সর্বশেষ সংবাদ

তেল মর্দনে নির্লজ্জ দালালি সাংবাদিকতা

কোন কর্মকর্তা আসছেন আর কোন কর্মকর্তা যাচ্ছেন, তাদেরকে ফুল দিয়ে গ্রহণ-বিদায়ে ব্যস্ত সাংবাদিক কিংবা সাংবাদিক নামধারী অনেকে। আবার কেউ মহান, কেউ উদার-মানবিক আবার কাউকে সৎ কর্মকর্তার উপাধিও দিচ্ছেন।

তবে বাস্তব দৃশ্যপট বলছে, চাটুবাজ, ধান্দাবাজরা নির্লজ্জ দালালি সম্পর্ক-সখ্যতা গড়ে তোলাসহ নিজেদের অপকর্ম ঢাকতে তেলবাজিতে গুনগানে মুখে ফেনা তুলছেন। এদের কেউ কেউ আমলাদের দালাল আর পুলিশের ‘সোর্স’ হিসেবেও বিশ্বস্থ।

নাম সর্বস্ব, আন্ডারগ্রাউন্ড পত্রিকা-অনলাইন এবং আশা-প্রত্যাশা আর হাসি-তামাশা নামীয় টিভির পরিচয়ে গলায় কার্ড ঝুলিয়ে হাতে মাইক্রোফোন নিয়ে প্রশাসনিক আমলাদের তেল মর্দনে প্রতিযোগিতায় নেমেছেন অনেকে।

এছাড়া তথাকথিত মানবাধিকার সংগঠনের নিজেদেরকে ‘মানবাধিকার সাংবাদিক’ পরিচয় দিয়েও দাপিয়ে বেড়ান অনেকে। দাপট বাড়াতে তারা সাংবাদিকদের কোনো সংগঠনে নিজের নামটা লিখিয়ে নেয়, আর তা না হলে নিজেরাই ‘সাংবাদিক ক্লাব’ ‘রিপোর্টার ক্লাব/ইউনিট/ফোরাম’ ‘প্রেসক্লাব/উপজেলা প্রেসক্লাবসহ ভূইফোঁড় নানা সংগঠন খুলে বসেন।

তবে এসব সাংবাদিকদের পরোক্ষ ইন্দনে আছেন দায়িত্বশীল গণমাধ্যমের চিহ্নিত কিছু পেশাদার সাংবাদিক। অবশ্যই ইতোমধ্যে তাদের মুখোশ উন্মোচনও হয়েছে।

প্রতিদিনেই বিভিন্ন কর্মকর্তাদের প্রশংসা-সুনামের নানা কথা-চিত্র তুলে ধরছেন তারা। তবে এমন কথা-চিত্র শুধু ফেসবুকেই সিমাবদ্ধ!!!

থথথ—-আমলাদের নিয়ে ধান্দাবাজ-দালাল-সাংবাদিক নামধারীদের ফেসবুকে যে গুণগান-তেল মর্দন আর নির্লজ্জ দালালি চলছে তা শুধু টিয়া পাখি দিয়ে ভাগ্য গণনার মতোথথথ—-

“এই অপ-সাংবাদিকতা রোধকল্পে নামধারী সাংবাদিকদের পাশাপাশি নামধারী সাংবাদিক বানানোর কারিগর এবং নামধারী পত্রিকা, অনলাইনের সম্পাদক-প্রকাশের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা গ্রহণে সরকার ও আইনশৃঙ্খলাবাহীনির উদ্যোগ গ্রহণ জরুরী বলে বলেন মনে করেন পেশাদার ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকরা”

(((কাউকে উদ্দেশ্য নয়-বাস্তব দৃশ্যপটে লিখলাম। কিশোর বয়সে শুরু শখের সাংবাদিকতার দেড় যুগ চলছে। আপসাংবাদিকতা আছে থাকবেই, কিন্তু দেড় যুগে দেখা, কত অপসাংবাদিক যে হারিয়ে গেছে তার হিসেব নেই। সাংবাদিকতায় টিকে থাকলে হলে বেশি বেশি জানতে হবে, শিখতে হবে, বুঝতে হবে। আর যতটা সম্ভব দায়িত্বশীল ও পেশাদার সাংবাদিকের সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে হবে, যদিও তারা গালি বা বৈষম্য করেন, তবে সেটাই জ্ঞান-শিক্ষা মনে করতে হবে নতুন আর তরুণদের।

সহ্য-ধৈর্য্য নিজের লেখনি শক্তি থাকলেই হয়তো ভালো সাংবাদিক হওয়া যাবে। আর মনে রাখতে হবে, কপি পেস্ট তো নয়ই সঙ্গে তেলবাজ কিংবা ফিতা কাটা প্রোগ্রামের নিউজ পরিহার করে দেখা, জানা, সমস্যা-সম্ভাবনাসহ মানুষের কল্যাণ হয় এমন নিউজ লেখার প্রতি চর্চা বাড়াতে হবে)))

লেখক : জিল্লুর রহমান পলাশ, গাইবান্ধা প্রতিনিধি যমুনা টেলিভিশন, দৈনিক যায়যায়দিন ও বাংলা ট্রিবিউন।

Comments

comments