সর্বশেষ সংবাদ

আলোর পথযাত্রী আদিবাসী নারী মধুপুরের পিউ ফিলোমিনা ম্রং

সৈয়দ সাজন আহমেদ রাজু, ধনবাড়ী (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি:
একজন বিজ্ঞান মনষ্ক শিক্ষিকা। একজন দক্ষ সংগঠক। রাজপথের পরিক্ষিত নারী নেত্রী। কণ্ঠে যার জয় বাংলার ধ্বনি। একজন পুরস্কারপ্রাপ্ত শ্রেষ্ঠ নারী জয়িতা। একজন আদিবাসী নারী নেত্রী। সফল নারীবন্ধব। একজন আদর্শ মা। তিনি হলেন মধুপুর লাল মাটির গড়াঞ্চলের সফল নারী নেত্রী ও জলছত্র কর্পোস খ্রীষ্টি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা মিসেস পিউ ফিলোমিনা ম্রং।

জানা যায়, তিনি ১৯৬৬ সালে ২ফেব্রুয়ারী টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার জলছত্র সম্ভ্রান্ত গারো পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। জলছত্র গ্রামটি ছায়া সুনিবিড় চারপাশে নির্জন নিরিবিলি পরিবেশ। পাশেই দেশের ঐতিহ্যবাহী মধুপুরের শালবন। শালবনের প্রাকৃতিক মনোরম পরিবেশে তিনি বেড়ে উঠেন। প্রকৃতির মতোই তার মন উদার। তার বাবার নাম স্বর্গীয় যোগেশ জন মৃ। তার মাতার নাম নিরদা সেলিনা ম্রং। তিন ভাই ও পাঁচ বোন। তিনি বাবা মার আদরের ৫ম কন্যা। তিনি শৈশবে ছিলেন সবার আদরের। ছিলেন দুরন্তপনা। ছাত্র জীবনে তিনি শিক্ষকদের আদরের ছাত্রী ছিলেন। তিনি জলছত্র মিশনারী প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পঞ্চম শ্রেণী পাশ করে কর্পোস খ্রীষ্টি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে নিম্ন মাধ্যমিক পাশ করেন। মধুপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৮৩ সালে এসএসসি ও ১৯৮৫ সালে মধুপুর কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেন। ময়মনসিংহ নাসিরাবাদ কলেজ থেকে বিএসসি পাশ করেন। ১৯৯১ সালে তার বাড়ীর পাশে নিজে অধ্যয়ন করা বিদ্যালয় জলছত্র কর্পোস খ্রীষ্টি উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা শুরু করেন। শিক্ষকতা চলাকালে ময়মনসিংহ টিচার্স ট্রেনিং কলেজ থেকে বিএড এবং এমএড কোর্স করেন। এসএসসি পাশের পরেই তার বিয়ে হয়। ছাত্র জীবনেই তিনি ২ সন্তানের মা হন। বিয়ে ও সন্তান মানুষ করা সাংসারিক ঝামেলায় তার পড়াশোনাকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। অদম্য মেধা আর কঠোর অধ্যবসায়ের মাধ্যমে সফলতা অর্জন করেন। সংসার জীবনে তার দুই ছেলে। এক ছেলে কালবে চাকরী করেন। আরএক জন কিডনী সমস্যার কারণে চাকরী ছেড়ে দিয়ে বর্তমানে ভারত চিকিৎসাধীন রয়েছে। এ নিয়ে তিনি কিছুটা চিন্তিত।

১৯৯৬ সালে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনীতি শুরু করেন। ঐ বছরেই তিনি সংরক্ষিত মহিলা আসনে মনোনয়ন ফরম জমা দেন। পরে মধুপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটিতে তাকে মহিলা বিষয়ক সম্পাদক পদে নির্বাচিত করেন। একই সালে মধুপুর উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে নির্বাচিত হন। এরপর থেকে রাজনীতে সক্রিয় হয়ে উঠেন তিনি। অল্প দিনেই তিনি নিজের শ্রম কাম মেধা, শক্তি ও সাহস দিয়ে সবার মন জয় করতে সক্ষম হন। এ ভাবে তিনি পর পর তিন বার জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনের জন্য দৌড় ঝাঁপ করে যাচ্ছেন। তিনি নারীদের ঐক্যবদ্ধ করার জন্য এবং রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। নারী বান্ধব হিসেবে এগিয়ে যাচ্ছেন। তার নিজস্ব জাতি গোষ্ঠিদের জন্যও কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিকসহ বিভিন্ন কমিটিতে রয়েছেন। এছাড়াও তিনি কালব্, একটি বাড়ী একটি খামার, জয়েনশাহী আদিবাসী উন্নয়ন পরিষদ, আকুল, মনিকা সংঘ, ওয়াইএমসিএসহ নানা সংগঠনের সাথে যুক্ত আছেন। অবসরে তিনি খবরের কাগজ ও বই পড়তে পছন্দ করেন। শিক্ষিকা হিসাবে তিনি শিক্ষার্থীদের প্রিয়। এত ব্যস্ততার মাঝেও তিনি সমাজের বিয়ে শ্রাদ্ধ থেকে শুরু করে সামাজিক বিরোধ নিষ্পত্তিতেও কাজ করে যাচ্ছেন। নারী উন্নয়নে তিনি বিভিন্ন ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ফুলের বাগান ও সবুজ প্রকৃতি তার খুব পছন্দ। এ জন্য তিনি বাড়ীতে ফুলের বাগান সবজি ও ফলের বাগান করতে পছন্দ করেন। তিনি মধুপুরে নারী সংগঠক হিসাবে উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ জয়িতার পুরস্কার পেয়েছেন। তিনি জানান, আমার কাজ দেখে কেউ কেউ হিংসা করে। আমি তারদেরকে বলি বসে না থেকে কাজ করেন। আমার সুনামকে নষ্ট করার জন্য একটি মহল অপচেষ্টা করে যাচ্ছে। আমি তাদের অপচেষ্টার প্রতিবাদ জানাই। আমি সমাজের জন্য কাজ করি। সমাজ ও দলের নেতা কর্মীরা ও শুভাকাঙ্খীদের ভালবাসা দিয়ে ও নিয়ে চলতে চাই। আমি স্বামী সংসার নিয়ে সুখে শান্তিতে সবাইকে নিয়ে ভালভাবে চলি। তার নিজের জনগোষ্ঠি শিশুরা সুশিক্ষায় শিক্ষিত হবে এটাই তার প্রত্যাশা। আগামী দিনে নারীরা এগিয়ে আসবে সমাজের নানা সৃজনশীল কাজে । এটাই তার ভাবনা।

Comments

comments