সুন্দরগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির ভয়াবহ রুপ বন্যা শিবিরে খাদ্য ও ওষুধ সংকট

মোঃ মোজাফ্ফর হোসাইন, সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধিঃ
টানা ১০ দিন ধরে পানিবৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহরুপ নিয়েছে। বন্যা শিবির গুলোতে দেখা দিয়েছে সুপেয় পানিসহ খাদ্য ও ওষুধ সংকট। উপজেলায় ২৫টি নির্ধারিত বন্যা শিবির ছাড়া বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠেছে ভ্রামম্যান আশ্রয় কেন্দ্র। গতকাল বুধবার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ফিরে দেখা তিস্তার চরাঞ্চলের বসতবাড়ির ঘরের চালে উঠে গেছে পানি। কোথাও ঠাই নেই চরবাসীর। বিভিন্ন চরাঞ্চল ঘুরে ফিরে দেখা গেছে, ঘরবাড়ি ছেড়ে গৃহপালিত পশুপাখি নিয়ে চরবাসী ছুঁটছে আশ্রয় কেন্দ্র, উঁচুস্থান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ এবং স্বজনদের বাড়িতে। উপজেলার তারাপুর, বেলকা, হরিপুর, চন্ডিপুর, শ্রীপুর ও কপাসিয়া ইউনিয়নের সবগুলো ওয়ার্ড এখন পানির নিচে। পানিবন্ধি পরিবারগুলো মানবেতর জীবন যাপন করছে। ডুবে গেছে তরিতরকারিসহ সব ফসলের ক্ষেত। পানি বন্ধি হয়ে পড়েছে ৬টি ইউনিয়নের কমপক্ষে ৩০ হাজার পরিবার। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারদের মাঝে এ পর্যন্ত ১০০ মেট্রিকটন চাল ও ১ হাজার কাটুন শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে হাজারও একক জমির মৌসুমি ফসল। বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে চরাঞ্চলের যোগায়োগ ব্যবস্থা। ঘরবাড়ি ছেড়ে যাওয়া পরিবারগুলো নৌ-ডাকাতির শঙ্কায় রয়েছে। অনেক চরবাসী রাত জেগে ঘরের চালে দাঁড়িয়ে থেকে বাড়ি পাহাড়া দিচ্ছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সোলেমান আলী জানান, পানিবন্ধি পরিবারদের মাঝে শুকনো খাবার, ত্রাণ সামগ্রী ও গো-খাদ্য বিতরণ অব্যাহত রয়েছে। ইতিমধ্যে ১০০ মেট্রিকটন চাল বিতরণ করা হয়েছে। আরও ত্রাণ সামগ্রীর জন্য চাহিদা পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া মাত্রাই তা বিতরণ করা হবে।

Comments

comments