সর্বশেষ সংবাদ

গোবিন্দগঞ্জে রংপুর চিনিকলের সাহেবগঞ্জ খামারে সাঁওতালদের পুনরায় দখলী বসতি স্থাপন

প্রচ্ছদ ছবি শাহ আলম সাজুর ফেসবুক থেকে নেওয়া

মোস্তফা কামাল সুমন: রংপুর চিনিকলের একমাত্র বাণিজ্যিক খামার সাহেবগঞ্জ বাগদা ফার্মের জমিতে জোরপূর্বক দখলী ঘর তুলেছি সাহেবগঞ্জ বাগদা ফার্ম ভূমি উদ্ধার কমিটির সদস্যরা। তারা খামার পশ্চিম অংশের মাদারপুর জয়পুর পাড়ার সন্নিকটে এই বসতি স্থাপন করে। প্রত্যক্ষদর্শীর বরাত মতে সাহেবগঞ্জ বাগদা ফার্ম ভূমি উদ্ধার কমিটির সাঁওতাল ও বাঙ্গালীরা প্রায় শতাধিক খড়ের ঝুপড়ি ঘর স্থাপন করে অস্থায়ী ভিত্তিতে বসবাস করে দখল বলবৎ করছে। রংপুর চিনিকলের জমি পুনরায় সাঁওতাল কর্তৃক দখলে উপজেলাবাসীর মাঝে উৎকন্ঠা দেখা দিয়েছে।

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মাদারপুর জয়পুর পাড়ায় বসবাসরত সাঁওতালরা প্রায় ৬/৭ বছর ধরে রংপুর চিনিকলের সাহেবগঞ্জ বাগদা ইক্ষু খামারের জমি তাদের পৈত্রিক সম্পত্তি বলে দাবী করে আসছে। এই দাবীর পক্ষে তারা নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনও পরিচালনা করে। কিন্তু ২০১৬ সালে ১ জুলাই ঈদুল ফিতরের প্রাক্কালে তারা হঠাৎ করেই খামারের প্রায় ৭ শতাধিক একক জমি দখল করে ঝুপড়ি বসতি ঘর স্থাপন করে। এই দখলের পর তারা ওই এলাকায় একক কর্তৃত্ব স্থাপন করে। পরবর্তিতে ওই বছর প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশে ৬ নভেম্বর খামারের জমি দখল মুক্ত করা হয়। দখলমুক্ত করা নিয়ে সারা বিশ্বের মিডিয়ার কাছে ভিন্ন চিত্র উপস্থাপন করে গোবিন্দগঞ্জ কে সাম্প্রদায়িক জনপদ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। কিন্তু বাস্তব ঘটনা ছিলো এক্কেবারেই ভিন্ন।

রংপুর চিনিকলের জমি দখল মুক্ত করার পরে সাড়া দেশের মানুষের ব্যাপক সহানুভূতি পায় সাঁওতাল ও তাদের সহযোগীরা। এরপর তারা তাদের দাবীর পক্ষে আরো জোড়ালো আন্দোলন শুরু সহ আইনী প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে। এভাবে তিন বছর অতিবাহিত হলেও আবারো হঠাৎ করে চলতি বছরের অক্টোবর মাসের মাঝামাঝিতে তারা খামারের জমিতে ঝুপড়ি বসতি ঘর স্থাপন করে দখল বলবৎ করতে শুরু করে। প্রশাসনের স্থানীয় পর্যায়ের প্রতিনিধিরা তাদের মৌখিক ভাবে নিবৃত্ত করার চেস্টা করলেও তারা তাতে কর্ণপাত করেনি।

রবিবার বিকাল ৫টায় রংপুর চিনিকলের সাহেবগঞ্জ বাগদা ফার্মে সাঁওতালদের বসতি স্থাপনের সতত্যা নিশ্চিত করে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার রামকৃষ্ণ বর্মন জানান, তাদের সাথে স্থানীয় প্রশাসনের আলোচনা হয়েছে। আলোচনায় তারা ২৩ অক্টোবরের মধ্যে বসতি সরে নেওয়ার অঙ্গীকার করেছিল। কিন্তু তারা তাদের অঙ্গীকার রক্ষা করেনি। তাদের বসতি এখনো বলবৎ আছে। এবিষয়ে প্রশাসনের উর্দ্বর্তন কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়েছে। উপরের নির্দেশ পাওয়া মাত্রই আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Comments

comments

Leave a Reply