সর্বশেষ সংবাদ

ধামইরহাটে দেড় মাসের ব্যবধানে আবারও একই দোকানে দুর্ধর্ষ চুরি

মো.হারুন আল রশীদ, ধামইরহাট (নওগাঁ) প্রতিনিধি:
নওগাঁর ধামইরহাটে মাত্র দেড় মাসের ব্যবধানে একই মোবাইল ফোন দোকানে দুর্ধর্ষ চুরি সংঘটিত হয়েছে। চোরেরা দোকানঘরে প্রবেশ করে প্রায় ২ লক্ষ ৭০ হাজার টাকার মোবাইল সেট নিয়ে গেছে। ওই এলাকায় দোকান পাহারায় জন্য নৈশ্যপ্রহরী থাকা সত্বেও এ চুরির ঘটনার ব্যবসায়ীদের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

জানা গেছে,গত শুক্রবার রাতে চোরেরা ধামইরহাট থানা থেকে মাত্র দেড় কিলোমিটার দূরে আমাইতাড়া বাজারের সূচনা মার্কেটের মম মোবাইল ফোনের দোকানের ভেন্টিলিটর ভেঙ্গে প্রবেশ করে। চোরের দল প্রায় ২ লক্ষ ৭০ হাজার টাকার মোবাইল সেট চুরি করে নিয়ে যায়। এব্যাপারে মম মোবাইল ফোন দোকানের স্বত্বারিধকারী মো.মাসুদ পারভেজ কান্নাজরিত কন্ঠে বলেন,গত ৬ সেপ্টেম্বর তার দোকানে চোরের দল প্রবেশ করে নগদ ১ লক্ষ ৯২ হাজার টাকাসহ প্রায় সাড়ে ৮ লক্ষ টাকার মোবাইল ফোন চুরি করে নিয়ে যায়। অর্থের অভাবে তার ব্যবসা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। পরিবারের কাছ থেকে ধারদেনা এবং গত কয়েকদিন পূর্বে স্থানীয় গ্রামীণ ব্যাংক থেকে ২ লক্ষ টাকা ঋণ নিয়ে আবার তিনি মোবাইল ফোন দোকারের মালামাল ক্রয় করে দোকান শুরু করেন। এবার তিনি দোকানের সিসি ক্যামেরা তার নিজের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের সাথে যুক্ত করে। গত শুক্রবার রাত ১২টার দিকে সে তার মোবাইল ফোনের মাধ্যমে দোকানে বসানো সিসি ক্যামেরার সাহায্যে দোকানের পরিস্থিতি দেখে শুয়ে পড়ে। পরদিন শনিবার সকালে ফজরের নামাজ পড়ার জন্য ঘুম থেকে ওঠে মোবাইল ফোনে সিসি ক্যামেরার সংযোগ দেখতে না পেয়ে তাৎক্ষনিক দোকানে এসে দেখে চোরেরা ভেন্টিলিটর ভেঙ্গে ২৮টি এনড্রয়েট মোবাইল সেট চুরি করে নিয়ে গেছে। যার মূল্য প্রায় ২ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা। সিসি টিভির ফুটেজে পূর্বের কায়দার চোরের দল এবারও তার দোকান চুরি করে। তিনি ধারণ করছেন আগের দলই এবারও তার দোকান চুরি করেছে। অথচ ওই বাজার পাহারায় জন্য ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে ৪জন নৈশ্য প্রহরী পাহারায় ছিল। চুরি যাওয়া এলাকায় ওই দিন উপজেলার শালুককুড়ি গ্রামের ইব্র্রাহিম হোসেনের ছেলে আইয়ুব হোসেন (৩৫) নৈশ্যপ্রহরী হিসেবে দায়িত্বে ছিল। নৈশ্য প্রহরী থাকা সত্বেও একই দোকানে দেড় মাসের ব্যবধানে আবারও চুরি সংঘটিত হওয়ায় এলাকার ব্যবসায়ীদের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

এব্যাপারে ধামইরহাট থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো.মাহবুল আলম বলেন, দোকান চুরির বিষয়টি জানার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চারজন নৈশ্যপ্রহরীকে থানার নেয়া হয়েছে। তিনি আশা করছেন দ্রæত দুর্বৃত্তদের খোঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা হবে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছিল। বর্তমানে ধামইরহাটে খুন ও চুরির ঘটনা অনেক বেড়ে গেছে। এলাকাবাসী সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো আরও তৎপর হওয়ার আহবান জানিয়েছেন।

Comments

comments