সর্বশেষ সংবাদ

গাইবান্ধায় ফিরতি টিকিট পাচ্ছে না মানুষ

রওশন আলম পাপুল, বিশেষ প্রতিবেদক:
ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে ঘরে ফেরা মানুষগুলো ঈদের পর কর্মস্থলসহ দেশের বিভিন্নস্থানে ফেরার জন্য বাসের টিকিট না পেয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। বাসের কাউন্টারগুলোতে আগাম টিকিটের জন্য ধর্না দিয়ে টিকিট না মিললেও কালোবাজারে বেশি দামে ওই বাসেরই টিকিট মিলছে। এমনটা অভিযোগ ভুক্তভোগী টিকিট প্রত্যাশীদের।
গত কয়েকদিন থেকেই ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্নস্থান থেকে মানুষ ঈদ উপলক্ষে নাড়ীর টানে ঘরে ফিরছে। তারা ঈদ উৎসব শেষে পুনরায় যার যার স্থানে ফিরে যাওয়ার উদ্দেশ্যে আগাম বাসের টিকিট পাওয়ার আশায় গাইবান্ধার বাস কাউন্টারগুলোতে ভিড় করতে শুরু করেছেন। কাউন্টারগুলো থেকে বলা হচ্ছে আগামী ১৫ জুন পর্যন্ত সব টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে। তখন টিকিট প্রত্যাশীরা এক পরিবহনের কাউন্টার থেকে আরেক পরিবহনের কাউন্টারে ছোটাছুটি করছে। তারা টিকিট না পেয়ে হয়রানীর শিকার হচ্ছেন। অথচ বেশি টাকায় ওইসব পরিবহনের লোকজন বেশি টাকায় কালোবাজারে টিকিট বিক্রি করছেন। তখন বাধ্য হয়ে দ্বিগুনেরও বেশি টাকা দিয়ে টিকিট কিনছেন টিকিট প্রত্যাশীরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী (২২) বলেন, পরিবারের সকলের সাথে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে এসে তিন দিন থেকে গাইবান্ধার কাউন্টারগুলোতে ঘোরাঘুরি করেও ৮ জুনের টিকিট কিনতে পারিনি। টিকিট কেনা নিয়ে বিপাকে পড়েছি। চাকরিজীবী কামাল হোসেন (৩৭) বলেন, ঢাকায় সামান্য বেতনে একটি কোম্পানীতে চাকরি করি। ঈদের ছুটিতে বাড়ীতে এসেছি। শহরের টিকিট কাউন্টারগুলোতে টিকিট না পেয়ে এক লোককে ধরে ৮৩০ টাকায় একটি টিকিট কিনেছি। আমি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলাম। এই দুই ব্যক্তির মতো অনেকেরই অভিযোগ এরকম।
গাইবান্ধা থেকে ঢাকায় যেতে সিটিং চেয়ার কোচের সরকারি মূল্য ৫২০ টাকা হলেও কালোবাজারে বিক্রি হচ্ছে ৭০০ থেকে ১০০০ টাকা এবং এসি বাসের ভাড়া ১০৫০ টাকা হলেও বিক্রি হচ্ছে ১৫০০ থেকে ২০০০ টাকা। এ বিষয়ে গাইবান্ধা জেলা মটর মালিক সমিতির দপ্তর সম্পাদক আতিকুর রহমান আতিক বলেন, সরকার নির্ধারিত ৫২০ টাকার সাথে কাউন্টারের কর্মচারিদের ঈদ বকশিস হিসেবে অতিরিক্ত ৩০ টাকাসহ ৫৫০ টাকায় টিকিট বিক্রি করা হবে। এর অতিরিক্ত ভাড়া কোন পরিবহনের কাউন্টার থেকে গ্রহন করা হলে তার দায়দায়িত্ব সেই পরিবহনের। মালিক সমিতি থেকে এটা স্পষ্ট করে সবাইকে বলে দেওয়া হয়েছে।

Comments

comments