সর্বশেষ সংবাদ

পলাশবাড়ীতে সংযোগ সড়ক অভাবে নির্মিত স্বপ্নের সেতু ব্যবহার থেকে এলাকাবাসি বঞ্চিত

আরিফ উদ্দিন, স্টাফ রিপোর্টার, গাইবান্ধা থেকে : গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে প্রায় ৫৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয়েছে দীর্ঘ প্রতিক্ষিত স্বপ্নের সেতু। কিন্তু সংযোগ সড়ক অভাবে সেতুটি কোন কাজেই আসছেনা।
সেতুটি নির্মানের ৩ বছর গত হলেও ব্যবহার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন স্কুল-কলেজগামী অসংখ্য শিক্ষার্থীসহ এলাকার সর্বস্তরের বৃহৎ জনগোষ্ঠী।
উপজেলার মহদীপুর ইউপি’র ছোট ভগবানপুর প্রধানপাড়া ও বেতকাপা ইউপি’র পূর্ব নয়ানপুর গ্রামের দক্ষিণপাড়ায় সীমান্তবর্তী নলেয়া খাল। এ খালের ওপর ত্রাণ ও দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের অর্থায়নে গত ৩ বছর আগে বিগত ২০১৭-২০১৮ খ্রি. অর্থ বছরে প্রায় ৫৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ৬০ ফিট সেতু নির্মান করা হয়।
সেতুটির কংক্রিটে আঁটানো ফলকে বেতকাপা ইউপির পূর্ব নয়ানপুর দক্ষিণপাড়া হতে মহদীপুর ইউপির ফুঁটানির বাজার সড়কের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সেতুটি ব্যবহারের নিমিত্তে সেতু পর্যন্ত আজও নির্মিত হয়নি যাতায়াতের জন্য কোন সংযোগ সড়ক।
সেতু ব্যবহার থেকে বঞ্চিত পূর্ব নয়ানপুর গ্রামের সাইফুল ইসলাম জানান, বেতকাপা ইউপি’র পূর্ব নয়ানপুর ও পবনাপুর ইউপি’র গোপিনাথপুর গ্রামের ভুক্তভোগী মানুষজন তাদের নিত্য প্রয়োজনীয় রবি শস্য ছাড়াও বিভিন্ন কৃষিপণ্য ক্রয়-বিক্রয়সহ নানা প্রয়োজনে সেতু ব্যবহার থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছেন। তারা নলেয়া খালের ওপর দিয়ে ফুটানির বাজার-ঢোলভাঙ্গা বাজার, কিংবা আমলাগাছীহাট হয়ে অন্যান্য হাট-বাজারসহ প্রয়োজনীয় বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়াত করছেন।
এছাড়া উল্লেখিত ওই দুই গ্রামের বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা থেকে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরাও নিত্য-নৈমত্তিক বিপরীত রাস্তা ব্যবহার করতে করতে হাঁপিয়ে উঠেছে। তারা নলেয়া খাল পার হয়ে ছোট ভগবানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আমলাগাছী ডি.ইউ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ, আমলাগাছী বিএম উচ্চ বিদ্যালয়, ঢোলভাঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ ও ঢোলভাঙ্গা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় সমূহের যাতায়াত করছেন।
স্থানীয় অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গামী শিক্ষার্থীসহ এলাকাবাসীরাও নির্মিত সেতু ব্যবহার থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছেন। সেতু ব্যতিত ওই নলেয়া খাল পারাপারের মধ্যদিয়েই শিক্ষার্থীসহ ভুক্তভোগীদের নিয়মিত যাতায়াত করতে হচ্ছে।
পূর্ব নয়ানপুর গ্রামের শিক্ষার্থী সোহেল ও শাকিল মিয়া জানান, দীর্ঘ সময় ধরে ওই দুই গ্রামের মানুষরা নলেয়া খাল পারাপারে বাঁশের সাকোই ছিল তাদের একমাত্র ভরসা। বছরের পর বছর জনভোগান্তির পর অবশেষে নলেয়া খালের ওপর স্বপ্নের সেতু নির্মাণ করা হয়। কিন্তু অবিশ্বাস্য হলেও সত্য নির্মিত সেতুর সংযোগ থেকে মুল সড়ক সংযোগের দূরত্ব মাত্র ৩শ’ মিটার।
মাত্র দূরত্বটুকু মাটি ভরাটের মাধ্যমে সেতুটির সাথে সংযোগ রাস্তা না করায় জনদুর্ভোগ কোনক্রমেই যেন পিছু ছাড়ছে না ওই দুই গ্রামের সর্বস্তরের মানুষের।
বর্ষা মৌসুমে ভুক্তভোগীদের দূর্ভোগ আরো চরমে উঠে। নানমুখি সমস্যা বেড়ে যায় কয়েকগুন। জমিতে পানি ওঠায় ওই রাস্তা কিংবা সেতুর ওপর দিয়ে চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। সে সময় বিকল্প রাস্তা দিয়ে অতিরিক্ত ৪/৫ কি.মি. পথ পাড়ি দিয়ে ভূক্তভোগী মানুষগুলোকে পৌঁছতে হয় তাদের যারযার গন্তব্যে।
ভূক্তভোগীদের অভিযোগ, সেতুটির প্রশস্ততা ৬০ ফিট। চলাচল করতে হয় মাত্র এক ফিট প্রশস্ত রাস্তা দিয়ে তথা জমির আইল দিয়ে। রিক্সা-ভ্যানতো দুরের কথা এ পথে বাইসাইকেল আরোহীকে পায়ে হেঁটে ক্ষেতখামারের মধ্যদিয়ে চলতে হয়।
অপরদিকে ওই সরুপথ দিয়ে উভয় দিক থেকে একইসাথে দু’জন পারাপার করতে চাইলে তবে একজনকে অবশ্যই ক্ষেতের কাঁদাজলে নামতেই হয়। কে থাকবে আইলে বলা কে নামবে কাঁদাজলে এনিয়ে অনেক সময় মৃদু তর্কবিতর্ক থেকে হাতাহাতির ঘটনা পর্যন্তও ঘটছে।
এ ব্যাপারে মহদীপুর ইউপি চেয়ারম্যান তৌহিদুল ইসলাম মন্ডল বলেন ইউনিয়ন পরিষদের আওতায় ওই রাস্তাটি পর্যাপ্ত প্রশস্ত নয়। রাস্তাটি প্রয়োজনীয় প্রশস্ত করার জন্য দু’পাশের জমির মালিকদের সঙ্গে কথা বলা শুরু করেছি। কথা ফলপ্রসূ হলে চলমান চল্লিশ দিনের কর্মসূচীর আওতায় সেতু পর্যন্ত সংযোগ সড়কটি মাটি কেটে ভরাটের মাধ্যমে সংযোগ স্থাপন করার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি জানান।

Comments

comments