সর্বশেষ সংবাদ

পলাশবাড়ীতে ২ যুগের পুরনো চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দেয়ার অভিযোগ

আরিফ উদ্দিন, স্টাফ রিপোর্টার, গাইবান্ধা থেকে: গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে জমি-জমাসহ পারিবারিক অভ্যন্তরিন পূর্ব শত্রæতার জের ধরে কলেজ শিক্ষক অরবিন্দ চন্দ্রের বিরুদ্ধে ২ যুগের পুরনো চলাচলের একটি রাস্তা গাছ রোপন ও খুঁটি পুঁতে বন্ধ করে দেয়ার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। একমাত্র রাস্তাটি বন্ধ হওয়ায় গত আটদিন ধরে ১০-১২টি পরিবারকে দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে। সুষ্ঠু নিরসনে বিষযটির ব্যাপারে থানায় অভিযোগ করা হয়েছে।

সরেজমিন ভুক্তভোগীরা জানান গত ১ জুলাই এ ব্যাপারে পলাশবাড়ী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করা হলেও বিষয়টি সমাধানে এখনো কোনও উদ্যোগ গ্রহন করা হয়নি। উল্টো রাস্তা বন্ধে অভিযুক্ত অরবিন্দু চন্দ্র ও তার লোকজন ভূক্তভোগিদের একের পর এক বিভিন্ন হুমকি অব্যাহত রেখেছেন।

অভিযোগে জানা যায়, উপজেলার কিশোরগাড়ী ইউনিয়নের রাঙ্গামাটি প্রামের প্রয়াত কিনু রাম চন্দ্রের ছেলে সুবল চন্দ্র গংদের সাথে প্রতিবেশী প্রয়াত অর্জুন চন্দ্রের ছেলে পলাশবাড়ী এমএ সামাদ কারিগরি ও বিজ্ঞান কলেজের শিক্ষক অরবিন্দু চন্দ্র গংদের জমি-জমাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এরই জের ধরে গত ১ জুলাই সকালে শিক্ষক অরবিন্দুর নেতৃত্বে তার ভাড়াটিয়া লোকজন চলাচলের একমাত্র ওই রাস্তাটি বিভিন্ন গাছ রোপন, খুঁটি ও বেড়া দিয়ে বন্ধ করে দেন। ভূক্তভোগি সুবল চন্দ্র গং’রা বাধা প্রদান করলে সংঘবদ্ধ অরবিন্দু গং’রা সুবল গংদের ওপর অতর্কিত নগ্ন হামলা করে।
এতে সুবলসহ তার পরিবারের সদস্যসহ ভূক্তভোগিদের বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়। এসময় প্রভাবশালী শিক্ষক অরবিন্দু গং’রা আহতদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিতে বাধা দিয়ে তাদের অবরুদ্ধ করে রাখে।

খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আহতদের উদ্ধার করে পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। এসময় আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়। সুবল চন্দ্র বলেন, ২ যুগের পুরনো এই রাস্তাটি দিয়ে এলাকার ১০-১২টি পরিবারের লোকজন ছাড়াও বহিরাগত পথচারিরা যাতায়াত করে থাকেন।

কিন্তু আকস্মিক অরবিন্দু পরিবার রাস্তাটি বন্ধ করে দেয়। অবরুদ্ধ হয়ে গত আট দিন ধরে দুর্ভোগের শিকার ওই পরিবার গুলো চরম বিপাকে পড়েছেন। চলতি বর্ষা মৌসুমে জীবন বিপন্ন করে বিকল্প রাস্তা হিসেবে আশেপাশের জলমগ্ন বিভিন্ন ফসলী জমির মধ্যদিয়ে কিংবা আইল দিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। বর্ষার এ মৌসুমে সাপসহ নানা বিষাক্ত পোকামাকড়ের ভয়ে পরিবার গুলো ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছেন। এমন ভয়াবহ পরিস্থিতিতে একান্ত জরুরি প্রয়োজন ছাড়া পরিবার গুলো ঘরের বাইরে বেরুচ্ছেন না। ছেলে-মেয়েরাও তাদের স্কুল-কলেজ যাওয়া প্রায় বন্ধ করে দিয়েছেন।

প্রায় অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায় বাড়ীর বাইরে প্রাত্যহিক বিভিন্ন কাজকর্ম ছাড়াও নিত্য প্রয়োজনীয় জরুরি কাজ সম্পাদন করতে পারছেন না। রাস্তা বন্ধের অমানবিক এ ঘটনার সুষ্ঠু প্রতিকার চেয়ে ঘটনার দিনই এ ব্যাপারে পলাশবাড়ী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত প্রশাসনিক কোন হস্তক্ষেপ না করায় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টির এখনো কোন সুরহা মেলেনি বলে জানা গেছে।
এদিকে, বিষয়টি সম্পর্কে জানতে ঘটনাস্থলসহ অভিযুক্ত প্রতিপক্ষ শিক্ষক অরবিন্দু চন্দ্রের বাড়িতে গিয়েও তার দেখা মেলেনি। ফলে এ ব্যাপারে তাদের পক্ষ থেকে তেমন কিছু জানা না গেলেও বাড়িতে থাকা তার পরিবারের বেশ কয়েকজন মহিলার সাথে এ বিষয়ে কথা বললে তারা রাস্তাটি দখলের অভিযোগ মিথ্যা বলে অস্বীকার করেন। রাস্তায় ব্যবহৃত ওই জমি আইনগত ভাবে তাদের পরিবােেরর। ফলে তাদের জমিতে তারা গাছ রোপন করেছেন। গাছ রক্ষা করতে বেড়া দিয়েছেন। কোন রাস্তা বন্ধ করেননি বলে তারা জানান। গাছ রোপন করার মধ্যদিয়ে জমিটি তারা দখলে নিয়েছেন।

অপরদিকে, পলাশবাড়ী থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসার ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক (ওসি তদন্ত) মো. মতিউর রহমানের সাথে এ ব্যাপারে কথা হলে তিনি জানান অভিযোগের সত্যতা যাচাই-বাছাই, রাস্তা বা জমি-জমির কাগজপত্রাদির দালিলিক ভিত্তিসহ সবকিছু মিলিয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
এছাড়া পক্ষ-প্রতিপক্ষ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে বিষয়টির সুষ্ঠু সুরহা বা সমাধানের চেষ্টা চলমান বলে তিনি জানান।

Comments

comments