সর্বশেষ সংবাদ

ধামইরহাটে মৃত যুবলীগ নেতার লাশ হাসপাতালে মাটিতে পড়ে থাকা নিয়ে উত্তেজনা

মো.হারুন আল রশীদ, ধামইরহাট (নওগাঁ) প্রতিনিধিঃ
নওগাঁর ধামইরহাটে এক যুবলীগ নেতার মৃত্যু হয়েছে। তার লাশ হাসপাতালের মাটিতে পড়েছিল। মায়ের করুণ আর্তনাদেও নৈশপ্রহরীসহ সংশ্লিষ্ট কেউ লাশটিকে হাসপাতালের বারান্দায় ওঠাতে দেয়নি। বিষয়টি নিয়ে পরবর্তীতে চরম উত্তেজনা বিরাজ করে। নিহত ওই যুবকের নাম রবিউল ইসলাম (৪৫)। সে চকময়রাম গ্রামের মৃত ফয়েজ উদ্দিন মাস্টারের ছেলে এবং থানা যুবলীগের সহসভাপতি।

যুবলীগ নেতা রবিউল ইসলামের ভাতিজা এমএ মালেক বিপুল বলেন, গত ১০ জুলাই শনিবার রাত ১টার নিজ বাড়ীতে তার চাচা রবিউল ইসলামের বুকের ব্যথা শুরু হয়। পরবর্তীতে ওই রাতে কোন যানবাহন না পেয়ে রবিউল ইসলামের বৃদ্ধা মা মাজেদা বেগম (৭০) ও কাজের বুয়া আরজু (৪৫) কে নিয়ে হেঁটে হাসপাতাল অভিমুখে রওনা দেয় রবিউল। ধামইরহাটের ঘুকসি ব্রিজের নিকট এসে সে মাটিতে লুটে পড়ে। এ সময় একটি অক্টোতে করে তাকে হাসপাতালে নেয়া হয়। হাসপাতালের জরুরী বিভাগের কলাপসিবল গেট বন্ধ থাকায় তাকে ভেতরে নেয়া সম্ভব হয়নি। এদিকে গেট বন্ধ করে চিকিৎসক,উপসহকারী কমিউিনিটি মেডিকেল অফিসার ও নৈশপ্রহরী ঘুমিয়ে পড়ে। অনেকক্ষণ ধরে তাদেরকে ডাকাডাকির পর তারা ঘুম থেকে ওঠে। এ সময় কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা.প্রহল্লাদ কৃঞ্চ বর্মণ ঘুম থেকে ওঠে অক্টো গিয়ে রবিউল দেখে তাকে মৃত ঘোষনা করে চলে যান। পরবর্তীতে অক্টো গাড়ির চালক লাশটিকে হাসপাতালের জরুরী বিভাগের সামনে ফেলে চলে যায়। এ সময় রবিউলের অসহায় মা উপস্থিত উপসহকারী কমিউিনিটি মেডিকেল অফিসার রায়হান হোসেন রাজু কে অনুরোধ করেন তার ছেলের লাশটিকে হাসপাতালের বারান্দায় রাখা হোক। কিন্তু কেউ অসহায় মায়ের আর্তনাদে সাড়া দেয়নি। অনেকক্ষণ ধরে লাশটি জরুরী বিভাগের সামনে খোলা আকাশের নিচে পড়ে ছিল। বিপুল আরও বলেন,হাসপাতালের লাইট ও জরুরী বিভাগের যাওয়ার দরজা বন্ধ ছিল। এদিকে এ দুঃখজনক ঘটনায় আওয়ামীলীগ ও তার অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের মাঝে চাঁপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। এলাকাবাসী ও পরিবারের পক্ষ থেকে দোষীদের শাস্তি দাবী করেন। এব্যাপারে জেলা যুবলীগের সভাপতি এড.খোদাদাদ খান পিটু বলেন,থানা যুবলীগের সহসভাপতি ও থানা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলামের যদি এ অবস্থা হয়। তাহলে সাধারণ মানুষ হাসপাতালে কতটুকু সেবা পাচ্ছে সেটি ভেবে দেখা উচিত।

এব্যাপারে ডা.প্রহল্লাহ কৃঞ্চ বর্মণ বলেন, তাকে জানানো মাত্র তিনি ওই রোগিকে অক্টো গাড়ীতে দেখতে যান। তার যাওয়ার আগে সে মারা যায়। যেহেতু রোগি মারা গেছে তাই এ অক্টোতে করে বাড়ী নেয়ার কথা রোগির লোকজনকে জানিয়ে চলে আসি। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.আসাদুজ্জামান বলেন,ঘটনাটি নিঃসন্দেহে দুঃখজনক। উর্দ্বতন কর্তৃপক্ষের মোখিক নির্দেশে ওই দিন যাদের ডিউটি ছিল তাদের কাছ থেকে ঘটনা সম্পর্কে লিখিত প্রতিবেদন নেয়া হয়েছে। জেলা সিভিল সার্জন বিষয়টি নিয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করবেন।

Comments

comments