাবিননামা হয়নি মর্মেও উল্লেখ করেন। যা নিয়ে গ্রামে একাধিক শালিশী বৈঠক হলেও লোকজনের কাছে হেয়প্রতিপন্ন হওয়ার এক পর্যায়ে বিবাদী তিন বছর ঘর-সংসারে আবদ্ধ থাকার পর গত ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯ তারিখে স্বীকার করেন কাবিননামার কপিটি মৃত কাজী জয়নালের বাড়িতে আছে। যা সঠিক না হওয়ায় প্রাণহানির আশংকায় রয়েছেন। ভিকটিম সাদা রানী ঢাকায় পোষাক শিল্প কারখানায় চাকুরত থাকাকালীন সময়ে নানা কৌশলে বিবাদী তার জমানো প্রায় ২ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। এমন প্রতারিত ভিকটিম ন্যায় ও সুবিচার পাওয়ার দাবিতে ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯ তারিখে পলাশবাড়ী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। যার তদন্তভার হরিনাবাড়ী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়েছে। হরিনাবাড়ী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ কামাল হোসেন জানান, অভিযোগ পাওয়া গেছে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Comments

comments