সর্বশেষ সংবাদ

স্মৃতির অনুবাদে সংবাদকর্মীর প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি

অতি সাধারণ জীবন আমার। তিন দশকের চলমান জীবণের দেড় যুগ কেটে গেছে সখের সাংবাদিকতায়। উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ সম্ভব হয়নি, ব্যস্ততার সঙ্গে অনেক প্রতিবন্ধকতা থাকলেও মার্স্টাসের (রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও আইন) সার্টিফিকেট বুক সেলের ফাইলের ভিতরেই পড়ে আছে। সেই ৯৯ সালে গণমাধ্যমে জড়াই নিজেকে। কাজ করেছি দৈনিক, সাপ্তাহিক, পাক্ষিক, স্থানীয়, অঞ্চলিক আর জাতীয় পত্রিকায়। গ্রামে বেড়ে উঠা আমার সাংবাদিকতা উপজেলা কেন্দ্রিক।
সাংবাদিকতা যে পেশা, নেশা হবে তাও ভাবিনি কখনো। কেন, কি কারণে ঠিক সাংবাদিকতার সখ মাথায় চেপে ধরেছিলো তা আজও খুঁজে পাইনা। কিশোর, তরুণ বয়সের সোনালী দিনগুলো আর দশটা ছেলের মতোই কাটার কথা ছিলো। কিন্তু সেই দিনগুলো কেটেছে গল্প, কবিতা লিখে, আবেগে কি কি লিখতাম, তার কোন সংরক্ষণ নেই। তবে দৈন্যদিনের ঘটে যাওয়া ঘটনা, দেখা, জানা, সমস্যা, সম্ভাবনা নিয়ে যা লিখেছিলাম (প্রকাশিত) পত্রিকাগুলো সংরক্ষণের চেস্টা করেছি। ঘরের বুক সেলে যত্নে আজও সংরক্ষণ আছে সেই পত্রিকাগুলো।
২০০৯ সাল, মাথায় বিড়বিড় করে ডিজিটাল যুগের অনলাইন সাংবাদিক হওয়ার। দুই-তিন বছর ডজন-ডজন ডটকম/ডটবেশি নামবেনামের পোর্টালে কাজ করেছি। এই সময়টা নিজেকে আর উপজেলা পর্যায়ে রাখতে পারেনি। প্লান, পরিকল্পনা, ইচ্ছে, সাহস, শক্তিতেই ২০১১ সালে দৈনিক যায়যায়দিনে শুরু জেলা সাংবাদিকতার। ২০১৩ সালে চ্যালেঞ্জ নিলাম দ্য রিপোর্ট টুয়েন্টিফোর ডটকমে। এক বছর কাজ করে মুল্যায়ন পেলাম সেরা প্রতিনিধির। এ অর্জনে নিজেকে আর ধরে রাখতে পারিনি। ছুটে চলা আর কাজ পাগল হয়ে পরিশ্রম বাড়িয়ে দিলাম। নাওয়া, খাওয়া ভুলে দিনরাত ধ্যান-জ্ঞানে শুধুই সাংবাদিকতা। সাংবাদিকতাই যখন করছি/করবো, তাই পত্রিকা, অনলাইনের সঙ্গে টেলিভিশনেও কাজ করতে হবে।
চিন্তা, ভাবনা, চেষ্টার অল্প সময়ের মধ্যে সুযোগ হয়েছি দুই টেলিভিশনে কাজের। কিন্তু করিনি, প্রতিষ্ঠিত যেমন তেমনি হবে জনপ্রীয়, কাজ করলে শিখতে/জানতে পারবো, আর কাজ ও শ্রম অনুযায়ী অন্তত চলার মতো সুযোগ-সুবিধা পাবো এমন টেলিভিশনেই কাজ করবো। হয়তো সেই যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা, দক্ষতা আমার ছিলোনা। একেবারে নতুন মানুষ তারপরেও আমার ইচ্ছে পুরণ হয়েছে। সুযোগ পেলাম যমুনা টেলিভিশনে। টেলিভিশন সাংবাদিকতার আজ তিন বছর চলছে। যমুনা টেলিভিশন পরিবার, আমার পরিবার, সহকর্মী আর শুভাকাঙ্খির প্রতি কৃতজ্ঞ আমি।
এরমধ্যে ২০১১ তে বিয়ে করে সংসার শুরু করি। মধ্যবিত্ত পরিবারে বাবা-মার একমাত্র সন্তান আমি, আদর, ভালোবাসার কমতি পাইনি কখনো, যখন যা চাইছি তাই পেয়েছি, আজও পাই। পারিবারিক সাপোর্ট ছিলো, বিশেষ করে টাকা। আজও পরিবারের সাপোর্ট, টাকায় চলছি। সাংবাদিকতা জীবনে ফিতা কাটা প্রোগ্রাম আজও করিনা, অনৈতিক কিছু কল্পনার মধ্যেও নেই। যায়যায়দিনে উপজেলা প্রতিনিধির মাসিক সম্মানি ১ হাজার টাকা পেতাম। সাংবাদিকতা জীবনের প্রথম সম্মানি ছিল ১ হাজার টাকা। জেলা প্রতিনিধি নিয়োগ পত্রে মাসিক সম্মানি/সেলারি হয় ৩৬৮০ টাকা। তবে এই সেলারি আজও অনিয়মিত। দ্যা রিপোর্টে মাসিক সম্মানি/সেলারি প্রথম এক বছরে পাই ২৫০০ টাকা। পরবর্তীতে ইনক্রিমেন্টে দাঁড়ায় সাড়ে ৪ হাজার টাকা।
দ্য রিপোর্ট ছেড়ে দিয়ে কাজ করি জাগো নিউজে। তিন-চার মাস কাজ করে যোগদেই বাংলা ট্রিবিউনে। দেশের অনলাইন নিউজ পোর্টালগুলোর মধ্যে জেলা প্রতিনিধিদের সর্ব্বোচ মাসিক সেলারি দেয় বাংলা ট্রিবিউন। শুরুতে মাসিক যা পেতাম তা এক বছরের মধ্যে বেড়ে যায়। দ্য রিপোর্টের সর্বশেষ সেলারি যা পেতাম বর্তমানে  তার দিগুন পাই বাংলা ট্রিবিউন থেকে। আর বাংলা ট্রিবিউনের চেয়েও বেশি পাই যমুনা টেলিভিশন থেকে। সবমিলেই কুড়ি হাজার,,, এই টাকা দিয়ে আর বাবা-মার কাছে হাত পেতে,,, চেয়ে নিয়েই চলে দিন, মাস, বছর। পূঁজি, সম্পদ কিছুই নেই, আছে ধারদেনা আর বাকি-বকেয়া কিছু। তবে সুখ, বিলাসিতা না করতে পারলেও অশান্তি নেই।
প্রিয়জন, স্বজনদের কিছু অভিযোগ আছে, তারা অনেকটাই ক্ষুদ্ধ আমার প্রতি। কোন দায়িত্ব নেই আমার, সংসারের কিছুই খোঁজ রাখিনা। বাবার পৈত্রিক ও ক্রয় করা সম্পদ কতটুকু জানিনা, কোন জমি কোন মাঠে তা চিনিনা,  গ্রামের বাড়ি, পুকুর, বাঁশ, গাছ এবং জমিগুলো কে চাষাবাদ করে তাও ঠিক জানিনা। এসব নিয়ে কেন আমি সিরিয়াস নই তাও ভাবিনা আজও। গ্রামের অনেক জমি নাকি ভাগিদের অনেকে চাষাবাদসহ ভোগদখল করছেন। স্ত্রী, মা-বাবা, বোনরা সবাই মাঝে মাঝে আমাকে বকাঝকা করে।
ছোট থেকে জীবনের আজ পর্যন্ত প্রতি মুর্হুতেই সংগ্রাম করেছি, পদে পদে দিতে হয়েছে পরীক্ষা, মহাপরীক্ষা। সবক্ষেত্রেই প্রতিযোগিতা করতে হয়েছে- একাধিক প্রতিদ্বন্দ্বি, অনেক বাঁধা, হুমকি-ধামকি, চাপ ছিল অসংখ্য। সৃষ্টিকর্তা সহায় আর আমার প্রতি অনেকের ভালোবাসা আছে বলেই জয়-অর্জনের পাল্লাই ভাড়ি। জয়-পরাজয়সহ নানা কারণেই ব্যক্তি-মহলের সঙ্গে আছে হিংসা-প্রতিহিংসা। কারণ না থাকলেও প্যাচগোচ, পরিস্থিতিতে হয়তো আমাকে সহ্য করেন না কেউ কেউ। হয়তো কারো কারো কাছে শত্রুও হয়ে গেছি। তবে আমার দিক থেকে এসবের কিছুই নেই, কখনো ভাবিনাও এসব, তেমন কোন অভিযোগ নেই কারো প্রতি। যে যা বোঝে, যে যা ভাবে আর যে যাই করে করুন,,, আপনেই ভাবি তাদের। এই মানুষগুলোর কারণেও এত দুরে এসেছি।
সাদামাটা, সরল, সোজা এই জীবনে নিজেকে আজও নিয়ন্ত্রণে রেখেছি। ভয় পাই, বমি আসে কেউ অভিযোগ তুললে, সে কারণেই অনেকটা চুপচাপ করে চলি আজও। কোন দল, গ্রুপে নাই, সংগঠন, নেতৃত্বে নেই, কারো প্রতি ভরসা নয়, নিজেই চলি, কাজ করি, চেষ্টা করি ভালো থাকার, ভালো রাখার। অতি সাধারণ হয়ে, ততোধিক পর্যবেক্ষণেই বাঁচতে চাই।।।।
(((জীবনের সময়টাই যেনো বড় তাড়ার,,, ক্ষুদ্র জীবনের অনেক কথা, অনেক গল্প আছে, আছে প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির হিসেব-নিকেশ,,,, তবে নিজেকে নিয়েই বা ভাবার সময় কই, নিজেকেই যেন ভালোবাসি না এখন,,, তারপরেও হঠাৎ করেই জীবনের সেই কথা, গল্প থেকেই কিছু লিখলাম, নিজের কথা, নিজের মুল্যায়ন, নিজের অর্জন, নিজেই নিয়ে চলে যাবো একদিন)))
(লেখক : জিল্লুর রহমান পলাশ, গাইবান্ধা প্রতিনিধি যমুনা টেলিভিশন, দৈনিক যায়যায়দিন ও বাংলা ট্রিবিউন)

Comments

comments