সর্বশেষ সংবাদ

গোবিন্দগঞ্জে রংপুর চিনিকলের সাহেবগঞ্জ খামার রক্ষায় ২০ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা

মনজুর হাবীব মনজু, গোবিন্দগঞ্জ (গাইবান্ধা) থেকে: গাইবান্ধা জেলার একমাত্র কৃষিভিত্তিক ভারিশিল্প কারখানা মহিমাগঞ্জের রংপুর চিনিকলের মালিকানাধীন বাণিজ্যিক খামারে লুটপাট, সন্ত্রাসী কর্মকান্ড, সরকারী কাজে বাধাদান এবং মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবীতে ২০ দিনব্যাপী বিভিন্ন আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন শ্রমিক-কর্মচারী ও আখচাষীরা। রোববার বেলা ১২টায় চিনিকলের প্রধান ফটক প্রাঙ্গণে এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে যৌথভাবে এ কর্মসূচি ঘোষনা করে রংপুর চিনিকল শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়ন ও রংপুর চিনিকল আখচাষী সমিতির নেতৃবৃন্দ।

সংবাদ সম্মেলনে নেতৃবৃন্দ বলেন, ষাট বছর আগে তৎকালীন পাকিস্তান সরকার রংপুর চিনিকলের প্রয়োজনে সাহেবগঞ্জ বাণিজ্যিক খামার প্রতিষ্ঠার জন্য একহাজার আটশ’ চুয়ান্ন একর জমি সরকারি নিয়মে উপযুক্ত মূল্যে অধিগ্রহণ করে পূর্ব পাকিস্তান শিল্প উন্নয়ন সংস্থার (ইপিআইডিসি) কাছে ন্যাস্ত করে। বর্তমানে তা বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প সংস্থার (বিএসএফআইসি) সম্পত্তি হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে একটি চিহ্নিত মহল সহজ-সরল সাঁওতালদের ভুল বুঝিয়ে এগুলো তাদের বাপ-দাদার সম্পত্তি বলে তা দখলে প্ররোচিত করে। এরপর দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে সাঁওতালদের জমির প্রলোভন দিয়ে ডেকে এনে কিছু জমির আখ কেটে ফেলে কয়েকটি ঝুপড়ি তৈরি করে দখল নেয় সন্ত্রাসীরা। পরবর্তীতে দফায় দফায় চিনিকলের শ্রমিক-কর্মচারী, দায়িত্বরত আনসার এবং শেষ পর্যন্ত পুলিশ সদস্যদের ওপরেও হামলা করে তারা। তারা চিনিকল খামারের অফিস, মোটরযান ভাংচুরের পাশাপাশি পুলিশের আগ্নেয়াস্ত্র লুটপাটের ঘটনাও ঘটায়। এ পরিস্থিতিতে ২০১৬ সালের ৬ নভেম্বর প্রশাসন অভিযান চালিয়ে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করতে বাধ্য হয়। এ সময় সেখানে কেবলমাত্র প্রশাসনের সদস্য ও আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্য ছাড়া আর কেউ ওই এলাকায় ঢুকতে পারেনি। সে সময় সাঁওতালদের করা মামলায় শুধুমাত্র পুলিশ ও প্রশাসনের লোকজনের নাম আসামির তালিকায় থাকলেও পরবর্তীতে পিবিআই নতুন করে চিনিকলের শ্রমিক-কর্মচারী-কর্মকর্তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করে চার্জশীট প্রদান করে। এ ছাড়াও চিনিকলের নিজস্ব জমি চাষ করতে গেলে সাঁওতালদের সামনে রেখে শ্রমিক-কর্মচারীদের অপহরণ, মারপিট ও খামারের পুকুর থেকে প্রকাশ্যে লক্ষ লক্ষ টাকার মাছ লুট করে নিলেও রহস্যজনক কারণে তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয় না উপজেলা বা জেলার প্রশাসনিক কর্মকর্তারা। সরকারি এ সম্পদটি হাতে গোনা কয়েকজন সন্ত্রাসীর কয়েকটি তীর-ধনুকের ভয়ে ধ্বংস হওয়ার পথে গেলেও আধুনিক আগ্নোয়াস্ত্র আর প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত পুলিশ বা অন্যান্য আইনশৃংখলারক্ষা বাহিনী কি কারণে তা রক্ষায় এগিয়ে আসছেন না তা বোধগম্য নয়।

চিহ্নিত ভুমিদস্যুদের গ্রেফতার ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবীতে শেষে জনাকীর্ন এ সংবাদ সম্মেলন থেকে আগামি ৫ সেপ্টেম্বর থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত স্মারকলিপি প্রদান, মহাসড়কে মানববন্ধন, ঢাকা-রংপুর মহাসড়ক ও গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা সদরে বিক্ষোভ মিছিল, রাজপথ ও রেলপথ অবরোধ এবং অর্ধদিবস হরতালের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

Comments

comments