সর্বশেষ সংবাদ

ফুলছড়িতে শারদোৎসব উপলক্ষে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন প্রতিমা তৈরির কারিগররা

1মোঃ আমিনুল হক, ফুলছড়ি থেকে : গাইবান্ধার ফুলছড়িতে শারদীয় দুর্গাপূজাকে সামনে ১৩টি পূজামণ্ডপে চলছে প্রতিমা তৈরির কাজ। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রতিমা তৈরির কাজে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন প্রতিমা তৈরীর কারিগররা। একই সঙ্গে শরতের দুর্গোৎসবকে পরিপূর্ণভাবে সাজাতে দিনরাত মন্দিরগুলোতে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি।
আগামী ১ অক্টোবর থেকে সারাদেশে শুরু হচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। শারদীয় এ উৎসবকে সামনে রেখে ফুলছড়ি উপজেলার ১৩টি পূজামণ্ডপে প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় অতিবাহিত করছেন কারিগররা। প্রতিমা তৈরির কারিগরদের সাথে কথা হলে তারা জানান, খড়কুটা, পাট সুতা, বাঁশ ও মাটি দিয়ে কাঠামো তৈরির মধ্য দিয়েই প্রথম প্রকাশ হয় শিল্পীর প্রতিমা তৈরির দক্ষতা ও শিল্পীত রূপ। এখন প্রতিমার মাটির কাজ চলছে। পূজা শুরুর দু’দিন আগে প্রতিমাতে শেষ তুলির আঁচড় দেয়া হয়ে থাকে। এরপর প্রতিমার গায়ে রঙ-তুলির কাজ শেষে অলংকার জড়ানো ও বস্ত্র আচ্ছাদনের পরই শুরু হয় পূজার মূল পর্ব। প্রতিমা তৈরী, রঙ, অলংকার জড়ানো ও বস্ত্র আচ্ছাদনের কাজে শ্রেষ্ঠত্বের খেতাব অর্জনের মৃিশল্পীরা তাদের সমস্ত শিল্পীসত্তা দিয়ে অঘোষিত প্রতিযোগিতায় মেতে উঠে। দুর্গাপূজার প্রতিমা ৫ ভাগে বিভক্ত থাকে। মূল কাঠামোর এক ভাগে থাকে দশ হাতরূপী (দশভূজা) দুর্গা, বাহন সিংহ, পদতলে মহিষ ও অশুভ শক্তির ধারকরূপী অসুর। অপর ৪ ভাগে লক্ষ্ণী, সরস্বতী, কার্তিক ও গণেশের আলাদা কাঠামো থাকে। দুর্গার প্রত্যেক হাতে থাকে শঙ্খ, চক্র, ত্রিশূলসহ বিভিন্ন উপকরণ। মহিষ ও অসুর বধের প্রতীকই হচ্ছে অশুভ শক্তির বিনাশ। প্রতিমা তৈরির কারিগর ধর্ম নারায়ণ (৫০) বলেন, বিভিন্ন ডিজাইন ও কারুকাজের মাধ্যমে প্রতিমা তৈরি করতে সময় লাগে দেড় মাস। যথাসময়ে প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ করতে রাত-দিন কাজ করে জোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন কারিগররা। তবে বৃষ্টির কারণে প্রতিমা শুকাতে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। এ বিষয়ে উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি সুশীল চন্দ্র বর্মণ জানান, অশুভ শক্তি বা অসুর শক্তির বিনাশ ঘটিয়ে শুভ সুর শক্তির প্রতিষ্ঠা করাই দুর্গাপূজার মূল দর্শন। উঁচু-নিচুর বিভেদ ভুলে সমাজের সকল স্তরের মানুষকে একত্রিত করে মহা-সম্মেলন ঘটানো হয় বলে এ পূজাকে বলা হয় সার্বজনীন দূর্গা পূজা। সম্প্রীতির দেশ হওয়ায় এখানে আমরা শান্তিপূর্ণভাবে সকল ধরনের পূজা, উদ্‌যাপন করতে পারি। এজন্য তিনি অন্যান্য ধর্মালম্বীদের সাধুবাদ জানান। ফুলছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মশিউর রহমান বলেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন যাতে নির্বিঘ্নে ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপন করতে পারে সে লক্ষে প্রশাসনের পক্ষ সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহন করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই প্রতিটি মন্দিরে স্বেচ্ছাসেবক দল গঠন করে পাহাড়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
ফুলছড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ হাবিবুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ হচ্ছে সম্প্রীতির সেতুবন্ধনের দেশ। আমরা চাই সকল ধর্ম-বর্ণ মিলে ঐক্যবদ্ধ ভাবে এই ঐতিহ্য ধরে রাখতে। তিনি বলেন, ফুলছড়ি উপজেলায় ১৩টি পূজামণ্ডপে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সার্বজনিন দুর্গাপূজা উদযাপনের লক্ষ্যে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে।

Comments

comments