সর্বশেষ সংবাদ

সাদুল্যাপুরে ইউএনও’র মোবাইল নম্বর ক্লোন করে প্রতারণা

জিল্লুর রহমান পলাশ, গাইবান্ধা থেকে:
গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) ব্যবহ্নত সরকারী মোবাইল নম্বরটি ক্লোন (হ্যাক্) করার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (৮ জুলাই) দুপুর থেকে মোবাইল নম্বরটি ক্লোন করে একটি প্রতারক চক্র। নাম্বারটি ক্লোনের পর থেকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিকে ফোন করে টাকা হাতিয়ে নেয়াসহ বিভিন্ন ধরণের বিভ্রান্ত ছড়ানোর চেষ্টা করছে প্রতারক চক্রের সদস্যরা। তবে এ বিষয়ে সর্ব সাধারণকে সর্তক থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে। প্রতারণার ফাঁদে পা না দিতে ফেসবুক পেজেও সচেতনতা বাড়াতে পোস্ট দেয়া হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সাদুল্যাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. নবীনেওয়াজ বলেন, ‘রবিবার দুপুর থেকে হঠাৎ সরকারী ব্যবহ্নত মোবাইল নম্বরটি (০১৭৬২৬৯৫০৭৪) ক্লোন (হ্যাক্) করার ঘটনা ঘটে। ক্লোন করা নাম্বর দিয়ে একটি প্রতারক চক্র মাধ্যমিক ও প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা, শিক্ষক ও জনপ্রতিনিধিদের কাছে সরকারী বরাদ্দ দেয়াসহ বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে টাকা দাবি করে। তবে প্রতারক চক্রের ফাঁদে পড়ে শিক্ষক সমিতির এক নেতা ৭ হাজার টাকা বিকাশে পাঠিয়ে প্রতারিত হয়েছেন। এছাড়া শিক্ষা উপকরণ ও বিভিন্ন সরকারী বরাদ্দ দেয়ার জন্য খরচ হিসেবে বিভিন্নজনের কাছে বিকাশে টাকা দাবি করে প্রতারকরা। তবে সতর্ক ও সচেতন হওয়ায় আর কেউ প্রতারিত হয়নি’।

তিনি আরও বলেন, ‘মোবাইল ফোন নাম্বার ক্লোনের বিষয়টি নিয়ে সর্ব সাধারণকে সর্তক থাকার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। এছাড়া ফেসবুক আইডিসহ ইউএনও সাদুল্যাপুর পেজেও সকলকে সচেতন থাকার আহবান জানানো হয়েছে। ক্লোনের বিষয়টি ও বিকাশে টাকা হাতিয়ে নেয়ার ঘটনাটি পুলিশে অবগত করা হয়েছে। প্রতারক চক্রটি সনাক্ত ও এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনী ব্যবস্থা নেয়ার জন্য ওসিকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে’।

এ বিষয়ে সাদুল্যাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো আরশেদুল হক মুঠফোনে বলেন, ‘বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নাম্বার ক্লোন ও বিকাশে টাকা হাতিয়ে নেয়ার সঙ্গে জড়িতদের সনাক্ত করে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। ইতোমধ্যে তাদের দুইজনকে সনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। তবে তাদের সম্পর্কে আরও তথ্য-উপাপ্ত যাচাই করা হচ্ছে।

এরআগে, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) উত্তম কুমার রায়ের ব্যবহ্নত সরকারী নাম্বরটি (০১৭৬২৬৯৫০৭১) ক্লোন করে একটি প্রতারক চক্র। পরে নাম্বারটি ব্যবহার করে শিক্ষক, সরকারী কর্মকর্তাসহ বিভিন্নজনের কাছে টাকা দাবি করা হয়। তবে সচেতনতার কারণে কেউ টাকা দিয়ে প্রতারিত হয়নি।

Comments

comments