সর্বশেষ সংবাদ

সাদুল্যাপুরে ‘ইয়াবাসহ’ আটক ব্যক্তিকে ছেড়ে দিল পুলিশ

জিল্লুর রহমান পলাশ, গাইবান্ধা থেকে :
গাইবান্ধার সাদুল্যাপুরে ‘ইয়াবাসহ’ পুলিশের হাতে আটক বজলুর রশিদ (৪২) নামে এক ব্যক্তিকে ছেড়ে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে।মোটা অংকের অর্থ রফাদফা করে তকে গভীর রাতে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

রবিবার (১৮ আগস্ট) রাত পৌনে ১২টার দিকে সাদুল্যাপুর-নলডাঙ্গা সড়কের জালাদুর মোড় এলাকা থেকে ব্যাটারী চালিত অটো রিকশা থেকে তাকে আটক করে পুলিশ। এদিকে, ইয়াবাসহ আটক বজলুর রশিদকে রফাদফায় ছেড়ে দেয়ার ঘটনা জানাজানি হলে পুলিশের ভুমিকা নিয়ে নানা গুঞ্জণের সৃষ্টি হয়েছে।

ইয়াবাসহ বজলুর রশিদকে আটকের কথা সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) হেলাল স্বীকার করলেও থানার ওসি বলছেন ভিন্ন কথা। আটক বজলুর রশিদ মাদকাসক্ত কিন্তু তার কাছে কিছুই পাওয়া যায়নি, স্থানীয় জনপ্রতিনিধির তদবিরে মুচলেকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেয়ার কথা জানান ওসি।

গোপন খবরে অভিযান চালিয়ে বজলুর রশিদকে আটক করেন থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) হেলাল। আটকের সময় স্থানীয়দের তিনি জানান, বজলুর রশিদের কাছে তিন থেকে চারটি ইয়াবা ট্যাবলেট পাওয়া গেছে। পরে তাকে বহনকারী ব্যাটারী চালিত অটো রিকশা ও চালককে নিয়ে থানায় আসেন তিনি। ইয়াবাসহ আটকের খবর জানতে এএসআই হেলালের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি মুঠফোনে গণমাধ্যমকর্মীদের জানান, আটক বজলুর রশিদের কাছে এক পিচ ইয়াবা পাওয়া গেছে। তবে তাকে ছেড়ে নিতে রাজনৈতিক নেতা ও জনপ্রতিনিধিরা তদবির করছেন। তাই ওসি সাহেব মুচলেকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দিয়েছেন। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে আপনি ওসি স্যারকে ফোন দেয়ার কথা জানান তিনি।

এ বিষয়ে মুঠফোনে সাদুল্যাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরশেদুল হক বলেন, আটক ব্যক্তির কাছে কোন মাদকদ্রব্য পাওয়া যায়নি। তবে কথাবার্তাসহ আটক ব্যক্তি একজন মাদকসক্ত হিসেবে চিহ্নত করা হয়। হয়তো নেশা করেই বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। তাকে ছেড়ে নিতে সুপারিশ করেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। পরে মুচলেকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। তবে তাকে ছেড়ে দিতে অর্থ বাণিজ্যের অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি।

আটক বজলুর রশিদ (৪২) সাদুল্যাপুর উপজেলার দামোদরপুর ইউনিয়নের মধ্য ভাঙ্গামোড় গ্রামের মৃত্যু আছিম উদ্দিন হাজির ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে বজলুর রশিদ সুদ ব্যবসা ও মাদক কারবারির সঙ্গে জড়িত। বজলুর রশিদের বিরুদ্ধে মাদক কারবারির অভিযোগ থাকায় পুলিশ কয়েকবার তাকে আটকের চেস্টা করে। গত এক মাস আগে পুলিশ তার মোটরসাইকেলসহ এক যুবককে ইয়াবাসহ আটক করে। কিন্তু আটক যুবকের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য আইনে মামলা হলেও অজ্ঞাত কারণে মোটরসাইকেল জব্দ কিংবা মামলায় উল্লেখ করা হয়নি। পরবর্তীতে বজলুর রশিদ তদবিরের মাধ্যমে পুলিশের সঙ্গে আতাঁত করে থানা থেকে মোটরসাইকেলটি নিয়ে যায় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

Comments

comments