সর্বশেষ সংবাদ

ভারত সফরে যাচ্ছে কাহালু  থিয়েটার

গোবিখবর ডেস্ক: বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটারের অন্যতম সংগঠন বগুড়ার কাহালু থিয়েটারের নিজস্ব কার্যালয়ে সম্প্রতি একটানা চারদিনব্যাপী প্রযোজনা ভিত্তিক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। কর্মশালাটি পরিচালনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের “থিয়েটার এন্ড স্টাডিজ” বিভাগের শিক্ষক নাট্যজন ড. সাইদুর রহমান লিপন, বগুড়া থিয়েটার ও ঢাকা থিয়েটারের সদস্য বিশিষ্ট মঞ্চ ও টেলিভিশন অভিনেতা রুবল লোদী এবং কাহালু থিয়েটারের সভাপতি আব্দুল হান্নান। বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটারের প্রতিষ্ঠাতা নাট্যাচার্য ড. সেলিম আল দীন রচিত “ গ্রন্থিকগণ কহে” নাটকটির প্রযোজনা ভিত্তিক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয় ১৪ আগষ্ট থেকে ১৭ আগষ্ট প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৯ টা থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত। কর্মশালায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়েছিলেন কাহালু উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাসুদার রহমান, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট বগুড়ার সাধারণ সম্পাদক সাঈদ সিদ্দিকী, বগুড়া ইয়ূথ কয়্যারের সভাপতি আতিকুর রহমান মিঠু, বগুড়া বাউল গোষ্ঠীর সাধারণ সম্পাদক মাসউদ করিম।

নাটকের গল্পে উঠে আসে মানিকগঞ্জের একটি যাত্রা দলের পেছনের নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে টিকে থাকার গল্প। মড়ু ঘোষালের যাত্রা দলের নাম “দি নিউ ঘোষাল অপেরা”। সাত দিনের জন্য যাত্রা দলটির বায়না হয় কেরানীগঞ্জে। যাত্রাদলটি মহড়া শেষে কেরানীগঞ্জের পথে রওনা হয়। নায়ক শাকামালের প্রতি নায়িকা নিশির সবসময় দূর্বলতা থাকলেও সে কখনই তা মুখে প্রকাশ করেনা। এদিকে শাকামাল প্রবল ব্যক্তিত্বের অধিকারী হওয়ায় নিশির প্রতি নিজের দূর্বলতা কখনই প্রকাশ করেনা। কেরানীগঞ্জে যাত্রার আসর শুরুর আগে মেলা কমিটি ও স্থানীয় চেয়ারম্যানের শর্ত দেয় প্রিন্সেস নাচাতে হবে। দল টিকে রাখার তাগিদে চেয়ারম্যানের এ অন্যায় শর্ত মালিক মড়– ঘোষাল এবং কামাক্ষী মেনে নিলেও দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য শাকামাল, নিশি, শঙ্কর, চম্পা সিদ্ধান্তের বিরোধীতা করে। তারা জানায় সুস্থ ধারার যাত্রাপালার বিপরীতে অশ্লীল কুরুচিপূর্ণ নাচের কারণে দর্শকরা খারাপ অভ্যাসের দিকে ধাবিত হচ্ছে যা একদিন যাত্রাশিল্প কালের বিবর্তনে ধ্বংস হয়ে যাবে। কিন্তু মড়– ঘোষাল স্থানীয়দের শর্তের কারণে পরিস্থিতির চাপে পড়ে প্রিন্সেসকে যাত্রাপালা শুরুর আগে নাচাতে বাধ্য হয় এবং তার যাত্রাদলের অভিনয়শিল্পীদের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয় প্রিন্সেসের নাচ ভেদ করে “রাজকন্যা চম্পাবতী” পালা দাঁড় করিয়ে দর্শকদের মন জয় করতে। এমন পরিস্থিতি মোকাবেলায় শাকামাল, নিশি, শঙ্কর এবং চম্পা চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে এবং তারা তাদের অভিনয় নৈপুণ্যতায় দর্শকদের প্রিন্সেসের নাচকে ভুলিয়ে পুরাণ কথার “রাজকন্যা চম্পাবতী” পালা দাঁড় করিয়ে বিমোহিত করে। এরপর হঠাৎ নতুন সমস্যার সৃষ্টি হয়। যাত্রাদলের হিরোইন নিশিকে নিজের বউ দাবি করে এলাকার গজেন্দ্র নামে এক দুশ্চিরিত্র মাতাল লোক। তখন শাকামাল নিশিকে একান্তে প্রশ্ন করে ঘটনা সত্য কিনা? সেই সাথে প্রথমবারের মত সে নিশিকে জানায়, সে নিশিকে ভালবাসে আর তাকে নিয়েই সংসার করতে চায়, একসাথে একটিং করতে চায় যাত্রা করতে চায়। প্রতি উত্তরে নিশি জানায়, একদিন যাত্রাদলে তার অভিনয় দেখেই গজেন্দ্র তাকে ঘরে তুলে নেয় কিন্তু বিয়ের পর তাকে যাত্রা করতে বাঁধা দেয় কেননা সমাজে থেকে যাত্রা করা যায় না এ হলো সমাজ বিরোধী কাজ। অবশেষে নিশি অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে গজেন্দ্রকে ডিভোর্স দিয়ে আবার ফিরে যায় যাত্রাদলে নিজের ভালবাসার মঞ্চে ভাললাগার আসরে। এমন বাস্তব অভিজ্ঞতার কারণে সে শাকামালের প্রস্তাবকে আগ্রাহ্য করে। এসময় গজেন্দ্র এলাকার চেয়ারম্যান ও গুন্ডাপান্ডা নিয়ে আসে নিশিকে ফেরত নেবার জন্য হট্টগোল শুরু করে তখন যাত্রাদলের সকল শিল্পী এমনকি ভিলেন কামাক্ষী এবং প্রিন্সেস দিলরুবাও রুখে দাঁড়ায়। এমন দোটানায় সবার অগোচরে নিশি বিষ খেয়ে আতœহননের পথ বেছে নেয় এবং অন্য ভুবনে যাত্রা শুরু করে।

কাহালু থিয়েটারের ড. সাইদুর রহমান লিপন নির্দেশিত “গ্রন্থিকগণ কহে” নাটকটির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন শাহাজাদ আলী  বাদশা, সিজুল ইসলাম, ফারহা রহমান স্মৃতি, মুনসুর রহমান তানসেন, সাইফুল ইসলাম, সঞ্চয়িতা সরকার বিথী, সায়ন্তিকা সরকার, ফরিদুর রহমান ফরিদ, গোলাম রব্বানী, আব্দুর রশিদ বুলু, আব্দুল হান্নান, আবু বক্কর সিদ্দিক, আব্দুল আজিজ, মুনসুর রহমান সরদার, ইউসূফ আলী, নয়ন কান্তি সরকার এবং খন্দকার শামসুল আকন্দ। আবহ সঙ্গীতে আছেন সুবাস চন্দ্র দাস মিঠু, সেকেন্দার আলী মুন্সী, আব্দুল আজিজ, সিদ্দিকুর রহমান এবং ঐশি রায়। নাটকটি প্রযোজনায় সহযোগিতা করছে কলেজ থিয়েটার, বগুড়া থিয়েটার, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট বগুড়া, বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশান এবং বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটার।

নাটকটি আগামী ২১ সেপ্টেম্বর ভারতের রায়গঞ্জের বিধানমঞ্চে দেবীনগর জাগরী থিয়েটার গ্রুপ এর “জাগরী নাট্য উৎসব- ২০১৯” এ মঞ্চায়িত হবে। নভেম্বরে শিলিগুড়ি দর্পণ নাট্যগোষ্ঠীর নাট্যোৎসবেও আমন্ত্রিত হয়েছে। এছাড়াও কাহালু থিয়েটারের সভাপতি আব্দুল হান্নান জানান, আগামী ১৩ এবং ১৪ সেপ্টেম্বর বগুড়ার কাহালুতে কাহালু থিয়েটারের আয়োজনে দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক নাট্যোৎসব অনুষ্ঠিত হবে এবং গুণীজন সংবর্ধনা প্রদান করা হবে। তাতে এই নাটকটি মঞ্চায়িত হবে এবং ভারতের শিলিগুড়ি দর্পণ নাট্যগোষ্ঠী অংশগ্রহণ করবে।

Comments

comments