সর্বশেষ সংবাদ

ধামইরহাটে ১০ বছর বিনা বেতনে বন পাহারা দিচ্ছে ওরা ২৪ জন

মো.হারুন আল রশীদ, ধামইরহাট (নওগাঁ) প্রতিনিধি:
নওগাঁর ধামইরহাটে সংরক্ষিত শালবন বেষ্টিত আলতাদিঘী জাতীয় উদ্যান এলাকায় দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর ধরে বিনা বেতনে শালবন ও জাতীয় উদ্যান পাহারা দিয়ে যাচ্ছেন ১২ গ্রামের ২৪ জন দরিদ্র পরিবারের মানুষ।

সরে জমিনে জানা গেছে, ২০০৯ সালে জীববৈচিত্র নিয়ে কাজ করে আরন্যক ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা পদক্ষেপ এর মাধ্যমে ১২টি সমিতির ৬জন মহিলাসহ ২৪ জনকে শালবন ও আলতাদিঘী দেখাশুনার জন্য সম্পৃক্ত করেন। ২০১২ সাল পর্যন্ত কার্যক্রম চালিয়ে যায় পদক্ষেপ। পরবর্তীতে এ প্রকল্পের মেয়াদ আর বৃদ্ধি হয়নি। ইতিমধ্যে ২০১১ সালে আলতাদিঘী শালবনকে জাতীয় উদ্যান ঘোষণা করে সরকার প্রজ্ঞাপন জারি করে। পদক্ষেপ এনজিও তাদের প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলেও এলাকার স্বার্থে ওই ২৪ জনকে বনের দেখাশুনা, আলতাদিঘীর মাছ গভীর রাতে পাহারা দেওয়া, জাতীয় উদ্যানে আগত পর্যটকদের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা কাজে সহযোগিতা করে আসছিলেন। বন পাহারায় নিয়োজিত কমিউনিটি পেট্রোল গ্রæপ (সিপিজি) বা কমিউনিটি বন পাহারাদল এর সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মো.সাইদুল ইসলাম ও সম্পাদক ফিরোজ বাবু জানান, আলতাদিঘী জাতীয় উদ্যান ঘোষিত হবার পরে ২০১২ সালে কক্সবাজারে বন পাহারায় দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য ‘এক্সপোজার ভিজিট’ কার্যক্রমে ৭ দিনের শিক্ষামুলক প্রশিক্ষণ অংশ গ্রহণ করি। আমাদেরকে ২০১০ সালে আলতাদিঘী শালবনে সফওে আসা তৎকালীন প্রধান বন সংরক্ষক ইউনুছ আলী, রাজশাহী বিভাগীয় বন কর্মকর্তা যথাক্রমে আবুল বাশার মিয়া ও অজিত কুমার রুদ্র উদ্যান এলাকায় কর্ম সংস্থানের আশ্বাস প্রদান করেন। কিন্তু আজ পর্যন্ত কোন বেতন-ভাতা পাইনা,স্থায়ীকরণ হবে এই আশায় আমরা কাজ করে যাচ্ছি।
আলতাদিঘী সহ ব্যবস্থাপনা কমিটি (সিএমসি)’র সভাপতি মুশফিকুর রহমান জানান, জাতীয় উদ্যান ও শালবন এলাকার জয়জয়পুর, মইশড়, মোল্লাপাড়া, আলতাদিঘী, দাদনপুর, খয়েরবাড়ী, অমরপুর, বাখরপুর, শেখায়পুর উত্তর চকযদু (খড়ডাঙ্গা)সহ প্রায় ১২ টি গ্রামের ‘জীব বৈচিত্র সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধার’ নামক ১২টি সমিতির থেকে ২ জন করে মোট ২৪ জনের সমন্বয়ে পিপলস ফোরাম ও বনবিভাগের সমন্বয়ে বন পাহারাদল তৈরী করা হয় এবং তারা অদ্যবধি বিনা পারিশ্রমিকে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।

তবে ২০০৯ সালে আগত আরন্যক ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে বেসরকারী সংস্থা ‘পদক্ষেপ’ ১২টি সমিতিতে প্রায় ১২ লক্ষাধিক টাকা এককালীন (রিভলবিং ফান্ড) প্রদান করেছেন। এছাড়া আরও কোন উন্নয়ন তাদের জন্য কেউই করেনি।
উপজেলা বনবিট কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান বলেন, ২০০৯ সাল থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত ওই ২৪ জনকে তাদের সমিতির মাধ্যমে এনজিও পদক্ষেপ বন পাহারার কাজে সম্পৃক্ত করেছেন এবং পদক্ষেপ এনজিও কিছু অর্থ পাহারা কাজের নিয়োজিত সিপিজি’র সমিতিতে দিয়েছেন। তাদের নিয়মিত পারিশ্রমিক প্রদানের ক্ষেত্রে বনবিভাগের সাথে কোন প্রকার সম্পৃক্ততা নেই।
ধামইরহাট উপজেলার ইতিহাস ও ঐতিহ্য নিয়ে কাজ করে সৃজনশীল ব্যক্তিত্ব ইতিহাসবিদ সাবেক অধ্যক্ষ মো.শহীদুল ইসলাম বলেন, যেহেতু আলতাদিঘী জাতীয় উদ্যান এলাকায় হাজারো পর্যটক, দর্শনার্থীদের আগমন, তাদের সার্বিক নিরাপত্তা, বনের শৃঙ্খলা ও বন দেখাশুনায় তারা ১০ বছর যাবৎ নিয়োজিত আছে। তাদের আর্থিক দিক উন্নয়নের জন্য ওই পরিবারের সদস্যদের ভালভাবে দু,মুঠো ভাত ও মোট কাপড়ের ব্যবস্থা করা হয় জরুরী। বন পাহারায় কর্মরত ২৪ জনকে স্থায়ীকরণ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুনজর কামনা করেন।

এ বিষয়ে রাজশাহী বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আহমেদ নিয়ামুর রহমান জানান, ওই ২৪জন ১০ বছর ধরে কারা জাতীয় উদ্যান ও শালবন দেখার দায়িত্বে আছে কিভাবে আছে? কে তাদের নিয়োগ দিয়েছেন তা আমার জানা নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

Comments

comments