সর্বশেষ সংবাদ

পবিত্র ঈদ জামাতে ডেঙ্গু থেকে রক্ষার বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত

মির-হোসেন সরকার : আজ পবিত্র ঈদের দিন। ত্যাগ মহিমায় উজ্জ্বল,পবিত্র ঈদুল আজহা। সারা দেশে ঈদ জামাতে মুসলিম উম্মাহ ও বিশ্ববাসীর জন্যে শান্তি কামনা করা হয়। পরে, আল্লাহর নৈকট্য ও সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য পশু কোরবানির মধ্য দিয়ে শুরু হয় ঈদ উদযাপন।

হযরত ইব্রাহিম (আ.) এর আত্মত্যাগ ও অনুপম আদর্শের প্রতীকী নিদর্শন হিসেবে কোরবানির রেওয়াজ। আল্লাহর নির্দেশে প্রাণপ্রিয় পুত্র হযরত ইসমাইল (আ.) কে কোরবানি করতে উদ্যত হয়েছিলেন হযরত ইব্রাহিম। এই অনন্য ঘটনার স্মরণে প্রচলন হয় কোরবানির। ঈদুল আজহার অন্যতম শিক্ষা হচ্ছে মনের পশু অর্থাৎ কুপ্রবৃত্তিকে পরিত্যাগ করা।

রাজধানীসহ সারাদেশে প্রতিদিনই ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। অনেকে মারাও গেছেন। কেউ কেউ আবার ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদ করতে গ্রামেও যেতে পারেননি। অনেক পরিবারের ঈদের খুশি ডেঙ্গুতে ম্লান হয়ে গেছে। মানুষের কাছে এখন এক আতঙ্কের নাম ডেঙ্গু। তাই ডেঙ্গুর প্রকোপ থেকে বাঁচতে ঈদের প্রধান জামাতে বিশেষ দোয়া করা হয়।

সোমবার ঈদের প্রধান জামাত রাজধানীর হাইকোর্টসংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে সকাল ৮টায় অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের জ্যেষ্ঠ ইমাম মাওলানা মুহাম্মদ মিজানুর রহমান। দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ শেষে সমগ্র মুসলিম উম্মাহসহ দেশ ও জাতির কল্যাণ, সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে মোনাজাত হয়।

এসময় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে যারা মারা গেছেন তাদের সবাইকে শাহাদাতের মর্যাদা দিয়ে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করার জন্য মহান আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ জানানো হয়। সেই সঙ্গে সারাদেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগীর রোগমুক্তি কামনা ও ডেঙ্গুর প্রকোপ কমানোর জন্যও দোয়া করা হয়।

ঈদের প্রধান জামাতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হাসান, মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, সংসদ সদস্য, সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিভিন্ন মুসলিম দেশের কূটনীতিক অংশ নিয়েছেন। সেইসঙ্গে অংশ নেন বিভিন্ন শ্রেণি, পেশা ও বয়সের লাখো মুসলমান।

সিটি কর্পোরেশন সূত্র জানিয়েছে, গতবারের মতো এবারও ৯০ হাজার থেকে এক লাখ মুসল্লির জন্য ঈদের নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা করা হয়। এর মধ্যে পাঁচ থেকে ছয় হাজার নারী মুসল্লির জন্য আলাদাভাবে পর্দা দিয়ে নামাজ আদায়ের বিশেষ ব্যবস্থা। নারীদের জন্য আলাদা প্রবেশ পথেরও ব্যবস্থা করা হয়।

গত ২৫ জুলাই থেকে ঈদগাহ ময়দান প্রস্তুতির কাজ শুরু হয়। প্রতিদিন গড়ে ১০০ থেকে ১২০ জন শ্রমিক দিনরাত কাজ করেন। এবার ৪৩ হাজার বাঁশ এবং প্রায় ৩শ’ মণ রশি দিয়ে ঈদগাহ ময়দানের প্যান্ডেল নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করা হয়। ঈদ জামাতকে ঘিরে জাতীয় ঈদগাহ ও জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে ৫ স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

Comments

comments

Leave a Reply