সর্বশেষ সংবাদ

বিশ্ব আলোকচিত্র দিবস আজ

ফটোগ্রাফি মূলত আন্তর্জাতিক ভাষা। সীমাহীন আকাশ কিংবা গভীর সমুদ্র, গভীর অরণ্য অথবা ব্যস্ত আধুনিক জীবন, চলমান যুদ্ধের ভয়াবহতায় মানুষের আর্তনাদ থেকে শুরু করে সদ্য জন্ম নেয়া নবজাতকের হাসি-প্রায় সবজায়গাতে রয়েছে ফটোগ্রাফারদের বিচরণ। কারণ একমাত্র ফটোগ্রাফই তো পারে সময়কে থামিয়ে দিতে। ফটোগ্রাফ যেনো সময়হীন এক পৃথিবী, যেখানে সময় বলে কিছু নেই। তাই স্মৃতিগুলো যেনো সব সময় রঙিন থাকে সেখানে। সময়কে ধরে রাখতে কে না চায়?
বাংলাদেশে ফটোগ্রাফির আন্দোলন শুরু হয় আলোকচিত্রাচার্য মঞ্জুর আলম বেগের নেতৃত্বে ১৯৬০ সালে। সে সময় তিনি ফটোগ্রাফি শিক্ষাকেন্দ্র বেগার্ট ইনস্টিটিউট অব ফটোগ্রাফি প্রতিষ্ঠা করেন। এই বেগার্টের মাধ্যমেই শুরু হয় বাংলাদেশে পেশাদার ফটোগ্রাফির নতুন সূচনা। এরপর গোলাম কাশেম (ড্যাডি) ১৯৬২ সালে ক্যামেরা রিক্রিয়েশন ক্লাব নামে একটি সাংস্কৃতিক সংগঠন গড়ে তোলেন। গোলাম কাশেমকে ড্যাডি উপাধিতে তাকে ভূষিত করেন মঞ্জুর আলম বেগ। গুণী আলোকচিত্রী গোলাম কাশেম ফটোগ্রাফির উপর রচনা করেন বেশ কিছু বই। এছাড়াও আছেন আমানুল হক, ড. নওয়াজেশ আহমেদ, বিজন সরকার, নাইব উদ্দীন আহমেদ, সাঈদা খানম, আনোয়ার হোসেন, ড. শহীদুল আলমসহ অনেকেই, যারা ফটোগ্রাফির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ফটোগ্রাফিকে নিয়ে গেছেন দৃঢ় অবস্থানে। আসুন জেনে নেই এই মানুষগুলোর সংক্ষিপ্ত পরিচয়।

আমানুল হকঃ মুক্তিযুদ্ধের ছবি ছাড়াও তিনি যে কাজের জন্য বিখ্যাত হয়ে আছেন তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, সত্যজিৎ রায়ের বিভিন্ন চলচ্চিত্রের শুটিং চলাকালীন ছবি।
নাইব উদ্দিন আহমেদঃ নৈসর্গিক সৌন্দর্য এবং একই সাথে মুক্তিযুদ্ধের ছবির জন্য সবার কাছে স্মরণীয় হয়ে আছেন। জয়নুল আবেদিনের সঙ্গে কলকাতার অলিগলি-রাজপথ ঘুরে তেতাল্লিশের মন্বন্তরের ছবি তুলেছেন তিনি।
ড. নওয়াজেশ আহমেদঃ গ্রামীণ জীবনের ছবি তুলে খ্যাতিমান হয়েছেন। ময়মনসিংহ আলোকচিত্রী সংসদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন দীর্ঘদিন। ফটোগ্রাফির উপর তাঁর লেখা বেশকিছু বই প্রকাশিত হয়েছে।
মৃণাল সরকারঃ চট্টগ্রামের ফটোগ্রাফি অন্দোলনে বিশেষ ভূমিকা রেখেছেন মৃণাল সরকার। মানুষের মধ্যকার মানবিক গুণাবলীর দিকটি ফটোগ্রাফির মাধ্যমে তুলে ধরে বেশ প্রশংসনীয় হয়েছিলেন তিনি। ইন্ডিয়ান ইন্টারন্যাশনাল ফটোগ্রাফিক কাউন্সিলের(আইআইপিসি) বাংলাদেশি প্রতিনিধিও ছিলেন মৃণাল সরকার।
সাঈদা খানমঃ তাঁকে বলা হয় এদেশের প্রথম স্বীকৃতিপ্রাপ্ত নারী ফটোগ্রাফার। সাপ্তাহিক বেগমের প্রেস ফটোগ্রাফারও ছিলেন তিনি।
বিজন সরকারঃ এক্সপেরিমেন্টাল এবং ফ্ল্যাশ ফটোগ্রফিতে তাঁর অসাধারণ কিছু কাজ রয়েছে।
রশিদ তালুকদারঃ তিনি ছিলেন বাংলাদেশের প্রেস সাংবাদিকতার প্রবাদ পুরুষ। কর্মজীবনে দৈনিক সংবাদ এবং দৈনিক ইত্তেফাকে কাজ করেছেন। মুক্তিযুদ্ধের বিখ্যাত যত ছবি তাঁর বেশিরভাগই তুলেছিলেন তিনিই।
আনোয়ার হোসেনঃ বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় ফটোগ্রাফার। আলোকচিত্রের উপর দেশে বিদেশে তাঁর প্রচুর বই প্রকাশ পেয়েছে। আন্তর্জাতিক পুরস্কারপ্রাপ্ত এই আলোকচিত্রীর ছবি প্রদর্শিত হয়েছে দেশ ও দেশের বাইরেও।
ড. শহীদুল আলমঃ দৃক আলোকচিত্র গ্রন্থাগার এবং পাঠশালা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আলোকচিত্র আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়েছেন এবং প্রতিবছর ছবিমেলার প্রধান উদ্যোক্তাও তিনি। গুণী এই আলোকচিত্রী আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও জনপ্রিয়।
মোহাম্মদ আলী সেলিমঃ তিনি হলেন ‘ফিয়াপ’-এর (The International Federation of Photographic Art) সর্বোচ্চ সম্মাননা মাস্টার্স অব ফটোগ্রাফি ‘এমফিয়াপ’ প্রাপ্ত বাংলাদেশি আলোকচিত্রী। মূলত পিকটোরিয়াল ল্যান্ডস্কেপ ফটোগ্রাফির জন্য তিনি বিখ্যাত। মোহাম্মদ আলী সেলিম সম্প্রতি ফটোগ্রাফিক সোসাইটি অফ আমেরিকা থেকে ‘গ্র্যান্ড মাস্টার’(জিএমপি) উপাধিতেও ভূষিত হয়েছেন।

নিজের মত প্রকাশের জন্য পৃথিবীর অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও ফটোগ্রাফি একটি শক্তিশালী মাধ্যম। কারণ প্রতিটি ফটোগ্রাফি তো এক একটি গল্প; যার মধ্যে কিছু হয়ে যায় ইতিহাস। সভ্যতা বিকাশে এবং পরিবর্তনে ফটোগ্রাফির অবদান অতুলনীয়। অতীতের সঙ্গে বর্তমানকে পরিচয় করে দেয়ার সেতু হলো ফটোগ্রাফি। সেই মেলবন্ধনের জায়গা থেকে যেসব ফটোগ্রাফারা দায়িত্ব নিয়ে ফটোগ্রাফির শিল্পের প্রচার প্রসার এবং প্রয়োজনীয়তা নিয়ে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন তাদের প্রতি সম্মান রেখেই ১৯ আগস্ট বিশ্বব্যাপী পালিত হচ্ছে বিশ্ব আলোকচিত্র দিবস।

সংগৃহীত

Comments

comments