সর্বশেষ সংবাদ

নওগাঁর আত্রাই নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে আবারও বন্যা

ইখতিয়ার উদ্দীন আজাদ, নওগাঁ থেকে:
নওগাঁর আত্রাই নদীর পানি আবারও বাড়ছে। গত ২৪ ঘন্টায় এ নদীর পানি বেড়ে মান্দায় জোতবাজার পয়েন্টে এখন বিপদসীমার ৩০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এদিকে বুধবার সন্ধ্যা থেকে কশব ইউনিয়নের চকবালু এলাকার ভাঙন স্থান দিয়ে হু-হু করে পানি প্রবেশ করছে। উজান থেকে নেমে পাহাড়ী ঢলের পানিতে নতুন করে বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছে তিনটি ইউনিয়নের বেশ কিছু গ্রাম।

স্থানীয়রা জানান, এর আগে নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় গত ১৬ জুলাই বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের শহরবাড়ি ভাঙ্গীপাড়া এলাকায় বেড়িবাঁধ ভেঙে যায়। এছাড়া ২০১৭ সালের বন্যায় এ ইউনিয়নের চকরামপুর ও কয়লাবাড়ি এলাকায় ভাঙনকৃত বেড়িবাঁধ মেরামত করা হয়নি। নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় এসব ভাঙনস্থান দিয়ে ইতোমধ্যে পানি প্রবেশ করায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছে মানুষ। অন্যদিকে কশব ইউনিয়নের চকবালু নামকস্থানে বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধের ভাঙনস্থান দিয়ে পানি প্রবেশ করছে। এতে করে কশব ইউনিয়নের বনকুড়া ও চকবালু, নুরুল্লাবাদ ইউনিয়নের চকহরি নারায়ন এবং বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের ভরট্ট শিবনগরসহ বেশ কয়েকটি গ্রাম আবারও প্লাবিত হয়েছে।

নওগাঁ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুধাংশু কুমার সরকার জানান, আত্রাই নদীর ডান তীরে ভেঙে যাওয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধটি বাধার জন্য সকল প্রকার প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। কিন্তু হঠাৎ করে নদীর পানি বৃদ্ধি পেতে থাকায় বুধবার সন্ধ্যা থেকে ভাঙন স্থান দিয়ে গ্রামগুলোতে পানি প্রবেশ করছে। এতে করে বিলম্বিত হয়ে পড়বে বাঁধ মেরামত কাজ। ভাঙন স্থান দিয়ে নতুন করে পানি প্রবেশ করায় মাটি ভরাটের কাজ বন্ধ রয়েছে। তবে, বাঁশের পাইলিংসহ অন্যান্য কাজ চলছে। বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ভাঙন স্থানে মাটি ভরাটের কাজ শুরু করা হবে। এ কাজে অন্তত ৩৬ থেকে ৩৭ লাখ টাকা ব্যয় হতে পারে।

উল্লেখ্য, পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় আত্রাই ও ফর্কিণী নদীর উভয় তীরে অন্তত: ২০টি পয়েন্ট ঝুকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। এর মধ্যে গত ১৬ জুলাই রাতে আত্রাই নদীর ডানতীরের বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধের চকবালু নামকস্থানে ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়।

Comments

comments