সর্বশেষ সংবাদ

গোবিন্দগঞ্জের উন্নয়ন ভাবনার প্রাসঙ্গিকতা

মোস্তফা কামাল সুমন: বহুদিন ধরেই গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের উন্নয়ন ভাবনার প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে বলে আসছি। কিন্তু হঠাৎ করে আজ এই লেখা যখন পুনরায় লিখছি তখন আমি ঢাকার পথে। বহুল প্রত্যাশিত গোবিন্দগঞ্জ সমিতির ঢাকার কেন্দ্রিয় অফিসের উদ্ধোধনে থাকার জন্য এই ঢাকা যাত্রা। গোবিন্দগঞ্জ সমিতির এই অফিস উদ্ধোধনের সাথে আমার ব্যক্তিগত আবেগ জড়িত। ২০০৮ সালে আমি আর শাহরিয়ার খসরু লাবলু ভাই মিলে অপরাপর ভাইদের সহযোগিতায় গোবিন্দগঞ্জ সমিতি পুনরায় সংগঠিত করার চেস্টা করে সংগঠিত করি। সেই পুনরায় সংগঠিত হওয়ার দিন দুয়েক পরেই অতিরিক্ত পরিশ্রমে আমার টাইফয়েড ধরা পড়ে। এই টাইফয়েডের মাত্রা এতো বেশি ছিল যে আমি যে বেঁচে আছি তা একমাত্র আল্লাহ তায়ালার বিশেষ রহমতে। টাইফয়েডের জ্বর থার্মোমিটার উচ্চস্তর ক্রস করে যেত বলে ডাক্তার ও আমার পরিবার আমাকে পরে বলেছিল। দীর্ঘস্থায়ী টাইফয়েডের কারণে আমার একুশে টেলিভিশনে যোগদান করাও হয়নি। যদিও আমি আর ঢাকায় থাকি না। গোবিন্দগঞ্জেই স্থায়ী ভাবে বসবাস করছি। একটা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকতার সাথে প্রাণোধিক প্রিয় গোবিখবর (অনলাইন নিউজ পোর্টাল) সহ অপরাপর কার্য নিয়ে আছি। তবুও গোবিন্দগঞ্জ সমিতির ঢাকার অফিস উদ্বোধন নিয়ে আবেগ সীমাহীন।

আত্মকথন নাতিদীর্ঘ করে ফেলায় ক্ষমা প্রার্থী হয়ে মূল কথায় ফিরে আসছি। গোবিন্দগঞ্জের উন্নয়ন ভাবনার প্রাসঙ্গিকতা বোঝার মত গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তির সংখ্যা হাতে গোনা। সবাই আছে রুটিন উন্নয়নের ঢাকঢোল বাজাতে। কেউই বুঝতে চাচ্ছে না যৌক্তিক কাঙ্খিত উন্নয়নের। যে উন্নয়ন সারাদেশের রেসিও অনুসারে পাওয়া যায় তাকে রুটিন উন্নয়ন হিসেবেই বলছি। একটা উদাহরণ দেই, সরকার সারাদেশের মাদরাসা গুলোর জন্য দুই হাজার বহুতল একাডেমিক কাম প্রশাসনিক ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নিয়ে তা বাস্তবায়ন করছে। সংসদের আসন প্রতি প্রায় বরাদ্দ ছয়টি ভবন। গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা এক সংসদীয় আসন হওয়ায় এখানেও ছয়টি মাদরাসার ভবন বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এটা রুটিন উন্নয়ন। এখানে রাজনৈতিক নেতাদের তেমন কোন ভূমিকা নেই। যদিও গাইবান্ধা জেলার মধ্যে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় মাদরাসার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। এখন রাজনৈতিক নেতারা যদি ছয়টি ভবনের বরাদ্দের অতিরিক্ত আর ১০টি ভবন আনতে পারতো উপজেলার জন্য সেটা হতো উন্নয়ন তথা কাঙ্খিত উন্নয়ন। কারণ প্রাপ্ত বরাদ্দ চাহিদার তুলনায় অনেক কম। আর বেশি মাদরাসা থাকায় আরো বেশি বরাদ্দ পাওয়াও ছিল স্বাভাবিক। কিন্তু কাঙ্খিত উন্নয়ন না বোঝা রাজনৈতিক নেতাদের জন্য গোবিন্দগঞ্জ বঞ্চিত হলো।

শুধু রাজনৈতিক নেতাদের একক ভাবে দোষ দিয়েও লাভ দেখছি না। কারণ সুশীল নাগরিক সমাজও গোবিন্দগঞ্জে উন্নয়নকামী নয়। তারা নিজেদের ছোট খাটো সুবিধা নিয়েই ব্যস্ত। আর গোবিন্দগঞ্জের সমস্যা সম্ভাবনা যারা তুলে ধরবে সেই সাংবাদিকদের কথা আর নাই বা বললাম! গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা একটি প্রেসার গ্রুপ শুণ্য উপজেলা। এরকম উপজেলা দেশে আর একটিও আছে কিনা আমার জানা নেই।

গোবিন্দগঞ্জে কাঙ্খিত উন্নয়ন কখনো হবে না এমন বিশ্বাসী মানুষের দলে আমি নেই। এই বছরের মধ্যেই গোবিন্দগঞ্জ সমিতির কেন্দ্রিয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। সেই লক্ষ্যেই সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি গঠন করা হয়েছে। সম্মেলনে যারাই গোবিন্দগঞ্জ সমিতির দায়িত্ব পাক না কেন তারা যেন সমিতিকে একটি যোগ্য আদর্শিক প্রেসার গ্রুপ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে। কারণ প্রেসার গ্রুপ ছাড়া গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কাঙ্খিত উন্নয়ন সত্যিই কঠিন হবে।

Comments

comments

Leave a Reply