সর্বশেষ সংবাদ

সুন্দরগঞ্জে সারা নাই ভোটারের লড়াই হবে ত্রিমূখী

মোঃ মোজাফ্ফর হোসাইন, সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধিঃ
ঘোষিত তফশীল মোতাবেক ১৮ জুন ভোট গ্রহণ। গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের আর মাত্র ৩ দিন বাকী। কিন্তু ভোটাদের মাঝে নেই কোন ভোটের আমেজ। চারজন চেয়ারম্যানসহ ১৪ জন প্রার্থী তেমন কোন প্রভাব ফেলতে পারেনি ভোটারদের মাঝে। চায়ের দোকানে, রাস্তার মোড়ে এবং দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ভোট নিয়ে নেই কোন মাথা ব্যথা।

১৫টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার পরিসর। এখানে কমপক্ষে সাড়ে ছয় লাখ মানুষের বসবাস। চারজন চেয়ারম্যান, চার জন মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও ছয় জন পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যানসহ মোট ১৪ জন প্রার্থী নির্বাচনে অংশ গ্রহন করছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ফিরে সাধারণ ভোটার ও বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের সাথে আলোচনা করে জানা গেছে, চেয়ারম্যান পদে সরকার দলীয় প্রার্থী আশরাফুল আলম সরকার লেবু (নৌকা), জাপা মনোনিত প্রার্থী আহসান হাবীব খোকন (লাঙল) ও আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী খয়বর হোসেন সরকার মওলার (ঘোড়া) মধ্যে প্রতিদ্ব›িদ্বতা হবে। এছাড়া অপর প্রার্থী গোলাম আহসান হাবীব মাসুদ (মোটর সাইকেল) পারিপাশ্বিক কারণে নির্বাচনে তেমন কোন প্রভাব ফেলতে পারেনি। তবে ৫ম ধাপের এই উপজেলা নির্বাচনে ভোটার ও প্রার্থীর মধ্যে নেই কোন উৎসহ ও উদ্দীপনা।

আওয়ামীলীগ: উপজেলা আওয়ামীলীগ আহবায়ক টিআইএম মকবুল হোসেন প্রামানিকসহ যুগ্ম আহবায়ক রেজাউল আলম রেজা, মেহেদী মোস্তফা মাসুম, আশরাফুল আলম সরকার লেবু, আ’লীগ নেতা জুলফিকার আলী ভুট্টু ও খয়বর হোসেন সরকার মওলা মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। ব্যাপক জল্পনা-কল্পনা শেষে নৌকার কান্ডারি হন আশরাফুল আলম সরকার লেবু। অন্যারা নির্বাচন থেকে সরে দাড়ালেও খয়বর হোসেন সরকার মওলা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছে। সে কারণে আ’লীগ নেতাকর্মীদের মাঝে কিছুটা সমন্বয়ের অভাব দেখা দিয়েছে। আ’লীগ যুগ্ম আহবায়ক সাজেদুল ইসলাম মনে করেন আ’লীগের একটি ভোট ব্যাংক রয়েছে। সেই ভোট ব্যাংকে কাজে লাগিয়ে নৌকা মার্কার বিজয় ছিনিয়ে আনতে গেলে সকল নেতাকর্মীকে হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করতে হবে। আশরাফুল আলম সরকার লেবু ছাত্র রাজনীতি থেকে আ’লীগের সাথে জড়িত। তিনি উপজেলা বেলকা ইউনিয়নের বেলকা গ্রামের আবুল হোসেন সরকারের ছেলে।
জাতীয় পাটি: উপজেলা জাতীয় পাটির সহ-সভাপতি আহসান হাবীব সরকারসহ দুইজন প্রার্থী লাঙলের মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। দলীয় সিদ্ধান্ত মোতাবেক আহসান হাবীব খোকনকে লাঙল মার্কা দেয়া হয়। উপজেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মান্নান মন্ডল বলেন, চলতি বছরে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টি মনোনিত প্রার্থী বিজয়ী হয়েছে। তিনি মনে করেন জাতীয় পার্টির রাজনীতি এখন গোছালো এবং সক্রিয় রয়েছে। সে কারণে উপজেলা পরিষদ নিবার্চনে তেমন কোন বেগ পেতে হবে না। জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী তিনি। আহসান হাবীব খোকন উপজেলার বেলকা ইউনিয়নের বেলকা গ্রামের করিম উদ্দিন সরকারের ছেলে। তিনি বেলকা এমসি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সাবেক বিআরডিবির চেয়ারম্যান।

সবচেয়ে মজার বিষয় হচ্ছে আ’লীগ মনোনিত প্রার্থী আশরাফুল আলম সরকার লেবু ও জাপা মনোনিত প্রার্থী আহসান হাবীব খোকন একই ইউনিয়নের একই ওয়ার্ড়ের বাসিন্দা। তাদের দু’জনের বসতবাড়ির দুরস্ত প্রায় ১০০ গজ। এমনকি একই ভোট কেন্দ্রে ভোট দিবেন এই দুই প্রার্থী।
বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী: উপজেলা আ’লীগ আহবায়ক কমিটির সদস্য খয়বর হোসেন সরকার মওলা। পারিবারিকভাবে তিনি একজন আ’লীগ পরিবারের সদস্য। আ’লীগ আহবায়ক কমিটির সদস্য আব্দুর রশীদ সরকার বলেন, উপজেলা আ’লীগের বেশিভাগ সক্রিয়কর্মী মওলার সাথে নির্বাচনী কাজ করছে। জয়ের ব্যাপারে তিনি আশাবাদী। খয়বর হোসেন সরকার মওলা একজন সরকারি অবসর প্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং একজন শিল্পপতি। তিনি পৌরসভার বামনজল মহল্লার আব্দুল খলিল সরকারের ছেলে।
এছাড়া অপর স্বতন্ত্র প্রার্থী গোলাম আহসান হাবীব মাসুদ সাবেক উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান। তিনি একজন ঠিকাদার। তিনি বেলকা ইউনিয়নের পশ্চিম বেলকা গ্রামের আফতাব উদ্দিন প্রামানিকের ছেলে।
রামজীবন ইউনিয়নের কৃষক জয়নাল মিয়া জানান, ভোট দিয়ে কি হবে। ভোটের সময় ভাল-ভাল কথা বলে, প্রার্থীরা। ভোট বের হয়ে গেলে তাদেরকে আর পাওয়া যায় না। সে জন্য নিয়ত করেছি ভোট দিত যাব না।

নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, ইতিমধ্যে উপজেলার ১১১টি ভোট কেন্দ্রের বিপরীতে ১২১ জন প্রিজাইডিং, ৮৫১ জন সহকারি প্রিজাইডিং ও ১ হাজার ৭১১ জন পোলিং অফিসার ভোট গ্রহণের জন্য নিয়োগ দেয়া হয়েছে। উপজেলার ১৫ ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার মোট ভোট সংখ্যা ৩ লাখ ৩৯ হাজার ২১৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৬৫ হাজার ৩৪১ ও মহিলা ১ লাখ ৭৩ হাজার ৮৭৭ জন। মোট ভোট কেন্দ্র ১১১টি এবং বুথ সংখ্যা ৮১৫ টি।

Comments

comments