সর্বশেষ সংবাদ

পলাশবাড়ীতে বীরমুক্তিযোদ্ধার পরিবারের উপর একাধিক হামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

আরিফ উদ্দিন, স্টাফ রিপোটার গাইবান্ধা থেকে : গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে বীরমুক্তিযোদ্ধা নুরুন্নবী সর্দারের পরিবারের উপর একাধিক হয়রানিমূলক মামলা-হামলা ও হুমকি-ধামকিসহ বাড়ীতে উঠতে না দেয়ার প্রতিবাদে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গতকাল সোমবার উপজেলার পবনাপুর ইউনিয়নের বরকতপুর গ্রামের (খাঁপাড়ায়) বীরমুক্তিযোদ্ধা নুরুন্নবী সর্দারের নিজ বাড়ীতে সংবাদ সম্মেলনে তার ছেলে নান্নু মিয়া লিখিত বক্তব্যে বলেন, আমার বাবা বীরমুক্তিযোদ্ধা নুরুন্নবী সর্দার গত ১৩ আগস্ট বিকেলে গ্রামের খাঁপাড়ায় আলমগীরের দোকানের সামনে এলাকার কিছু উঠতি বয়সের যুবকরা দেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে গল্প শুনতে চায়। এসময় একই গ্রামের আজাহার আলী সোনার ছেলে আজাদুল ইসলাম এসে ওইসব আলোচনা করতে বাঁধা নিষেধ করে। আজাদুলের বাঁধা নিষেধ উপেক্ষা করে বীরমুক্তিযোদ্ধা নুরুন্নবী গল্প বলতে থাকেন। আজাদুল ক্ষিপ্ত হয়ে প্রথমে তাকে কিল-ঘুষি চর-থাপ্পর মারতে থাকে। ওই আজাদুলের হুকুমে মৃত ছমছেল সোনার ছেলে মোশারফ হোসেন (২৮)সহ অন্যান্যরা দেশীয় অস্ত্র-সস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বীরমুক্তিযোদ্ধার উপর হামলা চালিয়ে এলোপাথারী মারডাং করে ডান হাত ভেঙ্গে দিয়ে হাড় ভাঙ্গা, ছেলা-ফোলা রক্তাক্ত জখম করে। মুক্তিযোদ্ধার বড় ছেলে ফজলু ও আলমগীর তাদের বাবাকে উদ্ধারে এগিয়ে এলে তাদেরকেও হত্যার উদ্দেশ্যে ধাওয়া দিয়ে বেধরক মারপিট রক্তাক্ত হাড়কাটা জখম করে। এসময় স্থানীয়রা বীরমুক্তিযোদ্ধাসহ তাদের উদ্ধার করে প্রথমে পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে বীরমুক্তিযোদ্ধা নুরুন্নবীর অবস্থা গুরুতর হলে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। এ ব্যাপারে বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুন্নবী সর্দারের ছেলে নান্নু মিয়া বাদী হয়ে গত ২৩ আগস্ট ১০জনকে আসামী করে পলাশবাড়ী থানায় একটি মামলা (নং-১২/১৫৪) দায়ের করে।

তিনি আরো বলেন ওই মামলা দায়ের পর হতে আসামীগণ ক্ষিপ্ত হয়ে বাদীসহ মুক্তিযোদ্ধাকে হুমকি-ধামকি প্রদানসহ মামলা তুলে না নেওয়ায় পরবর্তীতে তোমাদেরকে আরো হয়রানিমূলক মামলা চাপিয়ে দেয়া হবে বলে জানান। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৮ আগস্ট খলিল মিয়া বাদী হয়ে (নং- ১৫/১৫৭) এবং ৩ সেপ্টেম্বর বজলু শেখ বাদী হয়ে (নং-০৫) পৃথক দু’টি হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করেন। পরপর মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের উপর দুটি হয়রানিমূলক মামলা চাপিয়ে দেয়। আসামীগণ বাদী নান্নু মিয়াকে বলে যে, মামলা তুলে না নিলে তোদের আর গ্রামে উঠতে দেয়া হবে না। আজ পর্যন্ত বীরমুক্তিযোদ্ধা পরিবারটি নিরাপত্তা হীনতাসহ পুলিশি গ্রেফতারের ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। এসময় বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুন্নবী সর্দারের ভাই মন্টু সর্দার, স্ত্রী ফাতেমা বেগম, মেয়ে দুলালী বেগম, নুরানী বেগম ও ফজিলা খাতুন উপস্থিত ছিলেন। এ ব্যাপারে বীরমুক্তিযোদ্ধা পরিবারটি মামলা সংক্রান্ত বিষয়ে পুলিশ বিভাগের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। আব্দুল মান্নান আকন্দ, উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক রেজাউল আলম রেজা প্রমুখ। পরে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার ও সনদপত্র প্রদান করা হয়।

Comments

comments