সর্বশেষ সংবাদ

টাঙ্গাইলে টাকার জন্য স্বামীর বন্ধুর হাতে অন্তসত্ত্বা মা ও শিশু নিহত

হাফিজুর রহমান, টাঙ্গাইল প্রতিনিধি: মাত্র ৮ লাখ টাকার জন্য টাঙ্গাইলের ভালুককান্দিতে ঘরে ঢুকে সাত মাসের অন্তসত্ত¡া নারী ও তার চার বছরের শিশু কন্যাকে গলা কেটে ও কু’পিয়ে হ’ত্যা করেছে বলে পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে আসামী রাইজুদ্দিন। নৃ’শংস এ ঘটনার ২৪ ঘন্টার মধ্যেই হ’ত্যাকারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

রবিবার (১৩ অক্টোবর) রাতে অভিযান চালিয়ে টাঙ্গাইল পৌরসভার ভালুককান্দি এলাকা থেকে আসামী রাইজুদ্দিনকে (৩৬) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় চুরি যাওয়া ৮ লাখ টাকা ও হ’ত্যায় ব্যবহৃত ছুরি, দুইটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে টাঙ্গাইল পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায় এ তথ্য জানিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, আসামী রাইজুদ্দিন একজন ফল ব্যবসায়ী। সুকুমুদ্দিনের ছেলে আসামী রাইজুদ্দিনের বাড়ি টাঙ্গাইল সদর উপজেলার চরপাতুলি গ্রামে। আসামী রাইজুদ্দিন নিহতের স্বামী ফ্লেক্সি লোড ও বিকাশের ব্যবসায়ী আল আমিনের বন্ধু। আসামী পূর্বে থেকেই জানতো আল আমিনের বাড়িতে ৮ লাখ টাকা আছে। সেই টাকা লুটের জন্যই ঘটনার দিন শনিবার (১৩ অক্টোবর) রাতে বাসায় যায়। এ সময় আল আমিনের স্ত্রী লাকী বেগম (২২) বাসার গেট খুলে দেয়। স্বামী আল আমিনের বন্ধু আসামী রাইজুদ্দিন এই বাসায় এর আগে বহু বার এসেছে। স্বামীর বন্ধু হওয়ায় রাতে বাসার গেট খুলে দেয় লাকী বেগম। গেট খুলে দেয়ার পরপরই লাকীকে পেছন থেকে ধারালো ছুরি দিয়ে আঘাত করে। এতে সাত মাসের অন্তসত্তা লাকী মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।

এ সময় আসামী রাইজুদ্দিন মৃ’ত্যু নিশ্চিত করার জন্য লাকীর গলা কাটে এবং পেটে ছুরি চালিয়ে অনাগত বাচ্চাকেও হ’ত্যা করে। এ সময় লাকীর শিশু কন্যা হুমায়রা আক্তার আলিফা (৪) ঘর থেকে বেড়িয়ে এসে দেখে তার মা মাটিতে পড়ে আছে। এ সময় শিশু আলিফা চিৎকার করে আসামী রাইজুদ্দিনকে উদ্দেশ্য করে বলে ‘কাকু কি হয়েছে, আমার মা’কে মারছ কেন?” এই কথা শুনে আসামী রাইজুদ্দিন শিশু আলিফাকে ছুরি চালিয়ে হ’ত্যা করে। হ’ত্যার পর তাদের ঘর থেকে নগদ ৮ লাখ টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়।

পুলিশ সুপার আরও জানান, সোমবার (১৪ অক্টোবর) বিকালে আসামী রাইজুদ্দিনকে আদালতে উপস্থাপন করা হবে।

উল্লেখ্য, শনিবার (১৩ অক্টোবর) রাত ১২টার দিকে টাঙ্গাইল পৌরসভার ভালুককান্দী এলাকায় নৃ’শংস এ হ’ত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত লাকীর বাবার বাড়ি সদর উপজেলার হুগড়া ইউনিয়নের রামনগর গ্রামে। ঘটনার দিনই নিহত লাকির পিতা হাসমত আলী বাদি হয়ে টাঙ্গাইল সদর মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা আসামী করে হ’ত্যা মামলা দায়ের করেন।

Comments

comments