সর্বশেষ সংবাদ

সংবাদ প্রকাশের পর ফুলছড়িতে বালিকা বিদ্যালয়ের মাঠে চাষকৃত  মাসকালাই উত্তোলন

আমিনুল হক, ফুলছড়ি (গাইবান্ধা) থেকে: গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার উদাখালী আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের খেলার মাঠে চাষ করা মাসকালাই সরানো হয়েছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় মাঠভর্তি যে মাসকালাই ছিল, রাতের আঁধারে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তা সরিয়ে ফেলেছে। ফলে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা সহ অন্যান্য বিনোদনের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

এর আগে গত ৭ অক্টোবর বিভিন্ন গণমাধ্যমে ‘ফুলছড়িতে বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ বন্ধ করে মাসকালাই চাষ’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদ প্রকাশের পর পরই শিক্ষার্থীর অভিভাবকরা বিষয়টি জানতে পেরে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এক পর্যায়ে ফেসবুক ও অন্যান্য গণমাধ্যমে ভাইরাল হলে টনক নড়ে স্থানীয় প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। তারা বিদ্যালয় মাঠে চাষকৃত মাসকালাই তুলে ফেলার নির্দেশ দেন। এরপরেই চাষকৃত মাসকালাই রাতে আঁধারে সরিয়ে ফেলা হয়। বিদ্যালয়ের দুইজন কর্মচারী জানান, প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে সম্প্রতি খুব ভোরে মাসকালাইগুলো তারা সরিয়ে ফেলেছেন।

শনিবার (১৯ অক্টোবর) সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, উক্ত বিদ্যালয়ের মাঠে ছাত্রীরা খেলছেন। কিছু কিছু শিক্ষার্থী মাঠে বসে গল্প করছেন অথবা বই পড়ছেন। মাসকালাই চাষের বিষয়ে কথা হয় তাদের সাথে। বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী বিথী আক্তার বলেন, বিদ্যালয় মাঠের মাসকালাই সরিয়ে ফেলায় তাদের জন্য ভাল হয়েছে। কালাই থাকা অবস্থায় আমরা মাঠে বসে বান্ধবীর সাথে খেলতে পারতাম না। গল্প করতে ও বই পড়তে পারতাম না। মাসকালাই তোলার পর আমরা এখন মাঠের ভিতরে খেলতে পারি বান্ধবীদের নিয়ে গল্প করতে পারি। সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী শিমু আক্তার বলেন, বিদ্যালয় মাঠে যখন মাসকালাই ছিল তখন আমাদেরকে বাথরুম, টয়লেট ও পানি আনতে টিউবয়েলে অনেক খানি ঘুরে যেতে হত। এখন আমরা মাঠের ভিতর দিয়ে যেতে পারি। ৬ষ্ট শ্রেণির শিক্ষার্থী বাবলি আক্তার বলেন, আমরা এখন বিরতির সময় মাঠের ভিতরে খেলাধুলা ও ছোটাছুটি করতে পারি। বিদ্যালয় ছুটি হলে মাঠের ভিতর দিয়েই যেতে পারি।

এদিকে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বেশ কয়েকজন অভিভাবক বলেন, প্রধান শিক্ষকের সিদ্ধান্তেই বিদ্যালয়ের মাঠে মাসকালাই চাষ করা হয়েছিল। শিক্ষার্থীদের খেলার মাঠ বন্ধ করে কি জন্য মাসকালাই চাষ শুরু করল আবার সেগুলো সবার অজান্তে কেন উঠাল বিষয়টি বোধগম্য নয়। এর সঠিক তদন্ত হওয়া দরকার। দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা দরকার। দীর্ঘদিন বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির দায়িত্বে থাকা এক অভিভাবক জানান, বিদ্যালয়ের পাশেই আমার বাড়ি। আমি প্রায়ই বিদ্যালয়ে যাই। প্রধান শিক্ষক একক সিদ্ধান্তেই বিদ্যালয়ের অনেক কাজ করে থাকেন। তিনি বলেন, বর্তমান ফুলছড়ি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার অত্র উপজেলা যোগদানের পর কোনদিনেই বিদ্যালয়টি পরিদর্শনে আসেননি। আসলে তার দৃষ্টি গোচর হতো। প্রধান শিক্ষকও সতর্ক থাকতেন।

উদাখালী আদর্শ বালিকা বিদ্যালয়ের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুইজন সহকারি শিক্ষক বলেন, মাসকালাই চাষ করার বিষয়ে শিক্ষক/কর্মচারীরা প্রধান শিক্ষককে নিষেধ করলেও তিনি শোনেননি। তার একক সিদ্ধান্তেই বিদ্যালয় মাঠে মাসকালাই চাষ করা হয়েছিল।

উদাখালী আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ননী গোপাল বলেন, ম্যানেজিং কমিটি ও শিক্ষকদের সাথে আলোচনা করেই বিদ্যালয়ের মাঠে মাসকলাই লাগানো হয়েছিল। পরে বিদ্যালয় মাঠে মাসকলাই চাষের বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশ হওয়ার পর গাইবান্ধা জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের নির্দেশে বিদ্যালয় মাঠ থেকে মাসকলাই সরিয়ে ফেলা হয়। তিনি আরও বলেন, মাসকলাইয়ের কেবলমাত্র ফুল এসেছিল। মাসকলাইগুলো পরিপক্ব হতে আরও এক থেকে দেড় মাস সময় লাগতো। এ অবস্থায় বিদ্যালয় মাঠ থেকে মাসকলাই সরিয়ে ফেলা হয়েছে।

এ বিষয়ে গাইবান্ধা জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. এনায়েত হোসেন জানান, বিদ্যালয় মাঠে মাসকালাই চাষের বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশের পর আমার নজরে আসে। পরে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে মাসকালাই সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেয়া হয়। এ ঘটনায় প্রধান শিক্ষককে শোকজ করা হয়েছে। কেন, কি কারণে বিদ্যালয়ের মাঠে মাসকালাই চাষ করা হলো, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

Comments

comments