সর্বশেষ সংবাদ

রংপুরে ১২ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মানহানির মামলার প্রতিবাদে সুন্দরগঞ্জে বিক্ষোভ সমাবেশ

জিল্লুর রহমান পলাশ, গাইবান্ধা থেকে:
দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশের জেরে রংপুর আদালতে যমুনা টিভি ও কালের কন্ঠসহ ১২ সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মীর বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মিথ্যা হয়রানীমূলক মানহানির মামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কর্মরত সাংবাদিকদের আয়োজনে পরিষদ চত্তরে এ মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধনে জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন গণমাধ্যমের কর্মরত সাংবাদিক ছাড়াও সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন রাজনৈতিক-সামাজিক সংগঠনের নেতাকর্মী, শিক্ষক ও সচেতন মহলসহ সাধারণ মানুষ অংশ নেয়।

মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলার তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়ে বক্তব্য রাখেন, সুন্দরগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আশরাফুল আলম লেবু, পৌর মেয়র আব্দুল্লাহ আল-মামুন, সুন্দরগঞ্জ উপজেলা জাসদের সভাপতি মুসলিম আলী মাষ্টার, সাধারণ সম্পাদক মুন্সি আমিনুল ইসলাম সাজু, নদী বাঁচাও দেশ বাঁচাও আন্দোলনের নেতা সাদেকুল ইসলাম দুলাল, সুন্দরগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি হবিবুর রহমান খান, সাংবাদিক রশিদুল আলম চাঁদ, ইমদাদুল হক, একেএম শামছুল হক, শাহজাহান মিয়া, কারী জায়েদ খান ও শেখ মামুন-উর-রশিদ প্রমূখ।

বক্তরা বলেন, পিআইও নুরুন্নবী গত ৫ বছরে সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পে লাগামহীন অনিয়ম-দুর্নীতি ও লুটপাট করেছেন। দুর্নীতির অসংখ্য অভিযোগ প্রমাণ ও তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা আছে। দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশের পর তাকে বদলি করে অধিদপ্তর। বদলির আদেশের পর সন্দ্বীপে যোগদান না করায় বর্তমানে স্ট্যান্ড রিলিজ হয়েছেন তিনি। পিআইও বদলি ঠেকাতে এবং পছন্দের উপজেলায় যোগদানের নানা তদবির-চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। একের পর এক দুর্নীতির গোমর যমুনা টেলিভিশন, কালের কণ্ঠসহ বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় ফাঁস হওয়ায় সাংবাদিকদের ওপর ক্ষুদ্ধ হন তিনি। পরে দুর্নীতি ঢাকতে ও নিজেকে সামাল দিতে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের ১২ সাংবাদিকসহ মানবাধিকারকর্মীর বিরুদ্ধে মানহানির অভিযোগে মিথ্যা হয়রানিমূলক পৃথক দুটি মামলা করেন তিনি।

বক্তারা আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করা প্রয়াস চালাচ্ছেন। ঠিক তখন কতিপয় দুর্নীতবাজ পিআইও নুরুন্নবী সরকার সাংবাদিকদের সত্য প্রকাশের পথ রুদ্ধ করে প্রধানমন্ত্রীর মহৎ উদ্যোগকে ব্যাহত করছে। মিথ্যা মামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানোসহ দুর্নীতিবাজ পিআইও নুরুন্নবীর দৃষ্টান্ত শাস্তির ব্যবস্থা নিশ্চিতের দাবি জানান তারা।

একই সঙ্গে অবিলম্বে সব সাংবাদিকের নামে করা মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা দ্রুতই প্রত্যাহার করতে হবে। অন্যথায় সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে স্মারকলিপি প্রদানসহ দেশব্যাপী কঠোর কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেন বক্তারা।

এদিকে, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দুর্নীতিবাজ পিআইও নুরুন্নবী সরকারের মামলার ঘটনা জানাজানি হলে ক্ষোভ, নিন্দা ও প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছে সাংবাদিক সমাজ, রাজনৈতিক নেতা, শিক্ষক ও সুশিল সমাজ। এ নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় প্রতিবাদ সভা, মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি অব্যহত রয়েছে।

উল্লেখ- গত ১৫ অক্টোবর রংপুর মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মানহানির অভিযোগে পৃথক দুটি মানহানির মামলা করেন সুন্দরগঞ্জের সাবেক পিআইও নুরুন্নবী সরকার। একটি মামলায় বিবাদি হলেন, যমুনা টেলিভিশনের সিএনই , মফস্বল ইনচার্জ, জেলা প্রতিনিধি জিল্লুর রহমান পলাশ, ইত্তেফাকের সুন্দরগঞ্জ প্রতিনিধি রশিঁদুল আলম চাঁদ, জনসংকেত প্রতিনিধি কারী আবু জায়েদ খান ও মানবাধিকার কর্মী মাহবুবার রহমান খাঁন।

অপর মামলায় কালের কন্ঠ’র সম্পাদক, বার্তা সম্পাদক, মফস্বল সম্পাদক ও সুন্দরগঞ্জ প্রতিনিধি শেখ মামুন-উর-রশিদ, জয়যাত্রা টিভির প্রতিনিধি সফিকুল ইসলাম অবুঝ ও ভোরের দর্পন পত্রিকার প্রতিনিধি একেএম শামছুল হককে বিবাদি করা হয়।

Comments

comments