সর্বশেষ সংবাদ

গাইবান্ধায় বাঁধের ৩৭টি পয়েন্ট ধ্বসে বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ কিছুটা স্বস্তি সুন্দরগঞ্জে

জিল্লুর রহমান পলাশ, গাইবান্ধা থেকে :
গাইবান্ধায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের অন্তত ৩৭টি পয়েন্ট ধ্বসে শহর ও নি¤œঞ্চলের ৪২৪টি গ্রামের বির্স্তীণ জনপদে ভয়াবহতা বন্যা পরিস্থিতিতে চরম বিপর্যয় দেখা দেয়। অন্যদিকে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে সঠিক সময়ে মেরামত করায় কোথাও ভেঙে পানি প্রবাহিত হয়নি। ফলে ভয়াবহ বন্যার হাত থেকে বাড়িঘর ও সম্পদ রক্ষায় কিছুটা হলেও স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের পশ্চিম অঞ্চলের মানুষরা।

গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ব্র²পুত্র, তিস্তা, যমুনা, করতোয়া, ঘাঘট, আলাই ও বাঙালী নদ-নদী বেষ্টিত গাইবান্ধা জেলা। সদর, ফুলছড়ি, সাঘাটা, সাদুল্যাপুর ও গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার নদ-নদীর তীর ঘেঁেষ ২৪২.৫৫ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ৩৭টি পয়েন্ট ধ্বসে গেছে। গত ১১ জুলাই থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত উজানের ঢল ও অব্যহত বৃষ্টিপাতে পানির প্রবল চাপে ধ্বসে যায় বাঁধগুলো। এরমধ্যে ফুলছড়িতে ব্র²পুত্র নদের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ১৩টি পয়েন্ট, সদর ও সাদুল্যাপুরের ঘাঘট নদীর শহর রক্ষাসহ ডানতীর ও বামতীর বাঁধের ২১টি পয়েন্ট ও করতোয়া নদীর গোবিন্দগঞ্জে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ৩টি পয়েন্ট ধ্বসে যায়।

একের পর এক বাঁধ ধ্বসে ভয়াবহ বন্যার কবলে জেলার দুটি পৌরসভা ও সাত উপজেলার ৪২৪টি গ্রামের ৫ লাখ ৮৫ হাজার ৩৯৭ জন মানুষ ক্ষতির শিকার। স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয় ৫৯ হাজার ৮৭০টি পরিবারের বাড়িঘর। নষ্ট হয় ১৪ হাজার ২১ হেক্টর জমির বিভিন্ন ফসল। মরে-ভেসে যায় সাড়ে ৬ হাজার পুকুর ও খামারের মাছ। বিধ্বস্ত হয়েছে রেল লাইন, ৬শ’ কি.মি কাঁচা সড়ক, ২৬৬ কি. পাকা সড়কসহ ৩৯টি ব্রিজ-কালভার্ট। বন্যার পানিতে ডুবে ও সাপের কামড়ে শিশুসহ মৃত্যু হয়েছে ১২ জনের।

প্রতি বছরেই বন্যায় গাইবান্ধার দূর্গম চরাঞ্চল ও নি¤œঞ্চলের কমবেশি ৩ লাখ মানুষ ক্ষতির শিকার হয়। কিন্তু বাঁধ ভেঙে এবারের বন্যা যে বিপর্যয় পরিস্থিতির সৃষ্টি করে তাতে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয় গাইবান্ধার মানুষের। এ জন্য অনিয়ম-দুর্নীতিসহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের খাময়েলীপনা এবং গাফিলতিকে দায়ি করছেন সচেতন মহল ও স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, সময় মতো বাঁধ সংস্কার দুরের কথা, জরুরী মুর্হুতে বারবার বলা সত্বেও ভাঙন প্রতিরাধে নেয়া হয়নি পদক্ষেপ। ফলে বাঁধ ধ্বসে বন্যা পরিস্থিতি মানবিক বিপর্যয়ের সৃষ্টি করে। এছাড়া বর্তমানে ধ্বসে যাওয়া বাঁধ রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ড তড়িঘরি করে বালুর বস্তা ফেলে দুই-তিনটি পয়েন্ট কোন রকমে রক্ষা করলেও এখনো অধিকাংশ পয়েন্টে তীব্র ¯্রােতে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এ অবস্থায় বাঁধ রক্ষায় বালু বস্তা ফেলে শুধু সরকারের কোটি কোটি টাকার অপচয় হচ্ছে। অন্যদিকে অনিয়ম-দুর্নীতি আর লুটপাটে ঠিকাদার ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা পকেটভারী করছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

এদিকে, বন্যার এমন ভয়াবহতা থেকে কিছুটা রক্ষা পেয়েছে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ব্র²পুত্র ও তিস্তা নদীর তীর ঘেঁষে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের আশপাশ এলাকার লাখ লাখ মানুষ। বাঁধের ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে তাৎক্ষণিকভাবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের দায়িত্বরত কর্মকর্তা স্থানীয়দের সহায়তায় বালুর বস্তা ফেলে মেরামত করায় ভাঙন রক্ষা হয়।

স্থানীয়রা বলছেন, ব্র²পুত্র ও তিস্তা নদীর তীর ঘেঁষে সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের প্রায় ৩০ কিলোমিটারের মধ্যে প্রায় ৮ কিলোমিটার বাঁঁধ অধিক ঝুঁকিপূর্ণ। উজানের ঢল ও পানির প্রবল চাপেও ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধের কোন পয়েন্ট ধ্বসে বা ভেঙে যায়নি। তবে লালচামার, জয়বাংলা মোড়, ফারাজিপাড়া ও হরিপুরের ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টে পানির প্রবল চাপে ধ্বসের উপক্রম হলে আতষ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু তাৎক্ষণিকভাবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের তৎপরতায় বালুর বস্তা ফেলে মেরামত করায় ভাঙন ঠেকানো সম্ভব হয়। এছাড়া বর্ষার আগ থেকেই বাঁধের ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্ট রক্ষায় জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয়দের চাপ ও দাবির মুখে নজরদারীসহ তৎপর হয়ে উঠেন স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট পানি উন্নয়ন বোর্ডের এ অঞ্চলের দায়িত্বরত কর্মকর্তা। সঠিক সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত পয়েন্টগুলোতে বালুর বস্তা, জিও ব্যাগ ফেলানোসহ পাইলিং করার কারণে কোথাও বাঁধ ধ্বসের ঘটনা ঘটেনি। ফলে ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা ও হাহাহারের পরিবর্তে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেছে শ্রীপুর, কাপাসিয়া, চÐিপুর, হরিপুর, কঞ্চিবাড়ি ও বেলকা ইউনিয়নের বাঁধের তীর (পশ্চিম অঞ্চলের) মানুষরা।

সরেজমিনে চÐিপুর ইউনিয়নের হরিপুর, ফারাজিপাড়া, জয়বাংলা মোড়, উত্তর সীচা ও লালচামার এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, কয়েক যুগের পুরনো বাঁধের কোথাও উচু, কোথাও নিচু। আবার কোথাও প্রশস্ততাও কমে সরু বাঁধে পরিণত হয়েছে। ইদুরের গর্ত, ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্ট এবং মেরামত (বালুর বস্তা ফেলানো) অংশ দেখলেও বোঝা যায় ভয়াবতা। তারপরেও বাঁধের উপর ও দুই ধারে ঘরবাড়ি তৈরী করে বসবাস করছে মানুষরা। এছাড়া বন্যা আক্রান্ত অধিকাংশ মানুষ বাঁধগুলোতে ছাপড়া ও টিনের চালা তুলে আশ্রয় নিয়েছে।

চন্ডিপুরের জয় বাংলা মোড়ের বাঁধের পাশের বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য জহুরুল ইসলাম এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘বাঁধগুলো দীর্ঘদিনের পুরনো। বেহাল অবস্থা আর কতটা ঝুঁকিপূর্ণ তা বাস্তবে দেখলেই বোঝা যায়। প্রতি বছরেই বাঁধ সংস্কার হয়। কিন্তু তা শুধু বর্ষা আর ভাঙনের সময়। শুধু সাময়িক মেরামত নয়, সঠিক রক্ষাণাবেক্ষণ ও শুষ্ক মৌসুমে স্থায়ী সমাধাণে বাঁধ সংস্কার করতে হবে’।

ফজলু মিয়া নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, ‘বাঁধ ধ্বসে বন্যার আতষ্কে স্থানীয়রা রাতদিন সর্তক থেকে বাঁধ পাহাড়া দিয়েছে। জরুরী মর্হুতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টদের দেখভাল ও নজরদারীতে একাধিক জায়গায় বালু বস্তা ফেলে বাঁধের ভাঙন প্রতিরোধ সম্ভব হয়। বাঁধ রক্ষায় সঠিক সময়ে বালু বস্তা ফেলতে না পারলে এ অঞ্চলের মানুষের ব্যাপক ক্ষতি হতো। তবে শুধু বর্ষা আর বন্যার সময় নয়, ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্টদের সবসময় তৎপর থাকার দাবি জানান তিনি’।

লালচামার বাজারের ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘বাজার এলাকার বাঁধের উপর দিয়ে পানি উপড়ে যাওয়াসহ ধ্বসে যাওয়ার উপক্রম হয়। তাৎক্ষণিক বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অবগত করা হলে তারা দ্রæত বালুর ফেলে মেরামত শুরু করেন। এতে ধ্বসের কবল থেকে বাঁধটি রক্ষা হয়। তবে বর্তমানে রক্ষা পেলেও এখনো বর্ষা শেষ হয়নি। পানি বৃদ্দির কারণে আবারও বন্যার সম্ভবনা রয়েছে। তবে এবার বাঁধের ঝুঁকিপূর্ণ ও বালুর বস্তা ফেলানো পয়েন্টগুলো রক্ষা কঠিন হবে। তাই বাঁধগুলো মেরামতের পাশাপাশি এখনেই স্থায়ী টেকসই সংস্কারে উদ্যোগ নিতে হবে’।

চÐিপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৬ নং ওয়ার্ড সদস্য (মেম্বার) রঞ্জু মিয়া বলেন, ‘সুন্দরগঞ্জের অধিকাংশ বাঁধেই ঝুঁকিপূর্ণ। তবে ভাঙন ঠেকাতে প্রস্তুত ছিলো পানি উন্নয়ন বোর্ডের লোকজন। ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধের অন্তত ২০টি পয়েন্ট মেরামতের কারণে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে লাখ লাখ মানুষ। বর্ষা ও বন্যা শেষ না হওয়া পর্যন্ত বাঁধের ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টে জরুরী মেরামত কাজ চলমান রাখতে পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঠিক দায়িত্ব ও আন্তরিক ভূমিকা পালনের দাবি জানান তিনি’।

এ বিষয়ে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বাঁধ রক্ষায় দায়িত্বরত পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী এ, টি, এম মোনায়েম হোসেন বলেন, ‘নৈতিকতা ও দায়িত্বে বাঁধ রক্ষায় দিনরাত সার্বক্ষণিক তদারিক করেছি। স্থানীয়দের সহযোগিতায় বাঁধের ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে বালুর বস্তা, জিও ব্যাগ ও পাইলিং করে মেরামতের ফলে ভাঙন রোধ সম্ভব হয়েছে। আশা করছি, আপাততে বর্ষা মৌসুমে বাঁধ ভাঙনের বিপর্যয়ের মুখে পড়বেনা মানুষ। সুন্দরগঞ্জ উপজেলার পুরো বাঁধটি স্থায়ী সংস্কারের জন্য জরিপ কাজ সম্পন্ন করে একটি প্রকল্প অনুমোদনের জন্য প্রস্তবনা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাবনাটি অনুমোদন হলে দ্রæত কাজ শুরু হবে। এতে ক্ষয়ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পাবে এলাকার মানুষ’।

গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের এমপি ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, ‘বাঁধ রক্ষায় স্থানীয় প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সর্বদাই সর্তক ছিলো। সকলের আন্তরিক চেষ্টায় বাঁধ ধ্বসে ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ঝুঁকিপূর্ণ ও আর জোড়াতালির বাঁধ রক্ষায় স্থায়ী পদক্ষেপ গ্রহণে মন্ত্রণালয়সহ সংসদেও বারবার দাবি জানানো হয়। মানুষের জানমাল-সম্পদ রক্ষায় নদী শাসন ও ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধের স্থায়ী সংস্কার এবং টেকসই-স্থায়ীত্ব বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা দ্রæত বাস্তবায়ণ করা হবে’।

অনিয়ম-দুর্নীতি ও গাফিলতির অভিযোগ অস্বীকার করে গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ববধায়ক প্রকৌশলী হারুন অর রশিদ বলেন, ‘বরাদ্দের অভাবে স্থায়ীভাবে বাঁধ মেরামত করা হয়নি। তারপর প্রতিবছর বন্যা ও নদী ভাঙন এবং নাব্য সংকটে বাঁধগুলো রক্ষা অনেকটা কঠিন হয়ে পড়ে। তারপরেও ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধের পয়েন্টগুলোতে অপতকালীন পদক্ষেপে বালুর বস্তা, জিও ব্যাগ, পাইলিং করে ভাঙন রোধে মেরামত করা হয়। এছাড়া প্রতি বছরেই বাঁধের অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ও হুমকির মুখে থাকা এলাকা চিহ্নিত করাসহ তীর রক্ষা প্রকল্পের আওতায় কাজ করা হয়। তবে বাঁধগুলোর স্থায়ী সংষ্কারসহ বেশ কিছু পরিকল্পনা দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। সেগুলোর অনুমোদন হলে বাঁধগুলোতে ঝুঁকিমুক্ত করা সম্ভব হবে। বর্ষা মৌসুম শেষে নতুন করে কিছু পরিকল্পনা ও প্রস্তাবনা তৈরী করে আবারও পাঠানো হবে’।

গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান বলেন, ‘উজানের ঢল ও প্রবল গতিতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ৩৭টি পয়েন্ট ধ্বসে গেছে। ধ্বসে যাওয়া জায়গুলোতে বালুর বস্তা ফেলে মেরামতের কাজ চলমান রয়েছে। দীর্ঘদিনের পুরনো বাঁধগুলো ইতোপূর্বে কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা) কর্মসূচির আওতায় মেরামত করা হয়। কিন্তু ২০০৭-২০০৮ অর্থ বছর থেকে কাবিখা কর্মসূচি বন্ধ হয়। ফলে বাঁগুলোর অবস্থা ক্রমেই বেহাল ও আর ঝূঁকিপূর্ণ হয়ে উঠে। এরপর থেকে বাঁধগুলো সংস্কার হলেও অধিকাংশ বাঁধ ছিল ঝুঁকিপূর্ণ। তবে গত ১৯ জুলাই গাইবান্ধার বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শনে এসে জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির বিশেষ সভায় গাইবান্ধা শহর রক্ষাসহ বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ সংস্কারে ২৫০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদনের কথা জানায় পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী একেএম এনামুল হক শামীম। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে বন্যা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা অনেকটাই জোরদার হবে বলে আশা করা হচ্ছে’।

গাইবান্ধায় ব্র²পুত্র, তিস্তা, যমুনা, ঘাঘট ও করতোয়া নদীর তীর ঘেঁষে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ রয়েছে ২৭৮ কিলোমিটার। সাঘাটা থেকে ফুলছড়ি হয়ে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা পর্যন্ত ব্র²পুত্র, তিস্তা ও যমুনা নদীর তীরে বাঁধ নির্মাণ করা হয় ১৯৬২ সালে। আর ঘাঘট নদীর গাইবান্ধা শহর থেকে সাদুল্যাপুর ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামনডাঙ্গা পর্যন্ত বন্যা নিয়ন্ত্রণ ডানতীর ও বাম তীর বাঁধ নির্মাণ কাজ ১৯৯০ সালে শুরু হয়ে শেষ হয় ২০০০-২০০১ অর্থবছরে। এরপর থেকে বাঁধগুলোর বরাদ্দ না থাকায় স্থায়ীভাবে কোন মেরামত হয়নি। তবে প্রতি বছর বাঁধের ঝুঁকিপূর্ণ জায়গুলো সংস্কার হয় শুধু বর্ষা আর ভাঙনের সময়ে। তাই বন্যার হাত থেকে জানমাল ও সম্পদ রক্ষায় জেলার বন্যা নিয়ন্ত্রণ সকল বাঁধের স্থায়ী মেরামতসহ নতুন পরিকল্পনা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন গাইবান্ধাবাসী।

Comments

comments